ছায়া - অধ্যায় ১

Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-57374-post-5337626.html#pid5337626

Posted on Sun Aug 27 2023 by Rupuk 8 (Profile)

1508 words / 7 min read

Parent
***ছায়া *** উপন্যাসে ব্যবহৃত সমস্ত নাম, চরিত্র এবং স্থান  সম্পূর্ণ কাল্পনিক ভাবে লেখা বাস্তব জগতের  সাথে এর কোনো  মিল বা অস্তিত্ব নেই। পর্ব -১ মানুষের জীবন খুব অদ্ভুত। যেখানের আঁকে-বাঁকে ভরপুর বিচিত্রতা। আর এই বিচিত্র জীবনে ঘটে অসংখ্য সব বিচিত্র ঘটনা। হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, দুঃখ-সুখ, ভালো-মন্দের মিশেলে এগিয়ে চলে জীবন খরস্রোতা নদীর মতো। কখনো মুক্ত পাখির মতো, কখনওবা চুপসে যাওয়া ফুলের মতো। হারিয়ে যায় কত চেনা মুখ, কতশত স্মৃতি। নীল নীলিমায় দূরে কোথায় মন যে হারায় ব্যাকুলতায়।  ছায়া মুখার্জি একটি হাইস্কুলের গনিতের বিভাগের সিনিয়র শিক্ষিকা হিসেবে রয়েছে। তার বয়স ৩৯ বছর গায়ের রং  ধবধবে ফর্সা, হাইট ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি,  পেটের উপরে হালকা মেদ জমেছে, যেটা তাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তার স্বামীর বয়স ৫৩ বছর পেশায়  একজন তিনি বিজনেসম্যান। ছায়া কলেজে পড়া অবস্থায় ছায়ার কলেজের বাংলার বিভাগের একজন শিক্ষিকা হিসেবে চাকরি করছিল, শমিক বাবুর বড় দিদি আলিয়া মুখার্জি । ছায়া দেখতে যেমন অপরূপ সুন্দরী ছিলো সাথে আচার-ব্যবহার সবার থেকে মার্জিত হওয়ায়, শমিক বাবুর বড় দিদি ছায়াকে অনেক পছন্দ হয়ে যায়। তিনি তার ছোট ভাইয়ের জন্য ছায়াকে বউ হিসেবে করার সিন্ধান্ত নেয়, তার পরিবারের সাথে কথা বলে ছায়ার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়। বিয়েতে ছায়ার অমত থাকা সত্ত্বেও, ছায়ার পরিবার মধ্যবৃত্ত  আর শমিক বাবুর  বনেদী ব্যবসায়িক পরিবার তাই বিয়ের প্রস্তাব আর ফিরাতেপারেনি ছায়ার মা-বাবা। ছায়া মা-বাবা কথায় শেষ পযন্ত শমিক বাবুর সাথে বিয়ে করতে রাজি হয় তাদের দুজনের ২২ বছরের সংসার জীবনে তারা নিঃসন্তান দম্পতি।ছায়া অনেক বার শমিক বাবুকে বলেছেন। চল আমরা কোনো ডাক্তার দেখাই কিন্তু শমিক বাবু ডাক্তারের কাছে যেতে রাজি হয় না, শমিক বাবু বলেন হলে এমনিতে হবে। ডাক্তারের কাছে গিয়ে কিছুই হবে না সময় নষ্ট ছাড়া।সন্তান হওয়া নিয়ে শমিক বাবুর কোনো মাথা নেই, সে তার বিজনেস নিয়ে  সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে।    শমিক বাবুর গ্রামের দূর সম্পর্কের একটা জেঠাতো ভাইয়ের ছেলে, তাদের বাসায় থেকে পড়াশোনা  করছে।  নাম মাহীন বয়স ১৭ বছর কলেজে পড়ে এবার ইন্টারমিডিয়েট  পরীক্ষা দিবে। স্কুলে যেমন সারাদিন তার সব শিক্ষাথীদের শাসন করে। বাড়িতে মাহীনকে বেশ শাসন করে ছায়া। মাহীনের ভবিষ্যতের ভালো জন্য ছায়া মাঝে মধ্যে বকাবকি করে। ছায়া চায় মাহীন ভালো একটা রেজাল্ট করুক মানুষের মতো মানুষ হোক। ছায়া প্রচন্ড একটা রাগী মানুষ কোনো রকম অন্যায় বদস্ত করে না সে। ছায়ার কাজে সাহায্য করার জন্য সুপ্রিয়া নামে একটা মেয়ে আসে প্রতিদিন বাসায়। শমিক বিজনেসের কাজে সারা মাসে প্রায় দিন বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয় প্রচুর ব্যস্ত থাকে তিনি।  