জীবন যখন যেমন by Nilabho - অধ্যায় ৪

Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-40372-post-3635366.html#pid3635366

Posted on Thu Aug 26 2021 by ddey333 (Profile)

405 words / 2 min read

Parent
তৃপ্তির চাকরিতে ঢোকার মাস খানেক পরে, একদিন ওকে নিজের চেম্বারে ডেকে এনে ডিক্টেশান দিতে দিতে বিজয় বাবু কখনও আলতো করে তার পাছায়, আবার কখনও তার কোমরে হাত রাখতে শুরু করলেন। কোন বাধা না পেয়ে তিনি ধীরে ধীরে আরও এগিয়ে গেলেন। কাজের আছিলায় তৃপ্তিকে একটু বেশী রাত অবধি অফিসে আটকে রেখে, কাজের প্রশংসা করার ছলে তাকে জড়িয়ে ধরা বা গালে একটা চুমু দেওয়া শুরু হল। তৃপ্তির বুঝতে অসুবিধা হল না যে তার বস তার কাছে কাজ ছাড়া আর কি চায়। তবে যা কিছুই হচ্ছে, সবই উপরে উপরে। এতে যদি চাকরিটা পাকা হয়, তো আপত্তির কোন কারণ নেই। কাজেই, সে বিজয় বাবুকে কোন বাধা তো দিলই না, উল্টে কিছুটা প্রশ্রয়ই দিতে শুরু করল। কিন্তু বিজয় বাবু যে কত দূর যেতে পারেন, সে সম্বন্ধে তৃপ্তির কোন ধারণাই ছিল না। তৃপ্তির প্রশ্রয় পেয়ে বিজয় বাবুর সাহস বেড়ে গেল। লোকটা পাক্কা হুলো বিড়াল। মাছের গন্ধ পেয়ে দিনরাত ছোঁকছোঁক করা শুরু করলেন। একদিন প্ল্যান করে, অফিস ছুটি হয়ে যাওয়ার পরও, কাজের আছিলায় তৃপ্তিকে একটু বেশী রাত অবধি আটকে রাখলেন। তৃপ্তি বিজয় বাবুর চেম্বারের সংলগ্ন একটি ছোট ঘরে বসে। উভয়ের নিজস্ব ঘরের বাইরের দরজা দুটি ছাড়াও, দুই ঘরের মধ্যে সরাসরি যাতায়াত করার জন্য একটি পৃথক দরজা আছে। বিজয় বাবু ডেকে পাঠালে, তৃপ্তি ওই দরজা দিয়েই বিজয় বাবুর চেম্বারে প্রবেশ করে। অফিস থেকে সবাই বেড়িয়ে গেছে। কিন্তু বিজয় বাবুর টেবিলে স্তূপাকার ফাইল, যার মধ্যে একটি হাতে নিয়ে তিনি একাগ্র মনে পড়ছেন। আসলে ফাইলটা আছিলা মাত্র। তিনি শুধু সঠিক সুযোগের জন্য অপেক্ষা করছেন। ঘড়ির কাঁটার দিকে এক পলক তাকিয়ে, বিজয় বাবু তাঁর চেম্বারের বাইরে এসে দাঁড়ালেন। গোটা অফিস সুনসান। বিজয় বাবুর ঊর্ধ্বতন কর্তারাও বাড়ি চলে গেছেন। শুধু তার চেম্বারের বাইরে একটি কাঠের স্টুলের উপর প্রভুভক্ত কুকুরের মত ঠায় বসে আছে তাঁর বিহারী আর্দালি, রামকৃপাল সিং। তাকে উদ্দেশ্য করে বিজয় বাবু বললেন, “রামকৃপাল, আমার আজ অনেকগুলো দরকারি কাজ শেষ করতে হবে। তাই বেরোতে দেরী হবে। তোমাকে অতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে না। তুমি বাড়ি যাও। তবে সুনীলকে নিচেই অপেক্ষা করতে বলে দিও।” “জী সাহেব,” বলে একটি সেলাম ঠুকে রামকৃপাল স্টুল ছেড়ে উঠে দাঁড়াল এবং আস্তে আস্তে বেড়িয়ে গেল। অফিস থেকে বিজয় বাবুকে চব্বিশ ঘণ্টা ব্যাবহারের জন্য একটি দামী গাড়ী এবং ড্রাইভার দেওয়া হয়েছে। ড্রাইভারের নাম সুনীল। তার সাহেবের অনেক সময়ই বাড়ি ফিরতে দেরী হয়। কখনও অফিসে কাজের চাপের জন্য বেরোতে দেরী হয়। আবার কখনও সাহেব মেমসাহেবকে নিয়ে অন্য সাহেবদের বাড়িতে কিংবা ক্লাবে পার্টিতে যান। তখনও দেরী হয়। তবে দেরী হলে তারই লাভ। সে অনেক টাকার ওভারটাইম পায়। রামকৃপালের কাছে সে যখন শুনল যে আজও তার সাহেবের দেরী হবে, সে বেশ খুশিই হল। আজও তার ওভারটাইম হবে।
Parent