অমৃতের সন্ধানে - অধ্যায় ৫০

Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-33626-post-2949675.html#pid2949675

Posted on Sun Feb 14 2021 by Rajdip123 (Profile)

805 words / 4 min read

Parent
বাব্বা………বাবুর খুব রাগ বেড়েছে আজকাল দেখছি। আগে তো এমন ছিলে না তুমি। একবারও নিজের থেকে ফোন করে খোঁজও নিলে না তুমি আমার। কি ব্যাপার বলো তো, সকাল থেকে দেখছি, তুমি ঠিক মতন তাকাচ্ছ না আমার দিকে। কেমন যেন সরে সরে যাচ্ছ। যে ইন্দ্র কে আমি ছেড়ে গেছিলাম, আর যে ইন্দ্র কে আমি আসার পর ফিরে পেলাম, কোথাও একটু অন্যরকম দেখছি। হ্যাঁ গো, সব কিছু ঠিক আছে তো? সুমিত্রার অন্যরকম এই রূপ আর প্রশ্ন শুনে ইন্দ্রর বুকের মধ্যে থেকে হৃৎপিণ্ড যেন বেরিয়ে আসতে চায়। সাবধান হয়ে যায় ইন্দ্র। মস্তিস্ক সজাগ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে, কাঁধের ওপর থেকে সুমিত্রার হাত সরিয়ে সটান উঠে দাড়ায়। সব ঠিক আছে। কি আবার হবে? বলে দরজা খুলে বেরিয়ে যায়। ঘরের বাইরে বাইকের আওয়াজ শুনে সুমিত্রা বুঝতে পারে, ইন্দ্র বেড়িয়ে গেল অফিসে। বেশ কিছুক্ষন একই ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে সুমিত্রা। মনে মনে সেদিনের ঝগড়ার কথা মনে পড়ে যায়। ব্যাপারটা একটু বেশি হয়ে গেছে, বুঝতে সে আগেই পেড়েছিল। স্বামীর সাথে কথা বলেই ব্যাপারটা মিটিয়ে নেওয়া যেত। কেন বারবার মনে হচ্ছে, ইন্দ্র একটু অন্যরকম। চিন্তা টা ভুলও হতে পারে। চিন্তা টা ভুল হলেই ভালো। দুই চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে সুমিত্রার। বার বার মনে হতে থাকে, কোথাও যেন কিছু ঠিক হচ্ছে না। বাড়ি থেকে বেড়িয়েই বাইক নিয়ে সোজা অফিসে চলে ইন্দ্র। কাজের মধ্যে ডুবে যায় ইন্দ্র। লোকজন আসতে শুরু হয়ে যায়। মোবাইল টা টেবিলে রাখাই ছিল। হটাত করে মোবাইল টা বেজে ওঠে। মোবাইল টা হাতে নিয়ে দেখতেই রিমির নম্বর ভেসে ওঠে স্ক্রিনে। দুর্গাপুর থেকে আসার পর, এই প্রথম ফোন করল রিমি। ভাগ্যিস এই সময় টায় ও অফিসে আছে। যদি ঘরে থাকতো তাহলে একটা বিপদ হতে পারত। দুইজন কাস্টমার ছিল সেই সময়ে অফিসে। ওদের সামনে কথা বলা ঠিক হবে না ভেবে ফোন টা উঠিয়েই বলে দেয়, “রিমি একটু অপেক্ষা কর, আমি অফিসে আছি, এখনিই ফোন করছি তোমাকে”, বলে ফোন টা কেটে দেয় ইন্দ্র। ওই দুইজন কাস্টমার কে বিদায় করেই, তড়িঘড়ি করে রিমিকে ফোন করে ইন্দ্র। ইন্দ্র- হ্যালো, শুনতে পারছ রিমি...... কেমন আছ তুমি? সব কিছু ঠিকঠাক আছে তো? আমি ওখান থেকে আসার পর এই প্রথম কথা হচ্ছে তোমার সাথে। আমার ম্যাসেজ পেয়েছিলে তো। রিমি- হমমম...... ভালোই আছি আমি। খুব ভালো আছি বলতে পারো। আমার কথা তো তুমি এখন ভুলেই যাবে। এসে গেছে নিশ্চয়, যার আজকে আসার কথা ছিল। ইন্দ্র- না না এমন করে কেন বলছ তুমি? আমি কি তোমাকে ভুলতে পারি? এক মুহূর্তের জন্য ভুলিনি। ভোলা কি সম্ভব? তুমি কি ভুলতে পারবে আমাকে? মানুষ আর একজন মানুষের এত কাছে আসার পর কখনো ভোলা যায় না। এমন