ছায়ার আড়ালে আগুন-Erotic Thriller [Part-4: অন্তিম যুদ্ধ] - অধ্যায় ৫০

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-74238-post-6282324.html#pid6282324

🕰️ Posted on Fri Aug 07 2026 by ✍️ indonetguru (Profile)

🏷️ Tags:
📖 468 words / 2 min read

Parent
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৪: অন্তিম যুদ্ধ) পঞ্চাশ পরিচ্ছেদ: প্রথম আলাপ কেবিনের আধোঅন্ধকারে রোশনী সূর্যের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। ক্লাবের মিউজিক দূরে গুঞ্জন তুলছিল। টেবিলের উপর রাখা পানীয়ের গ্লাস দুটো অস্পৃষ্টই ছিল। রোশনী এক চুমুকও নেননি। সূর্য একটু এগিয়ে এসে বললেন, “আপনি আমাকে বিশ্বাস করছেন না। এটা স্বাভাবিক। আমিও হঠাৎ করে আপনার সামনে এসেছি। কিন্তু আমি মিথ্যা বলছি না। আপনার আম্মির মৃত্যুর পর আমি কিছু খোঁজখবর নিয়েছি। অংশুমানের গাড়ির সার্ভিসিং রেকর্ড, কিছু ফোন কলের লগ… সবকিছু পরিষ্কার নয়।” রোশনীর ভ্রু কুঁচকে গেল। “আপনি কী পেয়েছেন?” সূর্য মাথা নাড়লেন। “আজ সব খুলে বলব না। আপনি যদি আমাকে একটু সময় দেন, আমি আপনাকে প্রমাণসহ দেখাব। শুধু একটা কথা মনে রাখবেন— অংশুমান একা নয়। তার মা মিতালি সেনও এই খেলার অংশ। আপনার আম্মি মন্ত্রী হওয়ার পর মিতালি সেনের অনেক হিসাব নষ্ট হয়েছিল। ক্ষমতার লড়াইয়ে আপনার আম্মি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।” রোশনী চুপচাপ শুনছিলেন। তার বুকের ভেতরটা ধড়ফড় করছিল। সূর্যের প্রতিটি কথা তার মনের সন্দেহকে আরও মজবুত করছিল। অংশুমানের প্রতি যে ক্ষোভ জন্মেছিল, তা এখন আরও তীব্র হয়ে উঠছিল। “আপনি কেন আমাকে বলছেন এসব?” রোশনী জিজ্ঞেস করলেন। “আপনার স্বার্থ কী?” সূর্য হেসে উঠলেন। হাসিটা পুরোপুরি আন্তরিক ছিল না। “আমার স্বার্থ আছে। অংশুমান আর মিতালি সেন আমার পথেও কাঁটা। আপনার আম্মির মৃত্যু যদি সত্যিই পরিকল্পিত হয়, তাহলে আমরা দুজনেই ক্ষতিগ্রস্ত। আপনি সত্য জানতে চান, আমিও চাই অংশুমানকে কোণঠাসা করতে। আমাদের স্বার্থ এক জায়গায় মিলেছে।” রোশনী পেছনে হেলান দিয়ে বসলেন। হি-জাবের নিচ থেকে তার চোখ দুটো সূর্যের মুখ স্ক্যান করছিল। তিনি বুঝতে পারছিলেন— এই মানুষটা ব্যবহার করতে চাইছে। কিন্তু একই সাথে তিনিও জানতে চাইছিলেন মায়ের মৃত্যুর সত্যি। “আচ্ছা,” রোশনী আস্তে করে বললেন। “ধরুন আমি আপনার কথা শুনলাম। তারপর?” সূর্য টেবিলের উপর আঙুল দিয়ে টোকা দিলেন। “তারপর আমরা একসঙ্গে কাজ করব। আমি আপনাকে তথ্য দেব, আপনি আমাকে কিছু সাহায্য করবেন। আপনার আম্মির নামে যে সম্পত্তি ও প্রভাব আছে, সেগুলো কাজে লাগানো যায়। আর অংশুমানের দুর্বলতাগুলো আমি জানি।” রোশনী চুপ করে রইলেন। ক্লাবের আলো তার মুখে পড়ে টুকরো টুকরো ছায়া তৈরি করছিল। তিনি জানতেন, এই মানুষটার সাথে হাত মেলানো মানে একটা নতুন খপ্পরে পা দেওয়া। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর ক্ষোভ এখন তাকে ঠান্ডাভাবে ভাবতে বাধ্য করছিল। “আমি ভাবব,” রোশনী শেষে বললেন। “আজ আর নয়। আপনি যদি সত্যি কিছু জানেন, তাহলে পরের দেখায় প্রমাণ নিয়ে আসবেন।” সূর্য মাথা নাড়লেন। “ঠিক আছে। আমি তাড়া করছি না। আপনার নাম্বার আমার কাছে আছে। প্রয়োজন হলে ফোন করব।” রোশনী উঠে দাঁড়ালেন। সূর্যও উঠলেন। তিনি রোশনীর দিকে তাকিয়ে বললেন, “সাবধানে যাবেন। কাউকে আপাতত কিছু বলবেন না।” রোশনী কোনো জবাব না দিয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেলেন। ক্লাবের ভিড়ের মধ্য দিয়ে হেঁটে বাইরে এসে গভীর শ্বাস নিলেন। রাতের বাতাস তার মুখে লাগল। বুকের ভেতরটা এখনো কাঁপছিল। তিনি জানতেন, আজকের এই দেখা শুধু শুরু। সূর্য মন্ডল তাকে একটা পথে টেনে নিয়ে যেতে চাইছে। আর তিনি নিজেও হয়তো সেই পথে পা বাড়াবেন— মায়ের মৃত্যুর সত্যি জানার জন্য। গাড়িতে উঠে তিনি চোখ বন্ধ করলেন। মনে শুধু একটা কথা ঘুরছিল— অংশুমান… তুই যদি সত্যিই মায়ের ক্ষতি করে থাকিস, আমি ছাড়ব না।
Parent