হারামির হাত বাক্স - অধ্যায় ১০
<×><×><×><×><×><×><×><×><×><×><×><×>
মাতাজিকো প্যেয়ারা, পেয়ারেলাল
<×><×><×><×><×><×><×><×><×><×><×><×>
দুপুরবেলা সব কাজ শেষ করে, মা ঘরে গিয়ে ঢুকেছে বিশ্রাম নেবার জন্য। আমি তক্কে তক্কে ছিলাম, সুযোগ পেতেই মায়ের ঘরে গিয়ে ঢুকলাম।
- মা! ও মা!
- কি রে খোকন, কি বলছিস।
ধড়ফড় করে উঠে বসলো। আমি বললাম যে তোমাকে উঠতে হবে না। তুমি শুয়ে থাকো। আমি পা-টা টিপে দিই। তোমার সাথে একটু কথা আছে। সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে আমার মুখের দিকে চেয়ে, মা ধীরে ধীরে আবার শুয়ে পড়ল বিছানায়।
- একটা কথা জিজ্ঞেস করবো? সত্যি জবাব দেবে কিন্তু। মিথ্যে কথা বলবে না।
- মিথ্যে কথা বলব কেন? তুই কি জিজ্ঞেস করবি কর।
- বাবার ঝামেলা মিটিয়ে দিয়েছি। সোমারি সকালে এলে, বাবার ঘরে পাঠাবে। সোমারি সকালবেলা বাবার সেবা যত্ন করবে। দুপুরবেলা তিনজনের খাবার দিয়ে পাঠিয়ে দেবে। নাগিনাকে ফিট করে দিয়েছি। নাগিনা আর কিছু বলবে না। মাসে মাসে কিছু পয়সা খরচা হবে। কি আর করা যাবে। বাবার সুখের জন্য এটুকু তো করতেই হবে।
মা বুঝতে পেরেছে এটা আসল কথা নয়। এরপরেও আমার আরো কিছু বক্তব্য আছে। চুপ করে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে শুয়ে রইলো। আমি একটা পা কোলের উপর নিয়ে টিপতে টিপতে বললাম,
- বাবার ঝামেলা তো মিটিয়ে দিয়েছি। এখন, তোমার অবস্থাটা কি বল তো? বাবা তো ধ্বজভঙ্গ হয়ে গেছে। তোমার কোনও কামেই লাগে না। তোমার সুখ সুবিধা মিটছে কি করে? নাকি তুলসী পাতা চাপা দিয়ে পড়ে আছো!
মা অবাক হয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে, আমি কি প্রশ্নটা করেছি, মায়ের মাথায় যেন ঢুকলই না। আমি আবার বললাম,
- লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই, ছেলে বড় হয়েছে, এখন বন্ধুর মতো। বাবা যদি তোমার সুখের দিকে নজর দিতে না পারে; তাহলে, ছেলের কর্তব্য যে মায়ের সুখের ব্যবস্থা করা। ওদিকে কলকাতায়,
— একটু থমকে গিয়ে আবার বলতে শুরু করলাম,
- তোমার মা আর বোন তো তাদের ব্যবস্থা কিন্তু করে নিয়েছে। তুমি এখানে চুপচাপ তুলসী পাতা চাপা দিয়ে পড়ে থাকবে কেন?
(Continued)