আজকে মাহীনের প্রি-টেস্টর রেজাল্ট বের হয়েছে। মাহীনের ক্লাস টিচার দেবনাথ বড়ই ছায়াকে ফোন করলো। হ্যালো ম্যাডাম। আমি মাহীনের ক্লাস টিচার বলছি। হ্যা বলুন স্যার। ম্যাডাম আজকে তো মাহীনের প্রি-টেস্টর রেজাল্ট বের হয়েছে। হ্যা ওর রেজাল্ট কেমন করছে? মাহীনের তো ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান, কম্পিউটার, গনিত,  রসায়ন , জীববিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয় গুলোতে ফেল করেছে। আপনি মাহীনের লোকাল গার্জেন হিসেবে রয়েছেন।তাই বেপার টা আপনাকে ইনফর্ম করলাম।কি বললেন। বাংলাতে পাস করছে কোনো রকমে এই আরকি।ম্যাডাম টেস্ট পরীক্ষায় কিন্তু মাহীনকে সকল বিষয়ে কৃতকার্য হতে হবে। নাহলে মাহীন বোর্ড পরীক্ষা দিতে পারবে না। কলেজ কমিটি এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোনো শিক্ষাথী টেস্ট পরীক্ষায় যদি সকল বিষয়ে কৃতকার্য না হয় তাহলে বোর্ডের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। ম্যাডাম আপনি নিজেও তো একজন শিক্ষিকা ভালো করেই বুঝতে পারছেন মাহীনের অবস্থা। আমি আশা করছি মাহীন টেস্ট পরীক্ষায় সকল বিষয়ে কৃতকার্য হবে। স্যার আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো আমার বিশ্বাস মাহীন টেস্ট পরীক্ষায় সকল বিষয়ে কৃতকার্য হবে। আমাদের কলেজের একটা সুনাম রয়েছে তাই আমরা সুনাম বজায় রাখার চেষ্টা করি। বোর্ড পরীক্ষায় আমরা কোনো দুর্বল শিক্ষাথী পাঠায় না। ম্যাডাম আমি এখন রাখছি মাহীনের উন্নতির জন্য কোনো পরামর্শ বা সাহায্য প্রয়োজন হলে আমাকে জানাবেন। আচ্ছা ঠিক আছে স্যার। ছায়া স্কুল থেকে ফিরে দেখলো মাহীন বাসায় নেই। সুপ্রিয়াকে মাহীনের কথা জিজ্ঞেস করলো বললো এখনো আসেনি কলেজ থেকে। সন্ধ্যা দিকে মাহীন আসলো বাসায়। কলিংবেলের শব্দ শুনে। সুপ্রিয়া বাসার দরজা খুলে দিলো। ছায়া তার রুম থেকে বের হয়ে এসে মাহীনের সামনে দাড়ালো, কয়টা বাজে এখন মাহীন, এখন সময় হলো তোমার বাসায় আসার। আজকে তোমার প্রি-টেস্ট পরীক্ষার রেজাল্ট বের হয়েছে তোমার ক্লাস টিচার দেবনাথ বাবু আমাকে ফোন করছিল। তোমার জন্য আমাকে অনেক কথা শুনিয়েছেন আজকে। বাংলা ছাড়া তুমি সব বিষয়ে ফেল করছো। তোমার মা-বাবা অনেক আশা করে আমাদের কাছে তোমাকে রেখেছেন। তোমাকে যদি মানুষ মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে না পারি তাহলে আমরা কি জবাব দিবো তোমার মা-বাবাকে বলো। তোমার যদি পড়াশোনা করতে ভালোই না লাগে তাহলে চলে যাও গ্রামে তোমার বাবাকে কৃষি কাজে সাহায্য করো। যদি পড়াশোনা করতে চাও তাহলে ভালোভাবে পড়াশোনা করো। নাহলে এভাবে পড়াশোনার করার কোনো দরকার