দেবশ্রী - এক স্বর্গীয় অনুভূতি - অধ্যায় ৭
তাহলে আপনাকে আমার মনের কথা বলেই দি, যদিও এটা আমার প্রথম গল্প না, এটা আমার দ্বিতীয় গল্প। এই গল্পটা লিখতে শুরু করার আগে ভেবেছিলাম আমি কি দরিদ্রতাকে বিক্রি করছি?? নাকি poverty কে glorify করে দেখাচ্ছি...। দর্শক কেমন ভাবে নেবেন তা জানা ছিলোনা।
ভেবে তো নিলাম গল্প লিখবো। তিনজনের চরিত্রও ঠিক হয়ে গেছে।
কিন্তু লিখবো কি? কলকাতায় থাকি অথচ কলকাতা কে যারা জীবিত রেখেছেন ওই সব গরিব মানুষ দের সম্বন্ধে কি আমি সবকিছুই জানি? না জানি না।
সকালে বেলা করে উঠি, হাতের কাছে সবকিছু রেডি থাকে। কিন্তু ওদের কি যাদের প্রতি দিন সকালে উঠে ভাবতে হয় আগামী দিন কেমন যাবে।
দরিদ্র চোখে দেখলেও অনুভব করিনি। বাড়ির সামনে বস্তি আছে ওখানে গিয়ে বুঝলাম জানলাম। তাতেও কি পরিষ্কার ধারণা হলো, হলো না।
কলকাতা মিউনিসিপালিটি ওয়েবসাইটে গেলাম, এখনকার slum গুলোর দৈনন্দিন সমস্যার কথা জানতে পারলাম। কিছু বন্দুবান্দব দের কাছে জানতে পারলাম নাকি ওরা পয়সার জন্য সবকিছু করতে পারে। ব্যাপার টা শুনে বেশ রোমহর্ষক লেগেছিলো। পরে জানলাম ওরা বা আমি ভুল এমন হয়না।
চরিত্র রেডি ছিলো গল্প লেখা আরম্ভ করলাম। সেটা আপলোড ও করলাম আপনাদের কি মতামত থাকতে পারে জানবার জন্য।
প্রথমেই সতর্কীকরণ এলো যে "দাদা সুমিত্রা র চরিত্র টা যেন পবিত্র থাকে " আমি মনে মনে বললাম ধুর, নিকুচি করেছে আমার চরিত্র পবিত্র দেখানোর। যা লিখবো তাই চলবে। কারণ বন্ধুরা তো বলেই দিয়েছে যে ওখানকার মেয়েরা বেশ্যা বৃত্তি করে। তাতে কে কি বলল আমার কিছু আসে যায়না আমি যা লিখবো ভেবেছি তাই লিখবো।
আরে আমি তো রিয়ালিস্টিক দিকটা তুলে ধরছি তাতে অসুবিধা কোথায়। পরে জানলাম যাকে inspired হয়ে লিখছি সে কি আদৌ এইরকম। তার প্রতি কি জাস্টিফাই করছি?? সে মুহূর্তে কিছু বুঝতে পারলাম না কারণ দর্শক দুদিকে বিভক্ত ছিলো।
লোকডাউন এর মুহূর্ত ছিলো। ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু হলো, মনে মনে ভালই তো হলো ঘরে বসে বসে কাজ। আমার কি আমি তো মাস গেলেই স্যালারি পেয়ে যাচ্ছি। অন্যের ক্ষতি হচ্ছে দেখছি কিন্তু আমার ক্ষতি তো হচ্ছে না। লোক চাকরি হারাচ্ছে আমি তো না। তারপর সুশান্ত সিংহের মৃত্যু আমাকে কিছুটা সক দিয়েছিলো। ডিপ্রেশন এ লোক মারা যাচ্ছে।
প্রতিদিন যে নারীর মুখ ভেবে লিখি ও কি ভালো আছে?
লেখাটা আমার এক বান্ধবী কে পড়তে দিলাম। বললাম দেখনা এটা ইন্টারনেট থেকে পেলাম গল্পটা কেমন। ও বলল ভালো তবে ভীষণ ডিপ্রেসেড রে..। পড়লে মন খারাপ হয়। সত্যিই।
তারপর ই কোম্পানি থেকে নোটিশ এলো যে কাজ কম তাই স্যালারি কম। যা বাব্বাহ।
গল্পে আমি একটা এনাউন্সমেন্ট করলাম যে আর ডার্ক থিমে লিখবো না। আর নারী চরিত্রে মর্যাদা রাখবো। এখন লিখতে বসলেই মনে হয় সে নারী যেন থুতনিতে হাত রেখে আমার দিকে চেয়ে থেকে মুচকি মুচকি হাঁসে, সে যেন বলতে চাই কি লিখছো আমাকে ভেবে কই দেখি??
তাই দেবশ্রীর দিকে মুখ ফেরালাম। ইনি তো তিনিই আছেন। এখন এনার কাছেই থাকি সাময়িক রিলিফ পাবো।
তবে চিন্তা করবেন না সুমিত্রা আসছে এই সপ্তাহে ই দীঘা ভ্ৰমণ এর অভিজ্ঞতা নিয়ে। সঙ্গে থাকুন। অশেষ ধন্যবাদ আপনার।