সম্পর্কের মায়াজাল --- ami_keu_noi - অধ্যায় ১২

Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-50870-post-5013729.html#pid5013729

Posted on Fri Nov 04 2022 by ddey333 (Profile)

Tags:romance
568 words / 3 min read

Parent
খুব ভোরে ঘুম ভেঙে গেল। মাথাটা কেন যেন খালি হয়ে আছে। ঘুম ভাঙ্গার পর আমি কোথায় আছি বুঝতেই যেন বেশ কিছুটা সময় কেটে গেল। সারারাত কেন জেন আজে-বাজে স্বপ্ন দেখেছি। গতকালের বার বার চমকে দেয়া ঘটনাগুলোই যেন রাতভর আমায় তারা করে বেরিয়েছে। স্বপ্নে শশী আর তনিমাকে দেখলাম বার বার কিন্তু দুজনকেই ডাইনী ডাইনী মনে হচ্ছিল। আমি যেন এক ভূতুড়ে রাজ্যের ঠিক মাঝখানে বসে কারও জন্য অপেক্ষা করছিলাম! কারও কি আমাকে উদ্ধার করার কথা ছিল?! যাই হোক, সকাল বেলা উঠে সারা রাত নিয়ে ভাবলেতো চলবে না। শুয়ে শুয়ে আজকের দিনের টু-ডু লিস্টটা মনে মনে ভাবতে লাগলাম। আজ শুধু মাসুদদের বাসায় যাবার ডেট, ওতাকেই সপ্তাহে বেশিদিন পড়াতে বলেছে রাসেল। তবে তার আগে আবার যেতে হবে শশীর সাথে দেখা করতে। শশীর সাথে দেখা করার কথা মনে হতেই ক্যামন যেন গুলিয়ে গেল দিনটা। না, শশীর জন্য ঠিক নয়, বোটানিক্যাল জায়গাটাই আমার পছন্দ না। দিন দুপুরেও যেসব গা-রগরগে লাইভ ফিল্ম দেখা যায় জায়গায় জায়গায়, বন্ধু-বান্ধবি-প্রেমিকা নিয়ে না যাওয়াটাই শ্রেয়। সরকারেরও অবশ্য যথেষ্ট দোষ আছে এতে! চমৎকার একটা জায়গা সুষ্ঠ পর্যবেক্ষনের অভাবে ধীরে ধীরে দালালদের হাতে চলে যাচ্ছে! চমৎকার সব গাছ আর নাম না জানা অনেক ফুল দেখতে পাওয়া যায় ওখানে গেলে, তবে তার চাইতেও বেশি দেখা মেলে ঝরে যাওয়া বখাটে মানব সন্তানদের! উঠে ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে বসলাম। ভাবছি শশীর সাথে ঠিক কয়টায় দেখা করতে বলল? আদৌ কি বলেছে নাকি বলেনি? আমার আবার তারিখ আর সময় খুবই গড়মিল লাগে। প্যাঁচ পাকিয়ে যায় এই দুটি ব্যাপারে। যেই না ভেবে রুটির প্রথম টুকরো সবজি নিয়ে ধরে মুখে দেব অমনি মেসেজ এলো মোবাইলে - "তুমি ঠিক ১১টার দিকে গার্ডেনের গেটে থেকো।" ১১টা তাইনা? এখন বাজে ৯টা, বেশ খানিকটা সময় আছে হাতে - আমি যেন মনে মনেই সময়গুলো হিসেব করে নিচ্ছি। মা হঠাত এসে বললেন, - কিরে পড়ানো আছে আজ? - আছে। - কখন? - দুপুরের দিকে... - তাহলে এত সকালে ঘুম থেকে উঠলি যে বাবা? - একটু বাইরে যাবো মা। - কোথায় যাবি? আমি মাকে মিথ্যা বলতে পারিনা কিন্তু শশীর ব্যপারটাও মাকে জানাতে ইচ্ছে হল না। মাকে বললেই ভেবে নিবে ওর সাথে আমার রিলেশন চলছে, আর অমনি খালা-চাচি সবাইকে বলে বেড়াবে 'জানিস, আমার ছেলের বউ পেয়ে গিয়েছি...'। তাই এত হ্যাসেলের মধ্যে না গিয়ে সোজা সাপ্টা মিথ্যে বলেই পার করে দিতে চাইলাম, - হামিদ ভাইয়ের সাথে একটু কথা আছে মা... - কোন হামিদ? - ঐ যে জিম টিম করে... - ও, ঐ যে হাট্টা কাট্টা পালোয়ানের মত দেখতে ছোকরাটা? - হ্যাঁ... - ওর সাথে তোর কি কাজ? - উনি জিম নিয়ে কিসব বলছিলেন, কাল ভালো ভাবে কথা হয়ে ওঠেনি... - তাই ওনার সাথে কথা বলব। - ও আচ্ছা। আচ্ছা শোন, তুই কয়টার দিকে বাসায় ফিরবি? - ঠিক জানি না মা, কেন? কোন কাজ আছে? কিছু আনতে হবে? - না, আমি একটু আজ তোর চাচীর বাসায় যাব। তাই জিজ্ঞেস করছিলাম... - আমার কাছে এক্সট্রা চাবিতো থাকেই মা, তাই কোন সমস্যা হবেনা... তুমি যেও। আমি তোমার আগে ফিরলেও বাসায় ঢুকতে পারব। - ও তাইতো... আচ্ছা, তাহলে তুই খা। আমি একটু দুপুরের খাবারটা রান্না করে রেখেই না হয় যাই তোর জন্য। বলে মা চলে গেল রুম থেকে। আমিও খাওয়া শেষ করে উঠে একটু ফেসবুকে বসলাম। ফিড চেক করতে করতে শশীর স্ট্যাটাস দেখতে পেলাম, 'অনেক দিন পর সেই মানুষটার সাথে ঘুরতে যাচ্ছি' - feeling excited.. বুকের মধ্যে ধক করে উঠল। কেমন যেন আপন আপন লাগছে শশীকে। কালকেও মেয়েটার উপর খুবই বিরক্ত হয়েছিলাম আমি। কিন্তু আজ যেন ক্রমেই সেই বিরক্তির মাত্রা কমে যাচ্ছে। ওর ছোট্ট করে রাখা থাম্বনেইল ছবিটা খুলতে ইচ্ছে হল তবে জানি ছবিটা দেখলে হয়ত বুকের মাঝে খারাপ লাগার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তাই স্ক্রল করে নিচে নেমে গেলাম। ------------------------------------
Parent