ছাইচাপা আগুন ।।কামদেব - অধ্যায় ৮৮
।।৮৮।।
কদিন আগে চারুলতা সল্টলেক ঘুরে এলেন।নাম ফলকে নামগুলো পড়ে দেখলেন, বিজন চৌধুরীর নাম নেই।বাড়ীটা তো জামাইবাবুই কিনেছেন।কৌতুককর মনে হয় চারুলতার।খোকন এসে ভিতরে নিয়ে গেল।সুন্দর চেহারা হয়েছে বড়দির ছেলেটার।রোহিতের চেয়ে কয়েক বছরের বড়।ওকে হাসপাতালে যেতে হবে সেজন্য বেশিক্ষন থাকতে পারেনি। পুটিমাসী ছুটির দিন দেখে একদিন এসো, খোকন বলল।চারুলতা বললেন,আমি তো এলাম এবার তোরা একদিন আয়।
--বেলি আসতে পারতো।রমি বলল।
--ওর কলেজ আছে না।
রমি খুব বুদ্ধিমতী গোছানো মেয়ে।সুন্দর করে সাজিয়েছে বাড়ীটা।দাড়িয়ে থেকে ওই বাড়ীটা সংস্কার করিয়েছে বেলির কাছে শুনেছে।
খোকন চলে যাবার পর অনেক্ষন গল্প হল রমির সঙ্গে।বেলির জন্য নাকি ছেলে ঠিক করেছে।বৌদি হিসেবে করতেই পারে।চারুলতা মনে মনে হাসেন।অঞ্চলটা বেশ নিরিবিলি,সিমলার মত নয়।জামাইবাবু কাউকে বলতে মানা করেছে।বড়দিও জানে না।এতদিন পর ছেলেটা এল,বড়দির জন্য খারাপ লাগে।শুনেছেন খোকন ছিল না তখন তাল্পুকুরে পড়ে থাকতো। সবাই একসঙ্গে থাকতে কত ভালো লাগতো এখন মানুষের রুচি পছন্দ অনেক বদলে গেছে।সবাই আলাদা আলাদা থাকতে চায়।
সুরমাকে চা নিয়ে ঢুকতে দেখে বিছানায় উঠে বসলেন,হাত বাড়িয়ে চায়ের কাপ নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,বেলি উঠেছে?
--স্নানে গেছে।
স্নানে গেছে এত সকাল সকাল?চারুলতা চোখ তুলে তাকালেন।সুরমা বলল,ভাত রান্না করতে মানা করল,কোথায় যেন যাবে।
চারুলতার মনে পড়ল, কিভাবে কোথা দিয়ে ছটা মাস পেরিয়ে গেল।বড়দির সঙ্গে কোনো মিল নেই মেয়েটার।কথায় কথায় রেগে যায় বড়দি।কিন্তু মেয়েটা হয়েছে অন্য রকম, চঞ্চলতা বেলির খোলস আসলে ও খুব ধীর স্থির।
প্রজ্ঞা স্নান সেরে ঢুকে বলল,মাসী চা দাও।
সুরমা হেসে ফেলে।
--হাসছো কেন?
--না তুমি কখনো বলো মাসী কখনো পিসী--।
প্রজ্ঞা হাসল বলল,মাসীটাই আমার পছন্দ।পুটিমাসীর থেকে আলাদা করতে তোমাকে পিসি বলি।
--পিসিই ভাল,তুমি যাও চা নিয়ে এসো।চারুলতা বললেন।
প্রজ্ঞা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল বিন্যস্ত করতে থাকে।চারুলতা মুগ্ধ হয়ে বোনঝিকে দেখতে থাকেন।কিযে করে কিযে ভাবে মেয়েটার তল পাওয়া মুষ্কিল।চারুলতা জিজ্ঞেস করেন,এত সকাল সকাল স্নান করলি?
--বাঃ তোমাকে বললাম না--।
--কলেজ যাবি না?
--দেখি অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা।
পিসি চা দিয়ে গেল।
জানলার ধারে বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকে মনসিজ।ট্রেন প্লাট ফরমে ঢুকছে।বাঙ্কে শুয়ে থাকা রঞ্জিতা জিজ্ঞেস করল,কোন স্টেশন?
মনসিজ উপরে তাকিয়ে দেখে বলল,শ্রীরামপুর।এতক্ষনে ঘুম ভেঙ্গেছে?
উড়ূনিটা বুকে জড়িয়ে ব্যাংক হতে নীচে নেমে বলল,কাল পুরিরাত বহুত জ্বালায়া আপকো?
