কিছু মনের সত্যি কথা - অধ্যায় ৭৬
-"এক্সকিউজ মি?"
-"আমাকে ডাকছেন?"
-"হ্যাঁ, আসলে একটা ছোট্ট হেল্প চাই..."
-"হেল্প? আমার কাছে?"
-"হ্যাঁ...আসলে... ইয়ে... আপনি তো পাহাড়-টাহাড়ে যান, এখান থেকে গাড়িভাডা কত হওয়া উচিত? শুনেছি খুব ঠকায়, যদি কেউ না জানে?"
-"সে তো আপনি কোথায় যাবেন, তার ওপর নির্ভর করছে..."
-"আমি? ইয়ে...আপনি কোথায় যাবেন?"
-"মানে? আমার সাথে আপনার কি? আপনি যাবেন আপনার মতো, আমি যাব আমার মতো..."
-"আরে ম্যাডাম, রাগছেন কেন! আসলে আমি আগে কখনও পাহাড় দেখিনি। আমার সমুদ্র প্রিয় ছিল। তাই আইডিয়া নেই আর কি!"
-"দেখুন, প্লিজ আমাকে ডিস্টার্ব করবেন না। স্টেশানের বাইরে অনেক গাড়ি আছে, কথা বলতে পারেন।"
-"ইয়ে...শেয়ার করবেন ক্যাব? আমি খুব ভাল কো প্যাসেঞ্জার...কোনোরকম বদার করব না আপনাকে। আপনি সামনে, পেছনে, যে সিটে ইচ্ছে বসবেন..."
-"না, আমি একা যাব। আসছি। "
-"আরে, শুনুন না...আমার কাছে খুব বেশি টাকা নেই। শেয়ার করলে ভাল হয়। আর জানেন ই তো, শেয়ারিং ইজ কেয়ারিং?"
-"কী আশ্চর্য! এত কথা হচ্ছে কেন? এখানে শেয়ার কার পাওয়া যায়। টোটো নিয়ে সেখানে চলে যান।"
-"সবার সাথে শেয়ার করা আর তোমার সাথে শেয়ার করা এক হলো?"
-"মানে টা কি?"
-"ও, এখনও সেই 'মানেটা কি' বলো! ভাল।"
-"রাতুল, কাট দ্য ক্র্যাপ। তুমি এখানে কেন?"
-"ওই যে, ক্যাব শেয়ার করব বলে। জীবন তো শেয়ার করতে দিলে না!"
-"উই ডিসকাসড অ্যাবাউট ইট! ইয়ার্স এগো! নাও, আই অ্যাম গেটিং লেট! আমি যাচ্ছি। "
-"বাহ্! এখনও রেগে গেলে ইংলিশ বলো! গুড! তা, 'উই' না, 'আই' বলো! তুমিই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে, একতরফা আমার ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল সেটা। আমি কি চাই, চেয়েছি, বলার সুযোগ ই দাও নি। "
-"ইটস বিন টুউ লং, রাতুল। সেভেন ইয়ার্স। "
-"হ্যাঁ, সাত সাতটা বছর। তাও তোমাকে ভুলিনি শ্রী! ভুলতে পারিনি। "
-"আমি এখানে আসছি, এই ট্রেনে জানলে কি করে?"
-"রাহুল আমার অফিসেই জয়েন করেছে শ্রী। আমি তোমার সব খবর পাই। "
-"ভাইয়া? ভাইয়া বলেছে তোমাকে? "
-"হ্যাঁ। বলল, প্রতিবছরই এইসময়টায় পাহাড়ে চলে আসো তুমি কয়েকদিনের জন্য...ক্যান্সার ডে তে... নিজেকে সেলিব্রেট করো... আর তখনই আমিও ডিসাইড করেছিলাম, কিছু প্রশ্ন করব তোমাকে। যে প্রশ্নের জবাব আটকে ছিল এতদিন, সেটাও জিজ্ঞেস করার ছিল।"
-"প্রশ্ন? আমাকে? "
-"কেন আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলে, শ্রী? কেন? খুব তো পজিটিভ কথা বলতে...আর এটাও বুঝতে পারলে না যে একটা অরগ্যান থাকা না থাকায় তোমার তুমিটার কিছু পরিবর্তন হয় না। অন্তত আমার চোখে না!"
-" রাতুল, লেটস নট টক অ্যাবাউট দ্যাট। প্লিজ।"
-"কেন নয়, শ্রী? এই সাতবছরে আমার জীবনে এসেছে অনেকে। কিন্তু টেকে নি কোনো সম্পর্ক। পরে বুঝলাম, আমার মনটা আজও তোমার কাছেই রয়ে গেছে। তাই তো, রাহুলের কাছ থেকে কোন ট্রেনে যাচ্ছ জেনে টিকিট করলাম। এইভাবে এলাম। আর সরিয়ে দিও না, শ্রী। সাত বছর আলাদা ছিলাম, সাতজন্মের অপেক্ষা ওখানেই হয়ে গেছে। "
-"সাদা রঙের গাড়ি, সামনে বুদ্ধদেবের মূর্তি রাখা। ড্রাইভারের নাম কৃষ্ণ থাপা।"
-"অ্যাঁ?"
-"সেই হাঁদাই রয়ে গেলে। চলো, তোমার সব প্রশ্নের উত্তর দেব, সাতবছরে ভেবেছি অনেক অমিও। ইমম্যাচিওর ছিলাম তখন অনেক। ম্যাসটেকটমির পরে ভেবেছিলাম সব শেষ হয়ে গেল বোধহয়..."
-"শ্রী..."
-"শ্ শ্ শ্... বাকি কথা পাহাড়ের কোলে বসে হবে। এখন কৃষ্ণ দাইজুকে ফোন করি আগে..."