ভীমরতি - অধ্যায় ২
পর্ব - ২
উপাসনা হাউজিং কমপ্লেক্সের মোট ৬ টি টাওয়ার, ৩০০ এর কাছাকাছি ফ্ল্যাট। কী নেই এই কমপ্লেক্স এ। জিম থেকে সুইমিং পুল, কিডস পার্ক থেকে কমিউনিটি হল সবকিছু যেনো এক বাউন্ডারির ভিতরে। শহরের অভিজাত অনেক মানুষ এই আবাসনের বাসিন্দা। এখান কার দু নম্বর টাওয়ার এর চারতলায় থাকেন সুদর্শন বাবু । তার ফ্ল্যাটে দুটো বড় বড় বেডরুম,কিচেন , ডাইনিং সহ আরেকটি রুম আছে যেটাকে উনি ডার্ক রুম নাম দিয়েছেন। আসলে ওনার ফটোগ্রাফির একটু আধটু সখ আছে । সেই ফটো গুলো কে প্রসেসিং করার জন্যই ডার্ক রুমের সৃষ্টি। তাই সাধারণের সেখানে প্রবেশ নিষেধ। সেখানকার দরজা টি ও সুদর্শন বাবুর বেডরুমের ভিতর থেকেই যেতে হয়,তাই স্বাভাবিক যে সেটা সবার জন্য। ইন্টিরিয়ার ডিজাইনার দিয়ে ঘরটি এমন ভাবে সাজানো যে হঠাৎ করে ঐ ডার্ক রুমের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। ঘরটির নাম যেমন ডার্ক রুম সেখানে যা হয় সেটাও ভীষণ অন্ধকারের খেলা।এই রুমে যাদের নিয়ে সুদর্শন বাবু একবার ঢুকেছে তারা প্রত্যেকেই সুদর্শন বাবুর ভীষণ কাছের। কতটা কাছের ????? সেটা জানানোর জন্যই এই গল্পের অবতরণ.......
সুদর্শন বাবুর ফ্ল্যাটের ঠিক উপরের ফ্লোরে থাকেন মিসেস মধুজা গুপ্ত ও তার পরিবার। এখানে ওনার স্বামীর নাম না বলে ওনার নাম বললাম কারণ খাতায় কলমে স্বামী পরিবারের প্রধান হলেও পুরো পরিবার ওনার কথায় ওঠে বসে। ওনার ৫২ বছর বয়সের স্বামী ইমপোর্ট এক্সপোর্ট এর বিজনেস করে। বাড়ির তুলনার বাইরে বাইরে যার বছরের বেশিটা সময় কাটে।বছর ৪৪ এর মধুজা দেবী দুটি কন্যা সন্তানের জননী । বড় মেয়েটি সদ্য কলেজে উঠেছে আর ছোটটি তার থেকে দুবছর কম। মধুজা দেবী শক্ত হাতে সংসার টা ধরে রেখেছে। তার অনুমতি ছাড়া সংসারের একটি পাতাও নড়ে না।মেয়েদের দিকে তার কড়া নজর । স্বামী সংসার নিয়ে উদাসীন থাকলেও তিনি মেয়ে দুটো কে নজরে নজরে রাখেন যাতে তারা বিপথগামী না হয়। শহরের একটি মল এ তার বুটিক শপ রয়েছে। বুটিক আর মেয়েরাই তার জীবন। সাড়ে ৫ ফুট উচ্চতা মধূজা দেবীর । ৩৬ সাইজের বুক আর ৪০ সাইজের পাছা। উচ্চতার সাথে একেবারে মানান সই। সুন্দরী গতরওয়ালি হিসেবে মধুজা দেবী সেরা একটা মাল।উপসনা হাউজিং কমপ্লেক্সের মধ্যে শুধুমাত্র ফিগারের জন্যই মধুজা দেবী সবার চোখের মণি । কিন্তু দুর্ভাগ্য যে ওনার রাশভারী মেজাজের জন্য ধারে কাছে কেউ ঘেঁষতে পারে না।
এবার আসি গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র মৌলির কথায়....সেই এ গল্পের নায়িকা ।মৌলি সদ্য কলেজে উঠেছে । দুমাস হলো সে সাবালিকা হয়েছে। কলেজে উঠলেও সে সব সময় মায়ের চাপে হোক বা শাসনে ,পাখা মেলে উড়তে পারে নি। মনে মনে খুব ইচ্ছে সমবয়সী অন্য বান্ধবী দের মতো একটু খোলা আকাশের নিচে বাঁচবে কিন্তু ওই যে মায়ের কড়া দৃষ্টি। যদিও কলেজে ওঠার পর সেই দৃষ্টি একটু শিথিল হয়েছে।নতুন একটা মোবাইল পেয়েছে । মায়ের নজর এড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছদ্ম নামে অ্যাকাউন্ট খুলেছে।টুকটাক রিল তৈরি করছে। সমবয়সী মেয়ে ও ছেলে দের প্রশংসা পাচ্ছে। এতেই এখন সে ভীষণ খুশি। মায়ের কথা র অবাধ্য না হয়েই।কলেজে যাচ্ছে ,,,বন্ধুদের সাথে গল্প করছে,,, আবার বাড়িতে সময় মতো ফিরছে। এমন ই একদিন..........