ভাঙনের পরে - অধ্যায় ৪০
সুচি বললে---হ্যা। ঝুমুর আর গফুর দা'র প্রেম ছিল। সে অনেক গল্প। ঝুমুরও বেশিদূর পড়া লেখা করেনি। কিন্তু বরাবরেরই সাহসী ডানপিটে মেয়ে ছিল। আর যাইহোক গফুর দা , ঝুমুর বাবার দূর সম্পর্কের বোনের মেয়ে। কখনোই বাবা মেনে নিতেন না। ঝুমুর আর গফুর দা'র প্রেমটা ধরে পড়ে গেল একদিন। সেই যে গফুর দা পালালো আর কোনো খবর নেই। ঝুমুরও চেয়েছিল গফুর দা'র সাথে পালাতে। কিন্তু গফুর দা যা বদমেজাজি, কখন যে কি করে। কি জানি কি হল ওদের মধ্যে তারপর। আমার মনে হয় ঝুমুর আত্মহত্যা করেছিল।
চমকে উঠল জয়ন্ত। ঝুমুরের মুখটা তার মনে আছে, পুজোর সময় সুচিদের বাড়ি গেলে দেখেছে সে মেয়েটাকে। সুচির খুব ঘনিষ্ট ছিল ছেলেবেলায়। মেয়েটার গায়ের রঙ সুচির ঐ আশ্রিতা দূর সম্পর্কের পিসির মত কালো। কিন্তু চোখ দুটো বেশ টানাটানা ছিল। লোকে বলত কালো মেয়ে হয়েও ঝুমুরের জন্য পাত্রের অভাব হবে না। বড্ড চঞ্চল মেয়ে ছিল ঝুমুর। সেই মেয়ে আত্মহত্যা করবে! জয়ন্তের কেমন যেন বোধগম্য হল না। যদিও বহু বছর আগের কথা, তবু সে বলল---কেন আত্মহত্যা করবে?
সুচিত্রা খানিক চুপ করে রইল। আমার মনে হয় গফুর দা আর ঝুমুরের একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। কিংবা গফুর দা না ফিরে আসায়..ঝুমুর আত্মহত্যা করেছে।
জয়ন্ত হেসে বলল---এসব তোমার অনুমান। এই গফুরের সাথে ঝুমুর বিয়ে করার চেয়ে মরে যাওয়াটই বোধ হয় ভালো হয়েছে। নাহলে এমন মাতাল, ভিখিরিকে নিয়ে সংসার করতে হত আজীবন।
সুচিত্রা বলল---গফুর দা কিন্তু এখনো ভুলতে পারেনি ঝুমুরকে। যেদিন জানতে পারে ঝুমুর মারা গেছে, সেদিন থেকে নেশভান শুরু করেছে।
জয়ন্ত সামান্য মুহূর্ত তাকালো সুচির দিকে। ওদের বাড়ির গলিমুখে এসে পড়ল গাড়িটা। বাড়ি ফিরে শাড়ি বদলে রান্নাটা চাপিয়ে স্নানে গেল সুচি। জয়ন্ত জামা কাপড় বদলে এসে বলল---সুচি স্নান হল তোমার?
সুচিত্রা বাথরুম থেকে বললে---কেন?
---চা দাও জলদি।
চলবে।