ভাঙনের পরে - অধ্যায় ২
পর্ব: ১
কলেজের গেটে দাঁড়িয়ে ফুচকাওলার সাথে ঝগড়া জুড়ে দিয়েছে ছেলেমেয়েরা। চারটের সাথে আরো ফাউ দিতে হবে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ফিজিক্সের রাগী স্যার অম্লান দত্ত ছুটির সময় কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটা দিলেন গেটের দিকে। অংশু দূর থেকে ব্যাপারটা নজর করছিল।
সুমনা সমানে বেচারা ফুচকাওলার সাথে ঝগড়া করেই চলেছে। তাল দিয়েছে পৃথ্বী। তবে কিছুটা সামাল দেবার চেষ্টা করছে দেবাশীষ। কিন্তু কে শোনে, সুমনা ফাউ নিয়েই ছাড়বে।
অম্লান দত্তের এই মুহূর্তে আগমনটা জমবে বেশ। তাই ওদের সতর্ক না করেই মজা দেখবার জন্য অপেক্ষায়মান অংশু। আচমকা পেছনে অম্লান স্যারের আগমন চমকে দিয়েছে সুমনাকে।
---কি হয়েছে? তোমরা এত ঝামেলা করছ কেন? ভারী গলায় অম্লান দত্তের গলা শুনে মিউ মিউ করতে লাগলো সুমনা।
বেচারা ফুচকাওলা বলতে লাগলো---দেখিয়ে না সার, ই ক্যায়সা মাঙ হ্যায়। চারো মিলকার এক বার ফিরি লিয়া হ্যায়, ফিরভি মাঙ রাহা হ্যায়।
অম্লান দত্ত একই রকম গম্ভীর স্বরে বললেও স্বভাবের বাইরে গিয়ে বললেন---মাঙ রাহা হ্যায় তো দে দিজিয়ে।
চমকে উঠল সুমনা, পৃথ্বী, দেবাশীষ, নেহা সকলেই। অদূরে মজা দেখবার জন্য উপস্থিত অংশুও চমকে উঠল। এ কি! অম্লান স্যার কি না বকাঝকা দেবেন, তা না করে ডিমান্ডকে ন্যায্য বলছেন!
অম্লান দত্ত অংশুকে অদূরে দেখে বলল---এই অংশুমান এদিকে আয়।
অংশু কাছে যেতেই দত্ত স্যার বললেন---তোকে তো ফুচকা খেতে কোনোদিন দেখি না। নে আমার ব্যাগটা ধর।
বলেই ফুচকাওলার কাছ থেকে শালপাতার বাটি চেয়ে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন আর বললেন---কি হল রামবিলাশ, চালু করো।
---হামরা নাম রামবিলাশ নেহি হ্যায় সার, হামার নাম খালি পাসোয়ান আছে। জগদীশ পাসোয়ান।
---ঐ যাইহোক। দাও সকলকে দাও, ফাউ-টাউ বাদ দিয়ে ওদের তৃপ্তি করে ফুচকা দাও। আর আমাকেও একটু জল কম দিয়ে দিও।
সুমনা বললে---স্যার, আপনি ওর নামও জানেন?
অম্লান দত্ত হেসে বললেন---জানবো না মানে? আমাদের পাড়ায় ও আরেকটু পর হলেই হাজির হবে। আর তোর মত আমার একটা মেয়ে আছে কিনা। এবার বোঝ...
সবাই হেসে উঠল। অংশু বলল---বুঝলাম। কিন্তু স্যার আমার কি প্রাপ্তি হল? আমি যে এতক্ষণ আপনার ব্যাগ ধরে দাঁড়িয়ে...
---ফুচকা খায় না যে তার এমনই শাস্তি হওয়া উচিত। ডাক্তারের ছেলে বলে ফুচকা খাবি না নাকি?
সবাই হেসে উঠে তাল মেলালো। অংশু ভাবলো আজ কি সে এই ফুচকা জিনিসটা খেয়ে দেখবে একবার? দিদির পাল্লায় একবার খেয়েছিল বটে, পরদিন পেট খারাপ হওয়ায় মায়ের বকা খেতে হয়েছিল দিনভর।
পৃথ্বী বলল---হ্যাঙলার মত না দাঁড়িয়ে চলে আয় অংশু। আর পেট খারাপ হলে সমস্যা কি, কলেজের তো ছুটি পড়ে গেছে।
অংশু দু' একপিস খেয়ে দেখল প্রথমে। ততক্ষনে অম্লান স্যার স্বল্প খেয়েই সেরেছেন। তিনি অংশুকে বললেন---পছন্দ না হলে খাস না। তোর আবার যদি পেট খারাপ হয়, তখন তোর বাবা-মা এসে কমপ্লেন করে দিয়ে যাবে আমার নামে।
আজ স্বভাবগত রাগী অম্লান স্যারের বন্ধুত্বপূর্ন আচরণে সকলেই মুগ্ধ। অংশু বললে---না না। বাবা তেমন কিছু বলেন না। যদি কেউ বলে থাকে, সেটা মা।
***