ছায়ার আড়ালে আগুন -Crime Thriller [Part-3: অন্ধকারের অধিশ্বর] - অধ্যায় ১১
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৩: অন্ধকারের অধীশ্বর)
একাদশ পরিচ্ছেদ: দায়িত্বের ভার
খিদিরপুরের পুরনো গোডাউনের ভিতরের বড় ঘরে ধোঁয়া ও টেনশনের গন্ধ ভাসছে। এসি চলছে, তবু ঘরের বাতাস ভারী। অংশুমান একটা লম্বা টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তার সামনে ১০-১২ জন সাগরেদ — কেউ বসে, কেউ দাঁড়িয়ে। সবার মুখে চিন্তার ছাপ।
অংশুমান একটা ম্যাপের উপর আঙুল রেখে বলছিল,
“শুনুন ভালো করে। মাল এখন মালদার গোপন গুদামে আটকে আছে। কাল রাতের মধ্যে তিনটে ট্রাকে করে খিদিরপুরে নিয়ে আসতে হবে। রাস্তায় কোনো চেকপোস্টে সমস্যা হলে আমার নাম বলবেন। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই মাল খোলা যাবে না। বুঝেছেন?”
চম্পার এক পুরোনো সাগরেদ মাথা চুলকে বলল,
“স্যার, চম্পা ম্যাডামের আমলে এত সমস্যা হতো না। এখন লোকজন ভয় পাচ্ছে।”
অংশুমান কঠিন গলায় বলল,
“চম্পা আর নেই। এখন রুবিনা ম্যাডামের নির্দেশ। যা বলছি তাই করুন। দেরি হলে কেউ ছাড় পাবে না।”
এমন সময় তার মোবাইল বেজে উঠল। স্ক্রিনে নাম দেখে তার ভুরু কুঁচকে গেল।
বিন্দুবালা দেবী।
অংশুমান সাগরেদদের বলল,
“আপনারা বাইরে অপেক্ষা করুন। আমি আসছি।”
সবাই বেরিয়ে যাওয়ার পর সে ফোনটা কানে তুলল।
“বলুন।”
বিন্দুবালার গলা অন্যদিনের মতো জোরালো নয়, বরং কিছুটা বিরক্ত।
“অংশুমান, শাসকদলের লোকজন আমাকে টিকিট দিতে চাইছে না। বিরোধী পার্টিও একই কথা বলছে। সবাই আমাকে ভয় পায়। ঠিক আছে… আমি নির্দল হয়ে লড়ব। এবার তুমি আমার প্রচারের পুরো দায়িত্ব নাও। কাল থেকেই শুরু করো।”
অংশুমান এক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর ধীর গলায় বলল,
“মাসি, এখন থানায় খুব চাপ। এক সপ্তাহের মধ্যে অনেকগুলো কেস সামলাতে হবে। এক সপ্তাহ পর থেকে আমি পুরোপুরি আপনার প্রচারের দায়িত্ব নেব।”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। তারপর বিন্দুবালা হালকা হেসে বলল,
“ঠিক আছে। এক সপ্তাহ। কিন্তু তারপর আর কোনো অজুহাত চলবে না। তুমি এখন আমার লোক। মনে রেখো।”
ফোন কেটে গেল।
অংশুমান ফোনটা টেবিলে রেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর আবার সাগরেদদের ডেকে পাঠাল।
“যেখানে থেমেছিলাম, সেখান থেকে শুরু করি। মালের রুট চেঞ্জ করতে হবে। পুলিশের চেকপোস্ট এড়িয়ে যেতে হবে।”
সে আবার ম্যাপের উপর ঝুঁকে পড়ল। তার কণ্ঠস্বর কঠিন, কিন্তু চোখে একটা অস্থিরতা।
বাইরে বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে।