বাংলা গল্প- লালপট্টি - অধ্যায় ৪৯
দেখতে দেখতে এক বছর কেটে গেল। এই এক বছরে টুকুনের জীবনযাত্রায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। সে নিয়মিত বেগম শাব্বা হাকিমের সাথে মিলিত হয়, তাদের সম্পর্ক এখন আরও গভীর ও জটিল হয়ে উঠেছে। বেগম সাহেবা টুকুনের কাছ থেকে শুধু শারীরিক তৃপ্তিই পান না, বরং তার যৌবনের স্পর্শে নিজেকে তরুণ অনুভব করেন। মাঝে মাঝে আমিশা যখন হোস্টেল থেকে বাড়ি আসে, তখন টুকুন মা-মেয়ে দুজনকেই একই বিছানায় নিয়ে সময় কাটায়, তাদের মধ্যে এক অদ্ভুত ধরনের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
বেগম শাব্বা হাকিমের জীবনও বেশ ব্যস্ততায় ভরা। টুকুনের পাশাপাশি মাঝে মাঝে দারোয়ান অমর চক্রবর্তীর সঙ্গও তিনি উপভোগ করেন। অমর তার প্রতি একনিষ্ঠ ভক্তির সাথে সেবা করে, আর বেগম সাহেবা এই সম্পর্ককে উপভোগ করেন তার নিজস্বভাবে।
ওদিকে লালপট্টির আমিনা বেগমের সাথে টুকুনের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। সপ্তাহে অন্তত একবার সে আমিনার সাথে দেখা করে। আমিনা এখন আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং সুখী। টুকুনের সান্নিধ্যে সে নিজের নারীসত্তাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছে।
লালপট্টিতে এই এক বছরে অসাধারণ পরিবর্তন এসেছে। টুকুনের ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং বেগম শাব্বা হাকিমের রাজনৈতিক প্রভাবে গ্রামটিতে একের পর এক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। টুকুনের অনুরোধে ফিরদৌস হাকিম সাহেব লালপট্টিতে একটি আধুনিক রেডিমেড গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই ফ্যাক্টরিতে গ্রামের প্রায় দুইশত মহিলা কাজ করছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে।
ফ্যাক্টরির পাশেই টুকুন শঙ্করলাল যাদবের জন্য একটি ছোট্ট খাবারের দোকান খুলে দিয়েছে। শঙ্করলাল, যে বিহার থেকে এসে কলকাতায় কাজের সন্ধানে এসেছিল, তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর ছেলেরা যখন তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। আজ শঙ্করলালের দোকানটি ফ্যাক্টরির শ্রমিক এবং গ্রামবাসীদের প্রিয় সভাস্থল হয়ে উঠেছে।
বেগম শাব্বা হাকিমের রাজনৈতিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে লালপট্টিতে একটি আধুনিক সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। টুকুন ব্যক্তিগতভাবে এই প্রকল্পগুলো তদারকি করে, নিশ্চিত করে যে সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে।
গ্রামবাসীরা এখন টুকুনকে তাদের 'অভিভাবক' হিসেবে দেখে। তারা জানে না টুকুন এবং আমিনার সম্পর্কের গভীরতা, কিন্তু তারা টুকুনের অবদানকে গভীরভাবে মূল্যায়ন করে। আমিনা এখন গ্রামের নারীদের মধ্যে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব, সে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির একজন সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করে।
ইসমাইল এখন ফ্যাক্টরির নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কাজ করে। সে এবং আমিনার সম্পর্ক আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে, কারণ ইসমাইল বুঝতে পেরেছে যে টুকুনের মাধ্যমে তার জীবন উন্নত হয়েছে। তাদের ছেলে রাশেদ এখন আরও স্বাস্থ্যবান এবং সুখী।
টুকুন এই দ্বৈত জীবন উপভোগ করে - একদিকে শহুরে পরিশীলিত জীবন, অন্যদিকে গ্রামের সরল কিন্তু পরিপূর্ণ জীবন। সে বেগম শাব্বা হাকিমের চাহিদা, আমিশার ভালোবাসা এবং আমিনার প্রত্যাশার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে শিখেছে।
বেগম শাব্বা হাকিমও টুকুনের এই সামাজিক কাজে মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি তার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে আরও প্রকল্প বাস্তবায়নে সাহায্য করছেন। এমনকি তিনি ব্যক্তিগতভাবে লালপট্টি পরিদর্শন করেছেন কয়েকবার, স্থানীয় মানুষের সাথে কথা বলেছেন।
এই এক বছরে টুকুন পরিপক্ব হয়েছে, সে বুঝতে পেরেছে যে জীবন শুধু শারীরিক তৃপ্তির জন্য নয়, বরং সম্পর্ক এবং সামাজিক দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ। সে এখন আগের চেয়ে আরও দায়িত্বশীল এবং যত্নশীল ব্যক্তি।
- চলবে