দেবশ্রী - এক স্বর্গীয় অনুভূতি - অধ্যায় ৬০
কৌশিকের বাবার প্রসঙ্গে বলবো সে ওই যে দেবশ্রীকে প্রথমবার দেখেই প্রেমে পড়ে গিয়েছিলো। সেই প্রেম আজও অবধি বিদ্যমান। সে স্ত্রী ছাড়া আর কাউকেই চেনে নি। ভালোবাসে নি।
দেবশ্রী অনির্বাণের বিকল্প হিসাবে অনুপমের প্রেমে অনুপম অনির্বাণের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। অনির্বাণ উগ্র প্রকৃতির। অনুপম শান্ত। দেবশ্রী অনুপমের নিষ্ঠা দেখে প্রেমে পড়েছিলো। কিন্তু অনির্বাণের ক্ষেত্রে সে এতো ভাবনা চিন্তা করে নি।
দেবশ্রী অনুপমকে ভালোবাসে কি? উত্তর হবে হ্যাঁ অবশ্যই ভালোবাসে। সেই সঙ্গে অনুপমকে কিছুটা নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টাও করে।
দেবশ্রীর অতীত ঘাঁটলে দেখতে পাওয়া যাবে সে আদরের একমাত্র কন্যা। ফলে সে ভাগ করে নেওয়া জিনিসটা অতটা শেখে নি। তাই নিজের নদদের সঙ্গেও খুব একটা মিল নেই। দেবশ্রী অনেকটা কৌশিকের দিদার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
দেবশ্রী যদি কৌশিকের সঙ্গে শারীরিক খেলায় মেতে ওঠে তাহলে কি অনুপমের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে? উত্তর হবে কখনই না। কারণ অনুপম যতটাই কাছের তততাই কাছের কৌশিক। সে যদি তার ভালবাসায় ঢলে পড়ে তাতেও তাকে বিশ্বাস ঘাতক বলা যাবে না কখনই।
যদি সে পর পুরুষের সঙ্গে মেতে উঠত তাহলে বিষয়টা আলাদা হতো।
এখানে কিন্তু সুমিত্রা এবং দেবশ্রীর মধ্যে বিস্তর ফারাক আছে। তাদের অতীত বর্তমানের জীবন যাপন সম্পূর্ণ আলাদা। সুতরাং তুলনা নিরর্থক। ওই একই নিয়ম সঞ্জয় এবং কৌশিকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সঞ্জয় সরল। কিন্তু কৌশিক দুষ্টু।
সুমিত্রা সঞ্জয়কে একটা ব্যাল্যান্সের মধ্যে তৈরি করেছে। সঞ্জয় জানে সুমিত্রা তখনই ভালোবাসবে যখন সে তার যোগ্যতা অর্জন করবে। কিন্তু দেবশ্রী কৌশিককে এতটাই ভালোবাসা দিয়েছে যে তার দোষেও অন্ধ সে। কৌশিকের যা আছে তার জন্মগত কারণে। কিন্তু সঞ্জয়ের সুমিত্রা দ্বারা তৈরি করা প্রত্যকটা ক্ষণের পরিশ্রমের ফলে।
অনুপমকে যদি চরিত্রহীন মাতাল দেখানো হত তাহলে গল্প নিজের বাস্তবতা হারাতো।
প্রত্যেক চরিত্রহীন এবং মাতালের নিজস্ব গল্প আছে। এখানে অনুপমের জীবনে এমন কিছুর অভাব হয়নি যে সে মাতাল চরিত্রহীন হয়ে পড়বে।
এছাড়াও কোন প্রশ্ন থাকলে জানাবেন। :) কারণ এই মন্তব্য গুলোই লেখককে ভাবায়। তার লেখাকে উন্নত করে।
অশেষ ধন্যবাদ অঙ্কিত ভাই।