নেই। তোমার বাবা চায় তুমি তার মতো পড়াশোনা না করে অশিক্ষিত না থাকো। পড়াশোনা করে অনেক বড় কিছু হও,তার স্বপ্নের কি হবে তুমি যদি এভাবে চলতে থাকো। তোমাকে তো আমি সব সময় বলি তোমার কোনো সমস্যা থাকলে আমাকে জানাবে। তুমি বলতে কোনো সমস্যা নেই তোমার সমস্যা না থাকলে তাহলে রেজাল্টের এই অবস্থা কেনো। এখন বলো তুমি কি পড়াশোনা করতে চাও নাকি গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে চাও। পড়াশোনা যদি করতে চাও তাহলে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা পযন্ত আমি যা বলবো তোমাকে শুনতে হবে। মাহীন এতোক্ষণ কোনো কথা বলছিল না শুধু শুনে যাচ্ছিল। ছায়া কথা শেষ করে তার রুমে আবার ঢুকে গেলো। মাহীন প্রথম প্রথম বেশ ভদ্র গ্রামের সরল প্রকৃতির ছেলে ছিলো। কিন্তু মাহীনের কলেজের বেশ কয়েকজন বখাটে ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে। তাদের সাথে মিশে মাহীনের চালচলন পরিবর্তন হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর মাহীন তার রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে আসলো। তারপর বাসা থেকে বের হয়ে ছায়ার উপর তলার ফ্ল্যাটে গেলো। কলিং বেল টিপ দিলো। একটু পর দরজা খুললো তময় দার মা। আন্টি তময় দা বাসায় আছে? হ্যা আছে তো ওর রুমে। তুমি ওর রুমে যাও। আচ্ছা আন্টি। তময়ের বয়স ২৪ বছর ভার্সিটির ফাইনাল ইয়ারের পড়ে। এই বিল্ডিংয়ের ৪ তলায় ছায়ার একদম উপর তলার ফ্ল্যাটে মা-বাবা সাথে ভাড়া থাকে। তময় মাহীনের সাথে অনেক ফ্রী। তময়ের মা-বাবা গ্রামের বাড়িতে গেলে, মাহীনের সাথে তার বাসায় পর্ণ সিনেমা দেখে আর সাথে বিয়ার খায়। মাহীন তময়ের রুমে প্রবেশ করলো। কিরে মাহীন তুই হঠাৎ এসময়। তময় দা তোমার সাথে আমার দরকারী কিছু কথা আছে,বল কি কথা? তময় দা আমি আর ছায়া কাকিমার বাসায় থাকতে চায় না। কি আবোলতাবোল বলছিস তোর মাথা ঠিক আছে কিছু খেয়ে এসেছিস নাকি। তময় দা আমার মাথা ঠিকই আছে আমি যা বলছি বুঝে শুনে বলছি। তময় দা আমার জীবন আমার যা খুশি, তাই করবো তার এতো মাথা ব্যথা কেন বললো তো। তোর মাথা এখন অনেক গরম হয়ে আছে। এসব আজব চিন্তা ভাবনা বাদ দে মাহীন, তুই এখন বাসায় যা পরে তোর সাথে আমি কথা বলবো। ছায়া কাকিমা অনেক ভালো মানুষ তোকে যদি বকাঝকা শাসন করলেও তোর ভালোর জন্য করছে। তময় দা তুমি আমাকে থাকার জন্য একটা হোস্টেলের, ব্যবস্থা করে দিতে পারবে শুধু এইটুকু বলো। নাহলে আমি নিজেই একটা ব্যবস্থা করে নিবো। মাহীন তুই এখন বাসায় যা। তোর সাথে আমার এই বেপার নিয়ে কথা বলার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই। মাহীন আর কোনো কথা বললো না। মাহীন দরজা খুলে তময়ের রুম থেকে বের হলো তারপর বাসা থেকে বের হয়ে গেলো।