অঘটনঘটন পটিয়সী (নতুন আপডেট ৩৭) - অধ্যায় ২৩০

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-52771-post-6289754.html#pid6289754

🕰️ Posted on Mon Aug 17 2026 by ✍️ কাদের (Profile)

🏷️ Tags:
📖 691 words / 3 min read

Parent
আপডেট ৩৭ ক সিনথিয়াদের বাসায় আজকাল বেশ একটা উৎসব উৎসব ভাব থাকছে। সিনথিয়ার বিয়ে হয়ে গেছে, বাড়ির ছোট মেয়ে। তাই সব আত্মীয় স্বজনরা এসেছিল। চাচা চাচীরা ইংল্যন্ড থেকে এসেছিল তবে উনারা চলে গেছে। অন্য আত্মীয়রাও চলে গেছে। তবে সিনিথিয়ার নানী আসমা বেগম এখনো আছেন। তার প্রিয় নাতনী ছাড়ে নি তাকে। বলেছে যখন সিনথিয়া ইংল্যান্ড যাবে একমাত্র তার পর নানী ঢাকা ছাড়তে পারবে। এছাড়া যেহেতু সিনথিয়া আর তিন দিন পর ইংল্যান্ড চলে যাবে তাই প্রতিদিন সাবরিনা আর নুসাইবা বাড়িতে আসছে। সিনথিয়ার দাদা দাদী বেচে থাকতে যেমন একটা হই হই রই রই ব্যাপার ছিল বাড়িতে এখন প্রায় তেমন একটা অবস্থা চলছে। সাফিনা প্রতিদিন দুপুরের মাঝে অফিস থেকে চলে আসছেন বাসায়। বিকালে সাবরিনা আর নুসাইবা দুইজনে অফিস শেষে বাসায় না গিয়ে সাফিনাদের বাসায় চলে আসছে। মিজবাহ করিম নিজেও অন্য সময় অফিস থেকে ফিরতে অনেক দেরি করেন। প্রায় রাত নয়টা দশটা বাজে। সেখানে উনিও এখন পাচটার মাঝে বাসায় হাজির। সিনথিয়া আর মাহফুজ মিলে গত এক সাপ্তাহে বেশ কয়েকটা দাওয়াত খেয়েছে সিনথিয়াদের আত্মীয় আর মাহফুজদের আত্মীয়দের বাসায়। গত দুই দিন সিনথিয়া ছিল তার শ্বশুড় বাড়িতে। যদিও এখনো ফরমালি সিনথিয়া কে তুলে নেয় নি তবে তাও সিনথিয়া গেছে। আদরের কমতি ছিল না বাড়িতে। সিনথিয়ার খুব কিউট লেগেছে মাহফুজের বাড়ীর সবাইকে। এমনিতে মাহফুজের কাছে এত গল্প শুনেছে যে প্রায় সবার চরিত্র মুখস্ত হয়ে গেছে ওর। মাহফুজের বাড়ির সবাই এমনিতে পুরান ঢাকাইয়া টানে কথা বলে। তবে সিনথিয়ার সমস্যা হয় নি এতে। আজকে সন্ধ্যায় আড্ডা বসেছে সাফিনাদের ফ্লাটে। সিনথিয়া, সাফিনা, নুসাইবা, আরশাদ, মিজবাহ আর মাহফুজ। সাবরিনা আর সাদমান আসবে আরেকটু পর। হাসাহাসি চলছে। পুরাতন ছবির এলবাম গুলো বের করে আনা হয়েছে। সিনথিয়ার একদম শিশুকালের একটা এলবাম খুলে দেখানো হচ্ছে মাহফুজ কে। মিজবাহ তার নতুন জামাই কে এলবামের পেইজ খুলে খুলে দেখাচ্ছেন আর বর্ণনা করছেন। মাহফুজের  অন্য পাশে বসা আসমা বেগম। উলটা দিকের  সোফায় সিনথিয়া পা তুলে তার মা কে জড়িয়ে ধরে বসে আছে। সাফিনার অন্যপাশে সাবরিনা। আর তার কোণাকুণি একটা সিংগেল সোফায় বসে আছে নুসাইবা। আরশাদ ঠিক তার পাশের আরেকটা সিংগেল সোফায় বসা। মিজবাহ পেইজ উলটাতে উলটাতে বলছেন, এই যে এইটা সিনথিয়ার জন্মের পর প্রথম ছবি। আমার ছোট ভাই, সিনথিয়ার ছোট চাচা তুলেছিল ছবিটা। আর এই ছবিটা এইটা ওর প্রথম জন্মদিনের সময় তোলা ছবি, দেখ দেখ কেমন করে ছুরিটা শক্ত করে ধরে আছে। কেক কাটার পরেও ছাড়তে চাইছিল না। ঐ বয়স থেকেই একদম ডাকুরাণী হয়ে বসেছিল। রুমের সবাই মিজবাহের কথায় হো হো করে হেসে উঠে। এইভাবে একের পর এক ছবি দেখাতে থাকে মিজবাহ। ছবি দেখার ফাকে ফাকে মাহফুজ মুখ তুলে চারপাশে তাকায়। সবার মুখ হাসিখুশি। ঢাকার এই এলিট ফ্যামিলি যে ওকে মেয়ে জামাই হিসেবে আপন করে নিয়েছে এতে ওর কোন সন্দেহ নেই। গত বছর ক্যাফেতে বসে সিনথিয়ার কাছে যে প্রতিজ্ঞা করেছিল সেটা যে অনেকটাই সফল হয়েছে সেটা নিয়ে ওর মনে কোন সন্দেহ থাকে না। পুরাতন ঢাকার গলি থেকে ঢাকার অভিজাত মহলে ওর প্রবেশাধিকার লেখা হয়ে গেছে এই বিয়েতে সেটা টের পায়। তবে টাকা বা আভিজাত্যের জন্য বিয়ে করে নি মাহফুজ। সাফিনা কে জড়িয়ে ধরে থাকা সিনথিয়ার দিকে এলবাম দেখতে দেখতে তাকায় মাহফুজ। এলবামের ছবি গুলোতে কিশোরী বয়সের সিনথিয়ার চোখে যে দুষ্ট হাসি ঠিক সেই হাসি এখনো দেখছে সামনে থেকে। এলবামের এই দুষ্ট কিশোরী এখনো ঠিক আগের মত আছে। চোখেমুখে সেই দুষ্টমির ঝিলিক। তবে ছবিতে আরেকটা জিনিস চোখে আটকে যায়। আর আট নয় বছর আগের ছবি সিনথিয়ার কিশোরী বয়সের ছবি গুলো। অনেক ছবিতে সিনথিয়া একা, কোন ছবিতে বাবা মায়ের সাথে, কোনটাতে ফুফুর সাথে, কোনটাতে সাবরিনার সাথে। আবার কোন কোন ছবি ফ্যামিলি গ্রুপ ফটো। সব গুলো ছবি দেখতে দেখতে সামনে তাকায় মাহফুজ ৮/৯ বছর হয়ে গেছে, ছবির প্রত্যেকটা মানুষের চেহারায় এই আট নয় বছর বয়সের ছাপ যুক্ত হয়েছে তবে একজন শুধু ব্যতিক্রম। সিনথিয়ার মা, ওর শ্বাশুড়ি সাফিনা। গত আট নয় বছর আগে যেমন ছিলেন ঠিক তেমন দেখতে আছেন আজ অব্দি, অবিকল সেরকম। আজকের তোলা কোন ছবি পুরাতন এই এলবামের ছবির পাশে রাখলে কেউ আলাদা করতে পারবে না এটা আজকের সাফিনা নাকি আট নয় বছর আগের সাফিনা। মাহফুজ মনে মনে ভাবে সিনথিয়া মায়ের এই জিনটা পেলে ভাল হয়। বিশ বছর পর তাহলে সিনথিয়ার সেই এলিগেন্স আর গ্রেস দুইটাই টিকে থাকবে বয়সের সাথে পাল্লা দিয়ে। সিনথিয়ার এসএসসির পরীক্ষার পর সিনথিয়া কে মিষ্টী খাওয়াচ্ছে সাফিনা এমন একটা ছবিতে চোখ আটকে যায়। সিনথিয়ার চোখেমুখে কৈশরের দুষ্টমী মাখা সৌন্দর্য আর সাফিনার চোখেমুখে সদ্য পাশ করা মেয়ে কে নিয়ে গর্ব ফুটে বের হচ্ছে। মাহফুজ মনে মনে উচ্চারণ করে গর্জিয়াস। মাহফুজ জানে শব্দটা সিনথিয়া আর সাফিনা দুইজনের জন্য প্রযোজ্য।
Parent