২টি ছাদ ও কয়েকটি বিকেল... - অধ্যায় ১০

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-73110-post-6242353.html#pid6242353

🕰️ Posted on Thu Jun 18 2026 by ✍️ Dead people (Profile)

🏷️ Tags:
📖 1609 words / 7 min read

Parent
পর্ব ১০:  আদালতের সেই দিনটা শুরু থেকেই যেন অদ্ভুতভাবে ভারী ছিল। আকাশ একদম পরিষ্কার, নীলচে রঙে ভরা, কোথাও একটুও মেঘ নেই—তবুও যেন চারপাশে একটা চাপা অস্বস্তি ছড়িয়ে আছে। রোদ পড়ছে লালচে ইটের দালানের গায়ে, কিন্তু সেই আলোতেও কোনো উষ্ণতা নেই। আদালত চত্বরে প্রতিদিনের মতোই ভিড়—মানুষ আসছে, যাচ্ছে, কেউ কাগজ হাতে দৌড়াচ্ছে, কেউ করিডোরে দাঁড়িয়ে কথা বলছে, আইনজীবীদের কালো কোট বাতাসে দুলছে। চায়ের দোকানের সামনে ভিড়, ধোঁয়া উঠছে কাপে কাপে, কেউ চুপচাপ চা খাচ্ছে, কেউ উত্তেজিত গলায় আলোচনা করছে কোনো মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে। সবকিছুই যেন খুব স্বাভাবিক, প্রতিদিনের মতোই। তবুও আজকের দিনের ভেতরে একটা অদ্ভুত টান আছে—যেন অদৃশ্যভাবে কেউ সবার গলার কাছে হাত রেখে ফিসফিস করে বলছে, “আজ কিছু একটা হবে।” এই অনুভূতিটা স্পষ্ট করে বোঝানো যায় না, কিন্তু যারা সেখানে ছিল, তারা প্রত্যেকেই সেটা কোনো না কোনোভাবে অনুভব করছিল। রহিম চাচার দিনটা শুরু হয়েছিল আরও আগে—আসলে দিন শুরু হওয়ার আগেই। কারণ তিনি ঠিকমতো ঘুমোতেই পারেননি। সারারাত বিছানায় শুয়ে ছিলেন, কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই একটার পর একটা ছবি ভেসে উঠেছে। কখনো বাপ্পির ছোটবেলার মুখ—ময়লা জামা পরে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, লজ্জা পাচ্ছে, তবুও চা খেতে চাইছে। কখনো সেই সন্ধ্যার দৃশ্য—ধস্তাধস্তি, চিৎকার, আর এক মুহূর্তে সবকিছু বদলে যাওয়া। তার পাশে মমতা ঘুমিয়ে ছিল। ঘুমের ভেতরেও তার মুখে ক্লান্তির ছাপ। এক হাত আলতো করে পেটের ওপর রাখা। সেই পেটের ভেতরে একটা নতুন জীবন—যে এখনও পৃথিবীর কিছুই জানে না, তবুও যার ভবিষ্যৎ আজকের দিনের ওপর নির্ভর করছে। রহিম চাচা অনেকক্ষণ ধরে তাকিয়ে ছিলেন সেই দৃশ্যের দিকে। তার মনে হচ্ছিল—এই ছোট্ট মানুষটা, যে এখনও জন্মায়নি, তার নিরাপত্তা, তার ভবিষ্যৎ—সবকিছু আজ তার একটা কথার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। একটা শব্দ, একটা বাক্য—সেইটুকুই হয়তো ঠিক করবে সব। বের হওয়ার আগে মমতা আস্তে করে তাকে ডাকল। “শুনেন…” রহিম চাচা থেমে তাকালেন। মমতা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তার চোখে একধরনের ভয়, কিন্তু সেই ভয়ের ভেতরে লুকানো ছিল একটুকরো অনুরোধও। তারপর সে ধীরে বলল, “আপনি… সাবধানে থাকবেন।” এই ‘সাবধানে’ শব্দটার ভেতরে কত কিছু লুকিয়ে ছিল—রহিম চাচা খুব ভালো করেই বুঝলেন। রকির সেই রাতের কথা, ছুরির ঠাণ্ডা ধার, ফিসফিস করে বলা হুমকি—সবকিছু এই একটা শব্দের ভেতরে গিয়ে জমে আছে। তিনি কিছু বললেন না, শুধু মাথা নেড়ে বেরিয়ে গেলেন। কারণ কিছু কিছু জবাব মুখে বলা যায় না—সেগুলো শুধু ভেতরে অনুভব করা যায়। আদালত চত্বরে ঢোকার সময়ই তিনি তাকে দেখলেন—রকি। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু তবুও আলাদা করে চোখে পড়ে। তার শরীরটা খুব সাধারণভাবে দাঁড়ানো, কিন্তু চোখদুটো সরাসরি রহিম চাচার দিকে। ঠোঁটের কোণে হালকা একটা হাসি। এই হাসিটা রাগের না, আবার পুরোপুরি হুমকিরও না। এটা এমন এক হাসি, যেখানে নিশ্চিততা আছে। যেন সে আগেই জানে কী হতে যাচ্ছে। যেন সে আগেই জেনে গেছে—মানুষ শেষ পর্যন্ত কী বেছে নেয়। রহিম চাচার বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে উঠল। তিনি চোখ সরিয়ে নিলেন, কিন্তু সেই দৃষ্টি যেন তার পিঠে লেগে রইল। যতক্ষণ না তিনি ভেতরে ঢুকলেন, ততক্ষণ সেই অনুভূতি তাকে ছাড়ল না। অন্যদিকে কোর্টরুমের ভেতরে মাসুদ রহমান বসে আছেন। সামনে ফাইল খোলা, পাতার পর পাতা নথি, দাগ দেওয়া লাইন, নোট—সবকিছু গোছানো, তবুও যেন অসম্পূর্ণ। তার চোখে ক্লান্তি স্পষ্ট, কিন্তু সেই ক্লান্তির ভেতরেও একটা তীক্ষ্ণ মনোযোগ আছে। গত রাতটা তিনি ঘুমাননি। বারবার কেসটা মাথায় ঘুরিয়েছেন। কোথায় কী ফাঁক আছে, কোথায় কীভাবে যুক্তি দাঁড় করানো যায়—সব খুঁজে দেখেছেন। শামসুরের অতীত তিনি খুঁটিয়ে দেখেছেন—মারামারি, চাঁদাবাজি, আগের কেস, থানায় নাম থাকা—সবই আছে। আর রকির সঙ্গে তার সম্পর্ক—সেটাও স্পষ্ট। তার মনে একটা সন্দেহ তৈরি হয়েছে—এই ঘটনাটা হঠাৎ করে হয়নি। এটা এমন কিছু, যেটা ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে, ঠেলে দেওয়া হয়েছে, এমন এক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেখানে বিস্ফোরণ অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু সমস্যা হলো—এই সবকিছু অনুভূতির স্তরে যতই পরিষ্কার হোক, আইনের কাছে তার মূল্য খুব কম। আইন অনুভূতি দেখে না। আইন শুধু দেখে—প্রমাণ আছে কিনা। কোর্টরুমের দরজা খুলে যখন ভেতরে ঢোকানো হলো বাপ্পিকে, তখন মুহূর্তের জন্য যেন চারপাশের সব শব্দ থেমে গেল। বাইরে মানুষের কোলাহল, করিডোরে জুতোর শব্দ, আইনজীবীদের কথাবার্তা—সব যেন দরজার ওই এক চৌকাঠে এসে থেমে রইল। ভেতরে শুধু একটা ভারী নীরবতা। সেই নীরবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে বাপ্পি—কাঠগড়ায়। কয়েকদিন আগেও যে ছেলেটা পাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে হাসত, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিত, নিজের