অঘটনঘটন পটিয়সী (নতুন আপডেট ৩৭) - অধ্যায় ২৪১
ঝ
সিড়ি দিয়ে নিচে নামতে থাকে সাবরিনা আর মাহফুজ। সিড়িতে প্রথম পা দিতে না দিতেই পিছনের দরজা বন্ধ হয়ে যায় বাসার। প্রতি তালায় আটটা এপার্টমেন্ট। করিডোরের দুই সাইডে চারটা চারটা করে। এপার্টমেন্টে গুলোর মাঝের করিডোরের দুই প্রান্তে দুই সিড়ি। সাফিনাদের এপার্টমেন্টে এক প্রান্তে। সেই এপার্টমেন্টের পাশ দিয়ে যে সিড়ি সেটা বেশ সরু। নিচে জেনারেটর রুমের ঠিক পাশে এই সিড়ি ঠেকেছে। বিব্রত সাবরিনা করিডোর দিয়ে হেটে অন্য প্রান্তের প্রশস্ত সিড়ি ধরার জন্য অপেক্ষা করে না। দরজা দিয়ে বের হয়ে হাতের ডানের সরু সিড়ি দিয়ে নিচে নামতে থাকে। পাশাপাশি দুইজন চলা কষ্ট এই সিড়ি দিয়ে। প্রথমে সাবরিনা আর পিছনে মাহফুজ। সারা সিড়ি জুড়ে নিচে চলতে থাকা জেনারেটরের সাউন্ড। সিড়ির শেষ প্রান্তে জেনারেটর রুম বলে সিড়ি জুড়ে গম গম সাউন্ড। তবে সাবরিনার বুকের ভিতর তার থেকে জোরে বাজতে থাকে হৃদপিন্ড। মাহফুজ কে একটু আগে দেওয়া ঝাড়ি একটা অস্বস্তি তৈরি করেছে দুই জনের মাঝে। নরমালি আলো ঝলমল করা সিড়ি তে এখন জেনারেটর থেকে পাওয়ার পাওয়া একটা লাইট জ্বলছে। ফলে সিড়ি প্রায় অন্ধকারাছন্ন। মাহফুজ পকেট থেকে মোবাইল বের করে মোবাইলের টর্চটা জ্বালায়। এক এক করে সিড়ি বেয়ে দুইজন নিচে নামছে। সাবরিনা সামনে আর মাহফুজ পিছনে। সিড়ির অন্ধকারে মাহফুজের মোবাইলের টর্চের আলো সাবরিনার পার্পল কালারের সিল্কের শার্টে পড়ে প্রতিফলিত হতে থাকে যেন। কাল প্যান্টের উপর আলো পড়তেই মাহফুজ চলন্ত দুইটা বল যেন দেখতে পেল পিছন থেকে। মাহফুজের প্রচন্ড অস্বস্তি হতে থাকে। মাহফুজ জানে ওর সেলফ কন্ট্রোল ভাল। তবে একবার বারান্দায় নুসাইবার আক্রমণ। পরে ডাইনিং টেবিলে সিনথিয়া আর নুসাইবার সাথে পায়ের খেলা। এরপর সিনথিয়া যেভাবে ওকে অতৃপ্ত করে ছেড়ে দিয়েছে তাতে এখন এই অল্প আলোতে সাবরিনার কাল প্যান্টের ভিতর থেকে উপচে পড়া পাছাটা ওকে পাগল করে দিচ্ছে। মনে হচ্ছে এখনি যেন ঝাপিয়ে পড়ে পিছন থেকে সাবরিনার উপর। কিন্তু একটু আগে আবার ওকে অহেতুক সাবরিনা যে ঝাড়ি দিয়েছে সেই ঝাড়ি ওকে ক্ষেপিয়ে রেখেছে। নিজের বউ এর সাথে কিছু করতে হলেও কি পারমিশন লাগবে? মাহফুজ স্বীকার করছে ডাইনিং টেবিলে এমন কিছু করা অনেক রিস্কি তবে বিয়ের পর প্রথম প্রথম এমন কিছু না করলে এ কেমন বিয়ে? ভাবতে ভাবতে হঠাত করে ওর মনে হল সাবরিনা আরা সাদমানের পক্ষে এমন কিছু করা সম্ভব না। সাবরিনার অফিসে শোনা সেই শব্দটা আমার মাথায় আসল ওর- আইস কুইন। সাদমানের পক্ষে জীবনেও সাবরিনার সাথে এমন কিছু করা সম্ভব নয়। এমন কিছু করলে সাবরিনা শিওর সাদমানের নুনু কেটে হাতে ধরিয়ে দিবে। হঠাত ওর মাথায় সাবরিনার হাতে কাটা নুনুর ছবি ভেসে উঠল। এমন আজগুবি চিন্তায় নিজেই হেসে উঠল।
সাবরিনা সিড়ি বেয়ে যত নামছে তত ওর মনে হচ্ছে ধরণী দ্বিধা হও, আমি ভেতরে ঢুকে যাই। একটু আগে মাহফুজ কে সে যে বকাঝকা করেছে এর সাথে আসলে ডাইনিং রুম এটিকেটের কোন সম্পর্ক নেই বরং পুরোটাই ওর জেলাসির সাথে জড়িত। ওর মনে হচ্ছে মাহফুজ বুঝি এটা টের পেয়ে গেছে। সেই কারণে ঘর থেকে তাড়াতাড়ি পালাতে চাইল আর এখন কিনা সেই মাহফুজের সাথে সিড়ি বেয়ে নামতে হচ্ছে। তার উপর সাদমান গাড়ির তেল ভরে আসতে আসতে সময় লাগবে। এ সময়টুকু কি ওকে মাহফুজের সাথে কাটাতে হবে? কি লজ্জা!!! আজকেই সন্ধ্যার দিকে মাহফুজ ওকে সতর্ক করেছিল যাতে এমন কিছু না করে। আর ছয় ঘন্টা যেতে না যেতে ঠিক সেই কাজটাই করে ফেলল ও। ওর ভিতরের লজ্জা, বিব্রতবোধ সব ছাপিয়ে আরেকটা জিনিস তীব্র হয়ে উঠছে। চাইলেও সেটা অস্বীকার করতে পারছে না। জেলাসি। হিংসা। সাবরিনার সব সময় মনে হয়েছে জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে ও সিনথিয়া থেকে এগিয়ে থেকেছে। বরং সিনথিয়া পিছনে পড়ে রইলো কিনা সেটা নিয়ে চিন্তিত ছিল কিন্তু এখন ওর মনে হচ্ছে জীবনের আসল দাওটা মেরে দিয়েছে সিনথিয়া। মাহফুজ কে পেয়ে গেছে। মাহফুজের সাথে পরিচয়ের আগে ওর আসলে জানা ছিল না জীবন থেকে কি মিস করছে । সারাজীবন নিয়ম মেনে চলা সাবরিনার জানা ছিল না নিয়ম ভাংগার মাঝেও কি তীব্র উত্তেজনা থাকে। অনেক সময় একটা মানুষের জন্য অপেক্ষা কতটা অসহনীয় হয় কিন্তু সেই অপেক্ষায় সারাটা দিন বসে থাকতে কতটা আনন্দ হয়। এই নতুন সব অভিজ্ঞতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া মানুষটা কে কখনো নিজের করে পাওয়া হবে না বরং ওর আদরের ছোট বোন সেই মানুষটাকে পাবে সারাটা জীবন। এটা ভাবতে একধরণের অসহায় আক্রোশ আর ক্রোধ বুকে ফুসে উঠে। কেন এমন হয়?
আজকে ডাইনিং টেবিলে সিনথিয়ার চোখে মুখে সেই অনুভূতি দেখে সাবরিনা টের পেয়ে গিয়েছিল কিছু একটা হচ্ছে। এই চোখ মুখ ওর পরিচিত। একমাত্র মাহফুজের পক্ষে সম্ভব এমন অনুভূতি সৃষ্টি করা। অনেক দিন আগে দেখা একটা মুভির কথা মনে পড়ে গিয়েছিল ওর তখন। নায়ক টেবিলের তলা দিয়ে নায়িকার পা নিয়ে খেলছিল নিজের পা দিয়ে। তবে সিনথিয়ার সে মুখ ভঙ্গী শুধু পা দিয়ে খেললে যে হবে না তা সাবরিনা বুঝে গিয়েছিল। মাহফুজের লম্বা পা নিশ্চয় সিনথিয়ার পায়ের পাতা ছাড়িয়ে আর অনেক দূর উঠে গিয়েছিল। সেই মূহুর্তে কি যে তীব্র জ্বালা বুকে অনুভব করছিল সেটা আর কাউকে বুঝাতে পারবে না সাবরিনা। ওর মনে হচ্ছিল ঐ চেয়ারে ও বসতে পারত। সিনথিয়ার জায়গায় ওর দুই পায়ের মাঝে মাহফুজের পা ঝড় তুলতে পারত। আর তখন ঠিক সিনথিয়ার মত দুই পা ছড়িয়ে ঘাড়টা হালকা পিছনে হেলিয়ে চোখ আধো বন্ধ করে জীবনের সব সুখ এক সাথে উপভোগ করতে পারত। এইসব ভাবার সময় ঠিক পিছন থেকে হালকা একটা হাসির শব্দ আসে। পিছন ফিরে দেখে মাহফুজ অন্ধকারে আপন মনে হাসছে। লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছা করে ওর। মাহফুজ কি ওর মনের সব কথা পড়ে ফেলছে?
হঠাত করে দ্রুত সিড়ি বেয়ে নিচে নামতে থাকে সাবরিনা। মাহফুজের হাসির কারণ ওর জানা নেই তবে ওর মনে হতে থাকে মাহফুজ বুঝি পেছন থেকে বিদ্রুপের হাসি হাসছে। এরকম অন্ধকারে দ্রুত সিড়ি বেয়ে সাবরিনা কে নামতে দেখে মাহফুজ ডাক দেয়। সাবরিনা এইভাবে অন্ধকারে নামলে পড়ে ব্যাথা পাবে। সাবরিনা একবার পিছন ফেরে উত্তর দেয় আমার ব্যাপারে তোমাকে চিন্তা করতে হবে না। সাবরিনার কথা ধারালো ছুরির মত মাহফুজের গায়ে লাগে। বিপদের জন্য সাবধান করে দিয়ে এমন কথা কেন শুনতে হবে? মাহফুজের এইবার রাগ লাগে। সব কিছুর একটা সীমা আছে। নিজের বউয়ের সাথে কি করতে হবে তার জন্য কথা শুনতে হবে আবার বিপদের জন্য সতর্কবার্তা দিলে তার জন্য কথা শুনতে হবে। কি সমস্যা এই মেয়ের? ওর অফিসের সবাই যে ওকে আইস কুইন বলে ঠিক বলে। মাহফুজ নিজের মনের মধ্যে বলে উঠে আইস কুইন। তবে অনেক সময় আমরা যখন অনেক বেশি আমাদের আবেগ দ্বারা চালিত হই তখন আমাদের মাথার ভিতরের চিন্তা অনেকটা প্রকাশ্যে এসে পড়ে। মাহফুজ যখন ভাবছিল মনে মনে আইস কুইন শব্দটা উচ্চারণ করছে তখন আসলে সে বেশ জোরেই বলে ফেলেছে। এমনকি সিড়িতে গম গম করে জেনারেটরের শব্দ ছাপিয়ে সাবরিনার কানে গেল শব্দটা। সাবরিনার বুকে এই আইস কুইন শব্দটা একটা তীরের মত গিয়ে লাগল। অফিসে আড়ালে আবডালে ওকে লোকে আইস কুইন বলে ডাকে সেটা সে জানে। অফিসের প্রতিপক্ষরা ওকে ছোট করতে এইসব বলে। অনেকে এইসব গসিপে কান দেয়। অফিসের অন্যদের এইসব কথায় প্রথম প্রথম মন খারাপ হলেও আজকাল এইসবে পাত্তা দেয় না সাবরিনা বরং কেউ আইস কুইন বললে ধরে নেয় এটা ওর সফলতার একটা প্রতীক। ওকে দমাতে না পেরে ওকে আইস কুইন ডাকছে। তবে মাহফুজের কাছ থেকে আজকে এই কথা শুনবে আশা করে নি। মাহফুজের কথাটা ওর ভিতরের সব কিছু ভেংগে চুড়ে দিল যেন। সাবরিনার মনে হল এখান থেকে এক দৌড়ে ছুটে বের হয়ে যায়। সাদমান আসতে আর কতক্ষণ লাগবে? নিচে নেমে কি মাহফুজ ওর পাশে অপেক্ষা করবে? কিভাবে সহ্য করবে এই কতটা সময়? মাহফুজ টের পেল যে কথাটা ওর মাথার ভিতর বলার কথা ছিল সে কথাটা জোরে বলে ফেলেছে। সাবরিনা আগের থেকে জোরে নামছে নিজের দিকে। মাহফুজ এক লাফে কয়েক সিড়ি টপকে নিচে নামে। অনেক সময় আমরা আমাদের পছন্দের মানুষের উপর রেগে থাকি আর রাগের মাথায় এমন কিছু একটা বলে বসি যার জন্য আমার স্যরি ফিল করি। মাহফুজের অবস্থা ঠিক তেমন। সাবরিনার উপর রাগ হচ্ছে আবার আইস কুইন বলে ফেলার কারণে একটু স্যরি ফিল হচ্ছে।