কাশীপুরের কান্ড - অধ্যায় ৩৫

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-74150-post-6242778.html#pid6242778

🕰️ Posted on Fri Jun 19 2026 by ✍️ Toxic boy (Profile)

🏷️ Tags:
📖 574 words / 3 min read

Parent
অধ্যায় ৩৪ : অনুভূতি পৌষের শেষ দিক। বিকেলের রোদে আর তেমন তেজ নেই। কাশীপুরের শিবমন্দিরের সামনে ধুলো উড়ছে হালকা হাওয়ায়। ⸻ মন্দিরটা খুব বড় নয়। পুরোনো। অনেক পুরোনো। ⸻ কত মানুষ এসেছে। কত মানুষ চলে গেছে। ⸻ কিন্তু মন্দিরটা এখনও দাঁড়িয়ে। নীরবে। ⸻ চাতালের এক কোণে বসে ছিলেন হরিমণি বুড়ি। গ্রামের সবাই অবশ্য তাকে “হরিঠাকুমা” বলেই ডাকে। ⸻ বয়স আশির ওপর। কেউ বলে পঁচাশি। কেউ বলে নব্বই। ⸻ আসল বয়স তিনি নিজেও জানেন না। ⸻ চোখের দৃষ্টি ঝাপসা। হাঁটতেও কষ্ট হয়। ⸻ তবু প্রতিদিন সকালে আর বিকেলে তিনি মন্দিরে আসেন। ⸻ বাবা মহাদেবের সামনে বসে জপ করেন। ⸻ আজও করছেন। ⸻ হাতে পুরোনো তুলসীর জপমালা। ⸻ ঠোঁট নড়ে। শব্দ প্রায় শোনা যায় না। ⸻ চারপাশে কয়েকজন মহিলা ফুল দিয়ে পুজো সেরে ফিরছেন। ⸻ একটা কুকুর চাতালের নিচে গুটিসুটি মেরে শুয়ে। ⸻ সবকিছু স্বাভাবিক। ⸻ ঠিক সেই সময় কলেজ থেকে ফেরার পথে রতন ওই রাস্তা দিয়ে আসছিল। ⸻ কাঁধে ব্যাগ। ⸻ মাথা নিচু। ⸻ বাইরে থেকে সাধারণ একটা গ্রামের ছেলে। ⸻ কেউ দ্বিতীয়বার তাকাবে না। ⸻ কিন্তু… রতন মন্দিরের কাছাকাছি আসতেই হরিঠাকুমার আঙুল থেমে গেল। ⸻ জপমালার দানা আর এগোল না। ⸻ তিনি ভুরু কুঁচকালেন। ⸻ কেন? ⸻ তিনি জানেন না। ⸻ শুধু মনে হলো… হাওয়ার মধ্যে কিছু একটা বদলে গেছে। ⸻ একটা ঠান্ডা ভাব। ⸻ খুব সূক্ষ্ম। ⸻ খুব অদ্ভুত। ⸻ তিনি ধীরে ধীরে মাথা তুললেন। ⸻ চোখে পরিষ্কার দেখেন না। ⸻ তবু রাস্তার দিকে তাকালেন। ⸻ একটা ছায়ামূর্তি এগিয়ে যাচ্ছে। ⸻ কে? ⸻ রতন? ⸻ হতে পারে। ⸻ হরিঠাকুমা নিশ্চিত নন। ⸻ ঠিক তখনই… রতনের পা থেমে গেল। ⸻ এক মুহূর্তের জন্য। ⸻ কোনো কারণ ছাড়াই। ⸻ তারপর খুব ধীরে… সে ঘাড় ঘুরিয়ে মন্দিরের দিকে তাকাল। ⸻ মন্দির। ⸻ চাতাল। ⸻ বৃদ্ধা। ⸻ সবকিছু তার চোখে ধরা পড়ল। ⸻ আর তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল একটা অদ্ভুত হাসি। ⸻ খুব ক্ষীণ। ⸻ খুব ছোট। ⸻ কিন্তু সেই হাসির মধ্যে শিশুর সরলতা ছিল না। ⸻ ছিল অন্য কিছু। ⸻ অনেক পুরোনো। ⸻ অনেক অন্ধকার। ⸻ হরিঠাকুমা সেই হাসি দেখতে পেলেন না। ⸻ কিন্তু তার বুকের ভেতর ধক করে উঠল। ⸻ হাত থেকে জপমালা পিছলে মাটিতে পড়ে গেল। ⸻ টুপ। ⸻ শব্দটা খুবই ছোট। ⸻ তবু তার শরীর কেঁপে উঠল। ⸻ চাতালের নিচে ঘুমিয়ে থাকা কুকুরটাও আচমকা মাথা তুলে চারদিকে তাকাল। ⸻ তারপর কুঁই কুঁই করে সরে গিয়ে অন্যদিকে চলে গেল। ⸻ হরিঠাকুমা ফিসফিস করে বললেন, — এ কী… ⸻ তার গলা কাঁপছে। ⸻ কারণ বহু বছর পরে আজ আবার সেই পুরোনো অনুভূতিটা ফিরে এসেছে। ⸻ একটা অনুভূতি… যেটা তিনি শেষবার পেয়েছিলেন ছোটবেলায়। ⸻ যখন তার ঠাকুমা রাতে দরজা বন্ধ করতে করতে বলতেন— “সূর্য ডোবার পর বটতলার পথ মাড়াস না।” ⸻ তখন তিনি কারণ জানতেন না। ⸻ আজও জানেন না। ⸻ তবু বুকের ভেতর সেই একই অস্বস্তি। ⸻ রতন ইতিমধ্যে অনেকটা দূরে চলে গেছে। ⸻ তবু অদ্ভুতভাবে তার কানে যেন বৃদ্ধার কাঁপা নিঃশ্বাসের শব্দ পৌঁছে গেল। ⸻ সে থামল না। ⸻ পেছনেও তাকাল না। ⸻ কিন্তু তার ভেতরে কোথাও… অন্ধকারের গভীরে… একটা ভাবনা জেগে উঠল। ⸻ “কেউ একজন টের পেয়েছে…” ⸻ ভাবনাটা রতনের ছিল না। ⸻ কিন্তু সেটার সঙ্গে একটা ঠান্ডা সন্তুষ্টিও মিশে ছিল। ⸻ যেন দীর্ঘ নিদ্রা থেকে জেগে ওঠা কোনো সত্তা চারপাশ পর্যবেক্ষণ করছে। ⸻ কে অন্ধ। ⸻ কে সতর্ক। ⸻ আর কে এখনও মনে রাখতে পেরেছে। ⸻ সন্ধ্যার ঘণ্টা বেজে উঠল। ⸻ মন্দিরের ভেতর শঙ্খধ্বনি শোনা গেল। ⸻ হরিঠাকুমা কাঁপা হাতে জপমালা তুলে নিলেন। ⸻ তারপর শিবলিঙ্গের দিকে তাকিয়ে খুব আস্তে বললেন— “বাবা… যদি কোনো ছায়া ফিরে এসে থাকে… তবে আমায় ভুল দেখতে দিয়ো না।” ⸻ দূরে, পশ্চিম আকাশে সূর্য ডুবে গেল। ⸻ আর কাশীপুর গ্রামের ওপর নেমে এল আরেকটা দীর্ঘ রাত।
Parent