করে বলে আমার কষ্ট টা আরও বাড়িয়ে দিও না তুমি। রিমি-কষ্ট ভোলানোর মানুষকে তো তুমি নিয়ে এসেছ নিজের কাছে। এখন তো আমার দরকার ফুরিয়ে গেছে তোমার কাছে। তুমি কি করে বুঝবে, আমার কেমন করে দিন কাটছে। ইন্দ্র- কিছু জরুরি কথা আগে বলে নি তোমাকে। আশাকরি তুমি ভুল বুঝবে না। তুমি আমাকে নিজের থেকে ফোন  না একদম। তেমন জরুরি কিছু বলার থাকলে, অনলাইনে ম্যাসেজ করে দেবে। আমি তোমাকে ঠিক সময়ে ফোন করে নেব। চিন্তা করবে না একদম। ফোন আমি তোমাকে করবই। তোমার ওইদিকে সব কিছু ঠিক আছে তো? তোমার উনি কিছু জিজ্ঞেস করেছিলেন নাকি? কেমন মনোভাব ওনার, একটু জানার চেষ্টা করো তুমি। রিমি- ঠিক আছে, তুমি যেমন বলছ, তেমনি হবে। নিজের থেকে আমি ফোন করবো না। কিন্তু তোমার ফোন আসা চাই। আমি তোমার গলার আওয়াজ না শুনে থাকতে পারব না। এতা জেনে রাখ। আর হ্যাঁ, আমার এইদিকে সব ঠিক আছে। আমার বর কে নিয়ে চিন্তা করো না। উনি যেমন ছিলেন তেমনই আছেন আর থাকবেন। ভালো লেগেছে তোমাকে। আর যদি কিছু অন্যথা চিন্তা করেন, তাহলেও সেটা মুখ ফুটে বলার ক্ষমতা নেই ওনার। তাই তুমি তোমার সুবিধা আর সময় মতন ফোন করো আমাকে। আমার কোনও অসুবিধা হবে না। ইন্দ্র- তাহলে ঠিক আছে। তবে আমরা দুইজনেই সাবধান থাকবো। আমিও তোমাকে হারাতে চাই না রিমি। সবে খোলা জানালা দিয়ে স্নিগ্ধ শীতল বাতাস আসতে শুরু করেছে। জানালা বন্ধ হতে দেওয়া চলবে না। বাইরে একবার যাব তোমাকে নিয়ে। একটা কথা বলে রাখি, কিছুদিন পড়ে আমাকে মালদা যেতে হবে নিজের কাজে। মাস খানেক পড়ে, যাবে তুমি আমার সাথে? সময় হলে সব কিছু বলব তোমাকে, এখন রাখছি। একটু কাজ আছে সেইগুলো শেষ করতে হবে। কথা গুলো বলে ফোন টা কেটে দেয় ইন্দ্র। রিমির সাথে অনেকক্ষণ কথা বলে মনটা ফুরফুরে হয়ে যায় ইন্দ্রর। অনেকটা চাপ মুক্ত মনে হয় নিজেকে। অফিস থেকে একটু বাইরে বেড়িয়ে খোলা হাওয়ায় কয়েকবার দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে একটা সিগারেট ঠোঁটে ঝুলিয়ে তাতে অগ্নিসংযোগ করে। মাথায় নানা ধরনের চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে। একদিকে রিমির উন্মত্ত প্রেম অন্যদিকে সুমিত্রার কথায় কথায় ঝগড়া, তর্ক, তিরস্কার, অপমান.........আরেকদিকে তাঁর সন্তান বুম্বা, বুম্বার ভবিষ্যৎ, আরেকদিকে তাঁর অসুস্থ বাবা, সাথে মা। সব কিছুর কেন্দ্র বিন্দুতে শুধু একজন, ইন্দ্রজিত সিংহ। কোন দিকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত তার? এতদিন অব্দি সুমিত্রা অবহেলা করে এসেছে তাকে। আজ কিন্তু একটু অন্যরকম মনে হল সুমিত্রা কে। কিন্তু আজকের আগেও সুমিত্রা তাঁর থেকে কথা বার করার জন্য এমন ভাবে সাময়িক একটু ভালো ব্যবহার করেছে। তারপর আবার তার উদ্দেশ্য সিদ্ধি হওয়ার পর সেই আগের মেজাজে ফিরে গেছে। তাই সুমিত্রার এমন মিষ্টি ব্যাবহার যে সাময়িক, সেটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা না ইন্দ্রজিতের। সাবধান হতে হবে আরও। নিজেকে নিজে সতর্ক করে দেয় ইন্দ্রজিত।  
Parent