ছায়ার আড়ালে আগুন -Crime Thriller [Part-3: অন্ধকারের অধিশ্বর] - অধ্যায় ৪২

Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-71326-post-6235109.html#pid6235109

Posted on Tue Jun 09 2026 by indonetguru (Profile)

319 words / 1 min read

Parent
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৩: অন্ধকারের অধীশ্বর)  বিয়াল্লিশতম পরিচ্ছেদ: নমিনেশনের দিন দুপুর বেলা টালিগঞ্জের রাস্তায় ঢোলের আওয়াজ ছড়িয়ে পড়ল। গন একতা পার্টির পক্ষ থেকে রানি সামন্ত তার নমিনেশন দাখিল করতে গেলেন। পার্টির সাগরেদরা সাদা রঙের জামা-কাপড় পরে ঢোল বাজাতে বাজাতে, নাচতে নাচতে রানির গাড়ির সামনে এগোচ্ছিল। রানি একটা সুতির শাড়ি পরে গাড়িতে বসে ছিলেন। তাঁর মুখে একটা শান্ত, কিন্তু দৃঢ় অভিব্যক্তি। নমিনেশন জমা দেওয়ার পর পার্টির কর্মীরা ফুলের মালা দিয়ে রানিকে বরণ করে নিল। কয়েকজন মহিলা কর্মী উলু দিতে দিতে চারপাশে ঘুরছিলেন। ঢোলের আওয়াজে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে উঠেছিল। নমিনেশন শেষে সাগরেদরা আবার ঢোল বাজিয়ে, নাচতে নাচতে বাড়ি ফিরে গেল। রানি চুপচাপ গাড়িতে উঠে পড়লেন। তাঁর চোখে কোনো উচ্ছ্বাস ছিল না, শুধু একটা গভীর চিন্তা। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা। শহরের বেশিরভাগ বাড়িতে টিভির পর্দায় নমিনেশনের পুরো লিস্ট দেখানো হচ্ছিল। স্থানীয় নিউজ চ্যানেলে অ্যাঙ্কর একের পর এক প্রার্থীর নাম ও প্রতীক ঘোষণা করছিলেন। “শাসক দল অখিল বঙ্গ গন পরিষদের পক্ষ থেকে টালিগঞ্জ বিধানসভা আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও এনজিও পরিচালিকা মিতালি সেন। তাঁর প্রতীক — হুইসেল।” পর্দায় মিতালি সেনের একটা ছবি দেখানো হল। শাড়ি পরা, চুলে স্টেপকাট, মুখে হালকা হাসি। “অল ইন্ডিয়া পিপুলস রেড ফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রার্থী হয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জগন্নাথ গাঙ্গুলী। তাঁর প্রতীক — কোদাল।” “গন একতা পার্টির পক্ষ থেকে প্রার্থী হয়েছেন রানি সামন্ত। তাঁর প্রতীক — ঢোল।” অন্যান্য ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নামও একের পর এক উঠছিল। মানুষের চোখে-মুখে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ মিতালি সেনের নাম শুনে মাথা নেড়ে বলছিল, “এবার তো লড়াই হবে।” আবার কেউ কেউ রানির নাম শুনে হাসছিল। কিন্তু একটা নাম পর্দায় উঠলেও বেশিরভাগ মানুষের চোখ এড়িয়ে গেল। “স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নমিনেশন দিয়েছেন রুবিনা বেগম। তাঁর প্রতীক — তালাচাবি।” পর্দায় রুবিনার নামটা খুব সংক্ষেপে উঠে এসে আবার চলে গেল। কেউ খেয়াল করল না। কেউ আলোচনা করল না। শুধু একটা নাম — রুবিনা বেগম। ঘরের ভিতরে অংশুমান টিভির দিকে তাকিয়ে ছিল। সে চুপ করে বসে রইল। তার মুখে কোনো অভিব্যক্তি ফুটে উঠল না। কিন্তু তার চোখে একটা অদ্ভুত প্রসন্নতা দেখা গেল।
Parent