অমৃতের সন্ধানে - অধ্যায় ১৭

Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-33626-post-2828189.html#pid2828189

Posted on Tue Jan 12 2021 by Rajdip123 (Profile)

698 words / 3 min read

Parent
বহু দূর থেকে দরজা ধাক্কানোর একটা মৃদু আওয়াজ ইন্দ্রর কানে আসতে থাকে। নাহহহহ……… আওয়াজ টা বেড়েই চলেছে। কিছুতেই থামছে না আওয়াজ টা। ইন্দ্র বার বার চাইছে, আওয়াজ টা যেন বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সেই আওয়াজ বাড়তেই থাকে ক্রমাগত। বাবু তুই কি করছিস? আর কত ঘুমাবি সোনা? দেখ……কত বেলা হয়ে গেছে। স্নান নেই, খাওয়া নেই…………এবারে ওঠ বাবা আমার। মায়ের আওয়াজ টা চিনতে ভুল করে না ইন্দ্র। ধড়ফর করে উঠে বসে সে। কোথায় রিমি…… কোথায় আছে সে? তাহলে কি এতক্ষন স্বপ্নের রাজত্তে বিরাজ করছিল? ফোন টা কোথায়? বিছানার এক কোনায় মোবাইল টা আবিষ্কার করে ইন্দ্র। মোবাইল হাতে নিয়ে তাকিয়ে দেখে। স্ক্রিনের ওপর ভাসছে রিমির গোটা দুয়েক মিসকল। ওফফফফফফ………তাহলে সে গত রাত্রে রিমির সাথে কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়েছিল। সিনেমার মতন গতকালের স্বপ্ন টা ইন্দ্রর মস্তিস্কের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়াতে থাকে। ওফফফফ……কি সাংঘাতিক স্বপ্ন। স্বপ্ন টা কি সত্যি হতে পারেনা? কথাটা মনের মধ্যে আসতেই আবার দৃঢ় হতে শুরু করে তাঁর লিঙ্গ। সত্যি হলে কবে সত্যি হবে স্বপ্ন টা? এমন টাই কি ছেয়েছিল সে? ইসসসসস……রিমি তাকে খারাপ ভেবে বসে নি তো? হয়তো বেচারি কথা বলতে বলতে উত্তর না পেয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছে। তারপরেও যখন ইন্দ্রর তরফ থেকে কোনও সাড়াশব্দ না আসাতে, ফোন টা কেটে পুনরায় ফোন করেছে তাকে। ইসসসস………বিরাট ভুল হয়ে গেছে। হয়তো রেগে গেছে তাঁর ওপর। এখন নিশ্চয় রিমি নিজের ঘরের দৈনন্দিন কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে। গত রাত্রের কথা কি মনে আছে ওর? হয়তো মদের নেশায় অনেক উল্টো পাল্টা কথা বলে ফেলেছে সে। রিমি রেগে গিয়ে না তাকে বাতিলের তালিকায় ফেলে দেয়। নাহহহ……আর কোনোদিন ড্রিঙ্ক করে রিমির সাথে কথা বলবে না সে। মনে মনে ঠিক করে নেয় ইন্দ্র। শালা যত নষ্টের গড়া প্রবাল। প্রবালই তাকে নিয়ে গেছে রেস্টুরেন্টে। মনে মনে ঠিক করে নেয়, আজ আসুক গানডু টা। দেখাচ্ছি মজা। সেই রাত্রের দুজনের বার্তালাপ, দুটো অতৃপ্ত মানুষ কে অনেক কাছাকাছি এনে দেয়। রিমির স্বামী পরের দিন ফিরে আসাতে, রিমির সাথে ফোনে ইচ্ছে মতন কথা হয় না। কিন্তু কথা কম হলেও দুজনেই সুযোগ খুজতে থাকে, ফোনে কথা বলার জন্য। সুমিত্রা না থাকাতে ইন্দ্রর সুবিধা হতে থাকে। রিমিও একটু সুযোগ পেলেই ইন্দ্রর সাথে ফোনে কথা বলে। বেশ কিছুদিন ধরে এমন চলতে থাকে। ধীরে ধীরে একে অন্যের পারিবারিক সমস্যা গুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে থাকে। সুমিত্রার ফোন এসেছিল বেশ কয়েকবার ইন্দ্রর ফোনে। কিন্তু ইন্দ্র কথা না বলে ফোন কেটে দেয়। নিজের অফিসে বসে কাজের মধ্যে ডুবেছিল ইন্দ্র। লোকজন আসা যাওয়া লেগেই ছিল সকাল থেকে ইন্দ্রর অফিসে। হটাত করেই সুমিত্রার ফোন আসে। বাজতে থাকে ফোন টা। ইন্দ্র মোবাইল টার দিকে একবার তাকায়। ফোন টা ধরবে কি ধরবে না মাথায় টানাপড়েন চলতে থাকে। প্রবাল ও বার বার করে মানা করেছে তাকে সুমিত্রার সাথে কথা বলতে। পর মুহূর্তে মনে হয়, ব্যাপারটা ঠিক হচ্ছে না। কতদিন সে এমন করে উপেক্ষা করবে সুমিত্রাকে। বুম্বার জন্য মনটা খারাপ হয়ে যায় ইন্দ্রর। কতই বা বয়স ছেলেটার মোটে পাঁচ বছর। হটাত মাথায় আসে, বুম্বার শরীর ঠিক আছে তো? সুমিত্রা সেই জন্য ফোন করছে না তো তাকে? ব্যাপারটা আগেই ভাবা উচিত ছিল তাঁর। নাহহহ………ব্যাপার টা মোটেই ঠিক হচ্ছে না। যতই হোক বুম্বা তাঁর নিজের সন্তান। তাঁর আর সুমিত্রার তিক্ত সম্পর্কের কারনে সেই কচি বাচ্চা টা কেন কষ্ট পাবে? মনের মধ্যে এই কথা টা ঘুরপাক করতে থাকে ইন্দ্র। সুমিত্রার ফোন টা কেটে গেছে ততক্ষনে। ইন্দ্র মনে মনে ঠিক করে নেয়, এরপর যদি সুমিত্রার ফোন আসে, তাহলে একবার কথা বলে দেখা যাক। অন্যদিকে কিছুদিনের মধ্যেই রিমি ইন্দ্রর হৃদয়ের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে, ঘনিষ্ঠতা বেড়ে গেছে প্রতিনিয়ত দুজনের মধ্যে। প্রতিদিন রিমির ফোনের অপেক্ষায় থাকে ইন্দ্র। বার বার নিজের মোবাইলের দিকে তাকাতে থাকে।  সুমিত্রার কথা একরকম ভুলতেই বসেছিল সে। সুমিত্রার কথা মনে করতেও চায় না ইন্দ্র। সুমিত্রার শুচিবাই স্বভাব তাঁর সাংসারিক জীবনের মারাত্মক ক্ষতি করে ফেলেছে। ইন্দ্র কয়েকবার সুমিত্রা কে বোঝানোর চেষ্টা ও করেছে, ব্যাপারটা নিয়ে কোনও মানসিক রোগের ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করলে তাঁর ভালো হবে। কিন্তু সুমিত্রার সেই এক তর্ক, আমি কি পাগল যে মানসিক রোগের ডাক্তারের কাছে যাব? কিন্তু ইন্দ্রর সাথে ডাক্তার এই ব্যাপার টা নিয়ে বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। ইন্দ্র ভালোই জানে যে এটা একটা মানসিক রোগ যাকে মেডিকালের ভাসায় Obsessive compulsive disorder বলে। আমাদের দেশে প্রচুর মানুষ এই রোগে ভুগছেন, কিন্তু তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই চিকিৎসা করান না। সুমিত্রাও তাঁদের মধ্যে একজন। বয়সের সাথে সাথে এই রোগের প্রকার আর মাত্রা দুই বাড়তে থাকে। কিন্তু সুমিত্রা কে বার বার বুঝিয়েও কোনও লাভ হয়নি। চিন্তা করতে করতেই আবার বেজে ওঠে ইন্দ্রর ফোন। নাহহহহহ………এবার আর কল টা মিস হতে দেওয়া চলবে না। দেখা যাক কি বলতে চাইছে সুমিত্রা।
Parent