কাশীপুরের কান্ড - অধ্যায় ১৯

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-74150-post-6242475.html#pid6242475

🕰️ Posted on Fri Jun 19 2026 by ✍️ Toxic boy (Profile)

🏷️ Tags:
📖 636 words / 3 min read

Parent
অধ্যায় ১৯ : চেনা মুখ গাছটার কাছে যাওয়ার পর তিন দিন কেটে গেছে। রতন কাউকে কিছু বলেনি। বন্ধুদেরও না। বাড়িতেও না। আসলে বলার মতো কিছু ঘটেনি। সে গিয়েছিল। দেখেছিল। ফিরে এসেছিল। ব্যস। ⸻ তবু… পুরো ব্যাপারটা তার মাথা থেকে যাচ্ছিল না। কারণ ভয় নয়। বরং একটা অদ্ভুত অনুভূতি। যেন কোনো অসমাপ্ত কথা। যার শুরু মনে আছে, শেষটা নেই। ⸻ সকালে ঘুম ভাঙতেই সে কিছুক্ষণ বিছানায় চুপচাপ বসে রইল। জানলার ফাঁক দিয়ে আলো ঢুকছে। দূরে কারও হাঁস ডাকছে। পুকুরঘাটের দিক থেকে মহিলাদের কথাবার্তার শব্দ ভেসে আসছে। সবই স্বাভাবিক। ⸻ তবু কয়েক সেকেন্ডের জন্য তার মনে হলো— সে যেন অনেক দূর থেকে এই দৃশ্যটা দেখছে। নিজের ঘর। নিজের বিছানা। নিজের জীবন। সব যেন একটু দূরের। ⸻ অনুভূতিটা চলে গেল। যত দ্রুত এসেছিল। ⸻ — রতন! প্রতিমার ডাক। — উঠবি না? — উঠছি। ⸻ সে উঠল। কিন্তু দরজার কাছে গিয়ে হঠাৎ থেমে গেল। কেন থামল, সে নিজেও জানে না। মনে হলো সে কিছু একটা ভুলে গেছে। খুব জরুরি কিছু। ⸻ কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইল। তারপর আর মনে করতে পারল না। মাথা ঝাঁকিয়ে বাইরে বেরিয়ে গেল। ⸻ রান্নাঘরে প্রতিমা ভাত বেড়ে দিচ্ছিলেন। চুলোর আগুনে তার মুখে হলদে আলো পড়ছে। কপালের পাশে কয়েকটা চুল নেমে এসেছে। হাতে হলুদের হালকা দাগ। গ্রামের আর দশজন গৃহস্থ মহিলার মতোই। চেনা। খুব চেনা। ⸻ রতন বসে খেতে লাগল। তারপর হঠাৎ… হঠাৎ তার মনে হলো, সে যেন মাকে আগে কখনও দেখেনি। ⸻ অনুভূতিটা এত অদ্ভুত যে সে খাওয়া থামিয়ে তাকিয়ে রইল। প্রতিমা খেয়াল করলেন। — কী হলো? — কিছু না। — এমন করে তাকিয়ে আছিস কেন? — না… কিছু না। ⸻ প্রতিমা আবার কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলেন। আর কয়েক সেকেন্ড পর অনুভূতিটাও মিলিয়ে গেল। ⸻ কিন্তু রতনের বুকের ভেতর ঠান্ডা একটা ভাব রয়ে গেল। ⸻ কলেজে সেদিন মন বসল না। অঙ্কের খাতা খুলে বসে আছে। সংখ্যাগুলো দেখছে। কিন্তু মাথায় ঢুকছে না। ⸻ রমাপদ দূরের ক্লাসে পড়াচ্ছিলেন। একবার বারান্দা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ছেলেকে দেখলেন। মনে হলো রতন যেন অস্বাভাবিক চুপচাপ। ⸻ কিন্তু তেরো বছরের ছেলেরা মাঝে মাঝে এমন হয়। তিনি আর গুরুত্ব দিলেন না। ⸻ বিকেলে মাঠে গিয়ে রতন আগের মতো খেলল। দৌড়াল। চিৎকার করল। হাসলও। ⸻ তবু মাঝে মাঝে সে অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছিল। বল পায়ে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। খেলা চলছে। হঠাৎ মনে হচ্ছে সে যেন কিছু শুনেছে। ⸻ পেছনে তাকাচ্ছে। কেউ নেই। ⸻ দূরে কুয়াশা। ঝোপ। গরু চরছে। আর কিছু না। ⸻ পল্টু বলল, — কী দেখছিস? — কিছু না। — আজকাল তুই “কিছু না” খুব বলছিস। — কারণ কিছু না। ⸻ পল্টু হাসল। কিন্তু রতন হাসল না। ⸻ সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে সে একা ছিল। কার্তিক অন্যদিকে গেছে। পল্টুর বাড়ি আগে। রাস্তা প্রায় ফাঁকা। ⸻ সূর্য ডুবে গেছে। আকাশে শেষ আলো। দূরে বাঁশঝাড়। ⸻ হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ তার মনে হলো— তার পেছনেও আরেকজন হাঁটছে। ⸻ খস। ⸻ খস। ⸻ রতন থেমে গেল। শব্দও থেমে গেল। ⸻ সে ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল। ⸻ কেউ না। ⸻ রাস্তা ফাঁকা। ঝোপ ফাঁকা। বাঁশঝাড়ও স্থির। ⸻ কয়েক সেকেন্ড সে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর নিজেই নিজের ওপর বিরক্ত হলো। ⸻ — ধুর। ⸻ আবার হাঁটা শুরু করল। ⸻ খস। ⸻ খস। ⸻ আবার। ⸻ এইবার সে সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে তাকাল। ⸻ কেউ না। ⸻ শুধু বাতাস। হয়তো। ⸻ সেদিন রাতে খাওয়ার সময় রমাপদ বলছিলেন কলেজের কথা। একজন ছাত্রের দুষ্টুমি। অন্য শিক্ষকের সঙ্গে তর্ক। সাধারণ গল্প। ⸻ রতন শুনছিল। কিন্তু যেন পুরো মন দিয়ে না। ⸻ তার চোখ বারবার চলে যাচ্ছিল ঘরের অন্ধকার কোণগুলোর দিকে। যেখানে কিছুই নেই। ⸻ তবু মনে হচ্ছিল— কেউ দাঁড়িয়ে আছে। ⸻ খুব মন দিয়ে শুনছে। ⸻ আর গভীর রাতে… একটা স্বপ্ন এল। ⸻ আগুন। ⸻ কালো ধোঁয়া। ⸻ মাটির ওপর আঁকা অদ্ভুত বৃত্ত। ⸻ কারও বসে থাকা ছায়া। ⸻ তারপর… একজোড়া চোখ। ⸻ রতন চমকে ঘুম ভেঙে উঠে বসল। শ্বাস দ্রুত চলছে। ⸻ ঘর অন্ধকার। সবাই ঘুমিয়ে। ⸻ সে বুঝতে পারল না ঠিক কী দেখেছে। স্বপ্নটা ভেঙে ভেঙে গেছে। ⸻ শুধু একটা জিনিস মনে রয়ে গেল। ⸻ স্বপ্নের সেই চোখদুটো… তাকে দেখছিল না। ⸻ অপেক্ষা করছিল। ⸻ যেন বহুদিন ধরে। আর এখন প্রথমবার… সে তাদের নজরে এসেছে।
Parent