মাহীন বাসায় এসে দেখলো ছায়া তার রুমে আছে। মাহীন রাতের খাবার খেয়ে তার রুমে ঢুকে পড়লো। মাহীন ঘুমিয়ে পড়লো। পরদিন সকালে মাহীন তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পড়লো। রুম থেকে বের হয়ে মাহীন দেখলো সোফায় বসে ছায়া  খবরের কাগজ পড়ছে। মাহীনকে দেখে ছায়া বললো তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নাও সকালের নাশতা রেডি হয়ে গেছে। আচ্ছা কাকিমা। কিছুক্ষণ পর ছায়া সকালের নাস্তা করে স্কুলের  জন্য বের হয়ে গেলো। আজকে মাহীনের কলেজ বন্ধ তাই বাসাতেই আছে। মাহীন সিগারেট খাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে বিল্ডিংয়ের নিচে নামলো। চায়ের দোকানের সামনে গিয়ে মাহীন দেখতে পেলো তময় দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে। কিরে মাহীন সিগারেট খাইতে আসলি নাকি। হ্যা তময় দা। আমার কাছে সিগারেট আছে মাহীন তোকে আর কিনা লাগবে না। তময় তার হাতে রাখা প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে মাহীনের হাতে দিলো নে ধর। মাহীন তার দুই ঠোঁটের মাঝে সিগারেট টা রেখে গ্যাস লাইট দিয়ে সিগারেটে আগুন ধারালো। মাহীন মনের সুখে সিগারেট টানতে লাগলো। তারপর বল মাহীন দিনকাল কেমন যাচ্ছে তোর। ভালো না তময় দা, এই বাসায় আমার থাকতে  দম বন্ধ হয়ে আসছে। মনে শান্তি পাচ্ছি না বললাম তো তোমাকে কালকে। তুই এখনও এসব আজব চিন্তা ভাবনা তোর মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াছিস। চল একটু লেকের দিকে যায় ওখানে নিরিবিলি আছে ভালো মতো কথা বলা যাবে। চলেন, কিছুক্ষণ হাঁটার পর লেকের ধারে চলে আসলো দুইজনে। এখানে বস আর এবার বল তোর কি সমস্যা। আমি তো তোমাকে কালকে বললাম,  আমি আর এই বাসাতে থাকতে চাচ্ছি না। আমি বুঝছি না কাকিমার দোষ কোন জায়গায়। তুই কাকিমার উপর শুধু শুধু রাগ করছিস। তুই কি চাচ্ছিস আমাকে একটু খুলে বলতো। আমি আর কাকিমার শাসন মেনে চলতে চায় না। তময় দা আমি তো ছোট বাচ্চা না যে তিনি যা বলবে  তাই শুনবো। দেখ মাহীন তুই কাকিমাকে শুধু শুধু ভুল বুঝছিস। কাকিমা তোর ভালো চায় সেজন্য তোকেশাসন করে আমার পক্ষে আর এভাবে শাসনে থাকা সম্ভব না,  আমি আমার নিজের  মতো স্বাধীন থাকতে চায়। দেখ মাহীন তুই গ্রাম থেকে  শহরে এসেছিস শুধুমাত্র  পড়াশোনা করার জন্য।এখন তুই যদি এই বাসা ছেড়ে  অন্য কোথাও উঠিছ তাহলে  তোর অনেক সমস্যাহবে আর হঠাৎ করেনতুন  একটা জায়গার সাথে অভ্যাস্থ  হয়ে উঠতে সময় লাগবে সামনে তোর টেস্ট পরীক্ষা। এতো সুন্দর বাসা ছেড়ে হোস্টেল কেউ উঠে তুই একটা  পাগল ছেলে মাহীন।  তোর বড় দাদা হিসেবে বলছি তুই এখন পরীক্ষা পযন্ত কোথাও  যাওয়ার  কথা চিন্তাও করিস না। একবার তোর বোর্ড পরীক্ষা হয়ে যাক, তারপর থেকে তুই স্বাধীন কেউ তোকে কিছু বলবে না। তুই তোর মতো ঘুরতে পারবি যখন যা ইচ্ছা করতে পারবি।  তুই যখন ভালো একটা রেজাল্ট করবি পরে ঠিকই সবচেয়ে বেশি কাকিমার উপর কৃতজ্ঞ থাকবি।আমার কথা গুলো তুই বাসায়  গিয়ে ভালোমতো চিন্তা ভাবনা করে দেখ আমি কি তোকে কোনো ভুল কথা বলছি নাকি। মাহীন আর কোনো কথা বললো না, তময় দা চলো বাসার দিকে  যাওয়া যাক।              
Parent