মতো করে জীবনটা চালাত—আজ তাকে দেখে মনে হয় যেন সে বহু বছরের ক্লান্তি বয়ে বেড়াচ্ছে। তার মুখ শুকিয়ে গেছে, গালে দাড়ি এলোমেলোভাবে গজিয়েছে, চোখের নিচে কালি জমে আছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি বদলে গেছে তার চোখ। সেখানে আর আগের সেই আগুন নেই, সেই বেপরোয়া চাহনি নেই। বরং একধরনের নীরব স্বীকারোক্তি—যেন সে বুঝে গেছে, জীবনের একটা বড় অংশ এখন তার হাতের বাইরে। যে মানুষ সব হারানোর কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তার চোখে এমন একটা অদ্ভুত স্থিরতা আসে—যেখানে আর তর্ক থাকে না, চিৎকার থাকে না, শুধু একটা চুপচাপ মেনে নেওয়া থাকে। বাপ্পির চোখেও ঠিক সেই রকম একটা শান্ত, কিন্তু ভীষণ ক্লান্ত আলো। সে একবার ধীরে ধীরে চারপাশে তাকাল। যেন নিশ্চিত হতে চাইছে—কে কে আছে এখানে। শিউলি, নীলা, রাফি—সবাই। প্রত্যেকের চোখে আলাদা আলাদা অনুভূতি—চিন্তা, ভয়, অপরাধবোধ, অসহায়তা। কিন্তু তার চোখ শেষ পর্যন্ত এসে থামল এক জায়গায়—রহিম চাচা। দুজনের চোখে চোখ পড়ল। সেই মুহূর্তটা খুব ছোট। হয়তো এক সেকেন্ডও না। কিন্তু সেই এক সেকেন্ডের ভেতরে যেন বছরের পর বছর জমে থাকা সম্পর্ক, বিশ্বাস, স্নেহ, আর না-বলা হাজারটা কথা একসাথে ভেসে উঠল। বাপ্পির মনে পড়ে গেল ছোটবেলার সেই দিনগুলো—দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা, রহিম চাচার হাসিমুখ, “এই যে বাপ্পি, আয়”—বলে ডেকে নেওয়া, বিনা পয়সায় চা আর বিস্কুট দিয়ে দেওয়া। আর রহিম চাচার চোখে ভেসে উঠল অন্য ছবি—একটা ছোট্ট ছেলেকে বড় হতে দেখা, তার হাসি, তার রাগ, তার দৌড়ঝাঁপ। সেই ছেলেটাই আজ কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে। কিন্তু সেই মুহূর্তটা বেশিক্ষণ টিকল না। রহিম চাচা হঠাৎ করেই চোখ নামিয়ে নিলেন। যেন সেই দৃষ্টি সহ্য করা তার পক্ষে সম্ভব না। যেন বাপ্পির চোখে তাকালেই তিনি ভেঙে পড়বেন। কোর্টের কর্মচারীর কণ্ঠ সেই নীরবতাকে ছিন্ন করে দিল— “সাক্ষীকে কাঠগড়ায় আসতে বলা হচ্ছে।” এই ডাকটা যেন রহিম চাচার বুকের ভেতর গিয়ে আঘাত করল। তিনি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন। তার পা ভারী। এমন ভারী, যেন প্রতিটা পদক্ষেপে তিনি মাটির ভেতরে ঢুকে যাচ্ছেন। হাঁটার সময় তার মনে হচ্ছিল—এই কয়েকটা পা ফেলা মানে শুধু একটা জায়গা থেকে আরেকটা জায়গায় যাওয়া না, বরং একটা জীবনের সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে যাওয়া। কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর পর তিনি একবার চারপাশে তাকালেন। সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে। এই দৃষ্টিগুলো আলাদা—কেউ আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে, কেউ সন্দেহ নিয়ে, কেউ নির্লিপ্তভাবে। কিন্তু প্রত্যেকটা দৃষ্টি যেন তাকে চাপ দিচ্ছে—“বলুন… সত্য বলুন…” বিচারকের গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল— “আপনি যা দেখেছেন, তা সত্য করে বলবেন।” ‘সত্য’ শব্দটা তার কানে গিয়ে অদ্ভুতভাবে বাজল। যেন এই একটা শব্দই তাকে দুই টুকরো করে ফেলছে। একদিকে দাঁড়িয়ে আছে সত্য—যেটা সে জানে, যেটা সে দেখেছে। আর অন্যদিকে দাঁড়িয়ে আছে তার পরিবার—মমতা, তার অনাগত সন্তান, তাদের ভবিষ্যৎ। তিনি চোখ বন্ধ করলেন এক মুহূর্তের জন্য। তার মাথার ভেতর একসাথে অনেকগুলো ছবি ভেসে উঠল— বাপ্পির হাসি, মমতার ক্লান্ত মুখ, তার পেটের ওপর রাখা হাত, আর রকির সেই ঠাণ্ডা, অনুভূতিহীন চোখ। সেই চোখ, যেটা তাকে স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছিল—ভুল করলে কী হবে। তার গলা শুকিয়ে গেল। বুকের ভেতরটা চেপে ধরল। মনে হচ্ছিল শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তিনি ধীরে বললেন— “ঝগড়া হইছিল…” কোর্টরুম নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কেউ নড়ছে না। সবাই শুনছে। “অনেক বড় ঝগড়া…” তার কণ্ঠে কাঁপুনি নেই, কিন্তু ভেতরে ভেতরে সবকিছু ভেঙে পড়ছে। তিনি থামলেন। এই থামাটা খুব ছোট, কিন্তু তার ভেতরে চলছিল সবচেয়ে বড় যুদ্ধ—সত্য বলবেন, না বাঁচবেন? তারপর তিনি বললেন— “কিন্তু… আমি ঠিক দেখি নাই ছুরিটা কে মারছে…” এই কথাটা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল। যেন একটা অদৃশ্য ঢেউ পুরো কোর্টরুমে ছড়িয়ে গেল। ফিসফাস শুরু হলো। কেউ তাকাচ্ছে, কেউ মাথা নাড়ছে। এই কথাটা পুরো সত্য না। আবার পুরো মিথ্যাও না। এটা সেই জায়গা, যেখানে মানুষ নিজের ভেতরের সত্য আর বাইরের ভয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে একটা সমঝোতা করে। একটা অদ্ভুত, অসম্পূর্ণ সত্য—যেটা কাউকে পুরোপুরি বাঁচায় না, আবার পুরোপুরি ডোবায়ও না। মাসুদ রহমান মাথা তুলে তাকালেন। তার চোখে স্পষ্ট চিন্তার ছাপ। তিনি বুঝলেন—কিছু একটা বদলে গেছে। কিন্তু তিনি থামলেন না। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন। “মাই লর্ড, আমি একটা বিষয় উপস্থাপন করতে চাই।” তার কণ্ঠ শান্ত, নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু সেই শান্তির ভেতরে একটা দৃঢ়তা আছে। তিনি শামসুরের অতীত তুলে ধরলেন—তার সহিংসতা, তার অপরাধ, তার চাঁদাবাজি। কোর্টরুমে আবার গুঞ্জন উঠল। কিছু মানুষ মাথা নাড়ল, যেন তারা এই গল্প আগে থেকেই জানত। তারপর তিনি বললেন— “এই ঘটনাটা সরল কোনো মারামারি না। এখানে তৃতীয় একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আছে—রকি।” রকির মুখ মুহূর্তের জন্য শক্ত হয়ে গেল। তার চোখে এক ঝলক বিরক্তি, কিন্তু সে দ্রুত নিজেকে সামলে নিল। মাসুদ রহমান থামলেন। তারপর বললেন— “আমাদের কাছে একজন সাক্ষী ছিল… যিনি ঘটনাটা খুব কাছ থেকে দেখেছেন।” সবাই নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করছে। বিচারক বললেন— “তিনি কোথায়?” একটা ছোট্ট নীরবতা। “তিনি আজ উপস্থিত নেই।” এই কথাটা শোনার সাথে সাথে যেন কোর্টরুমের ভেতরে একটা হতাশার ঢেউ বয়ে গেল। যেন কেউ শেষ আশাটুকুও কেড়ে নিল। তবুও মাসুদ রহমান থামলেন না। তিনি বললেন— “ছুরিটা সরাসরি মৃত ব্যক্তির দিকে যায়নি… বরং অন্য একজনের দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।” এই কথাটা যেন বাতাস চিরে বেরিয়ে গেল। বাপ্পির চোখ বড় হয়ে গেল। যেন সে প্রথমবারের মতো একটা সম্ভাবনা দেখল। শিউলি নিঃশ্বাস আটকে রাখল। তার বুক দ্রুত উঠানামা করছে। নীলা ধীরে রাফির দিকে তাকাল—তার চোখে ভয় আর আশার মিশ্রণ। কিন্তু এই সত্যটা দাঁড়িয়ে আছে একা। কোনো প্রমাণ নেই। কোনো সাক্ষী নেই। বিচারক শান্ত গলায় বললেন— “কোর্ট প্রমাণ চায়। শুধু বক্তব্য যথেষ্ট না।” এই একটা বাক্যে যেন সবকিছু আবার ভেঙে পড়ল। সত্যি আছে—কিন্তু ধরা যাচ্ছে না। জানা আছে—কিন্তু প্রমাণ করা যাচ্ছে না। রহিম চাচা কাঠগড়া থেকে নামলেন। তার পা কাঁপছে। তিনি নিজেই বুঝতে পারছেন না—তিনি কী করলেন। তিনি কি বাপ্পিকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেন? নাকি তাকে আরও গভীরে ঠেলে দিলেন? তার মাথা নিচু। তিনি হাঁটছেন, কিন্তু যেন কিছুই দেখছেন না। হঠাৎ পাশ থেকে খুব আস্তে একটা কণ্ঠ ভেসে এল— “ভালো করলেন না…” তিনি তাকালেন না। কিন্তু বুঝলেন—রকি। সেই কণ্ঠে কোনো রাগ নেই। বরং একটা ঠাণ্ডা সতর্কতা। কোর্টরুমের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে রাফি, নীলা, শিউলি আর সাইফ। চারজন, কিন্তু চারটা আলাদা জগত। কেউ কথা বলছে না। কারণ তারা সবাই বুঝে গেছে—এই লড়াই এখন শুধু আদালতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। এটা এখন তাদের ভেতরের লড়াই। কে কী বেছে নেবে— সত্য, না নিরাপত্তা… ভালোবাসা, না দায়িত্ব… এই সিদ্ধান্তগুলোই এখন সবকিছু বদলে দেবে। দূরে দাঁড়িয়ে রকি একটা সিগারেট ধরাল। ধোঁয়া ছেড়ে আকাশের দিকে তাকাল। তার ঠোঁটে সেই হালকা, নিশ্চিন্ত হাসি। যেন সে জানে—মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো ভয়। আর সেই ভয়কে কীভাবে কাজে লাগাতে হয়, সেটা সে খুব ভালো করেই জানে। আকাশ তখনও একদম পরিষ্কার। সূর্যের আলো তীব্র হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে। তবুও মনে হচ্ছিল—ঝড়টা এখনো শুরুই হয়নি। আসল ঝড়টা এখনও (চলবে...)
Parent