সদ্য ঘুম ভাঙ্গা চোখমুখ ফোলা ফোলা বেশ লাগছে দেখতে।মনসিজ বলল,জ্বালাবার কি হল?আর আধ ঘণ্টার মধ্যে মনে হয় পৌছে যাব।
--ব্যাস রঞ্জিতা কো ফির কভি আপকো ছিড়নে কা মৌকা নহী মিলেগা।
--ঠিকই আর তো আমাদের দেখা হবার সুযোগ নেই।
--আগার কোই রাস্তা হ্যায়।ওহো আপকা নম্বর নহি লিয়া গয়া হৈ মুঝে নম্বর বাতাও।
ভদ্রতার খাতিরে মনসিজ মোবাইল নম্বর দিল।রঞ্জিতা নম্বরটা সেট করে বলল,যব মৈ মৌসীকা ঘর পৌহুছুঙ্গা তো আপকো ফোন করুঙ্গা।
--মাসীর বাসায় এই প্রথম যাচ্ছেন?
--নহি মৈ আপনি মাঁ কে সাথ এক বার আয়া থা জব মৈ ছোটা থা।ম্যায়নে কলকাত্তাকে চিড়িয়াঘর দেখা।
--আপনার মাসী বরাবর কলকাতায় আছেন?
--আলিপুর মৌসীকে সসুর কা ঘর শাদিকে বাদ সে য়েহি হ্যায়।
দুন এক্সপ্রেস ঢুকছে ঘোষণা হতেই প্রজ্ঞা সজাগ হয়।ভীড়ের মধ্যে চঞ্চলতা লক্ষিত হয়।প্রজ্ঞার বুকের মধ্যে দপদপানি শুরু হয়েছে।ট্রেন ঢুকতেই পিল পিল করে লোক নামতে থাকে।ভীড়ের মধ্যে প্রজ্ঞার চোখ খুজতে খুজতে নজরে পড়ল মাস্তান একজন মহিলার লগেজ নামিয়ে দিচ্ছে।বেশি পরোপকার দেখাচ্ছি মজা।ওরা দুজনে পাশাপাশি হাটতে হাটতে এগিয়ে আসছে।মুখ গোমড়া করে দাঁড়িয়ে আছে প্রজ্ঞা।মাস্তানকে ডাকবে না দেখি ও কী করে।মনসিজের ঠিক নজরে পড়ে কাছে এসে মহিলাকে বলল,এই আমার ওয়াইফ।
--আপনে শাদিসুদা কহা নেহি।
মনসিজ বোকার মত হাসে।রঞ্জিতার মুখের খুশির আলো নিভে গেল বলল,ওকে বাই।তারপর ট্রলিব্যাগ টানতে টানতে হন হন করে এগিয়ে গেল।
প্রজ্ঞা বিষয়টা উপভোগ করে।হাটতে হাটতে মনসিজ বলল,উহুপ্স এতদিন পর কি যে ভাল লাগছে।বেলি মা কেমন আছে?
--ভাল।বিয়ে করেছিস না বলে ভাল করেছিস।
--কেন এতে ভালর কি হল?
--বললে ঐ মহিলা তোর কাছে ঘেষতো না।
--তবে কি ট্রেনের সবাইকে বলল ভাইসব আমি বিয়ে করেছি।
--তোকে কি বললাম,বিয়ে করেছিস কাউকে বলবি না।
--কেন বলব না কেন?
একটা ট্যক্সি পেয়ে উঠতে উঠতে বলল,আমাদের বিয়ের কথা কাউকে বলতে চাই না।
মনসিজ অবাক হয় কিছুক্ষন ভেবে বলল,বেলি যে কাজ বলতে লজ্জা হয় সেকাজ না করলেই ভাল।
মস্তানের সেণ্টিমেণ্টে লেগে গেছে ভেবেচিল বাসায় ফিরে বলবে।কিন্তু ওর প্যাচা মুখ দেখে মায়া হল।বাপির সঙ্গে কি কথা হয়েছে সংক্ষেপে ওকে বুঝিয়ে বলে।
বিজন চৌধুরী সম্মত হয়েছেন মনসিজের মুখে কথা সরেনা।সত্যি বেলির অসাধ্য কিছু নেই।
প্রজ্ঞা জিজ্ঞেস করল,কি ভাবছিস?
--ভাবছি তুমি না থাকলে আমার কিযে হত।
--কোথায় পোস্টিং হল বললি নাতো?
--রাইটার্সে গিয়ে রিপোর্ট করতে হবে।ওখান থেকেই বলবে।ভাবছি আজ আর যাব না কাল যাব।