মিমের দুনিয়া ✍️সুখের ফ্যান্টা✍️ (চলছে)। - অধ্যায় ১৫

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-71820-post-6195738.html#pid6195738

🕰️ Posted on Mon Apr 27 2026 by ✍️ Ra-bby (Profile)

🏷️ Tags:
📖 560 words / 3 min read

Parent
(১৫)  সকালের ঘুম ভাঙলো মায়ের চিল্লাচিল্লিতে। মা কানের কাছে এসে এমন ভাবে চিল্লাইলো, যেন দুনিয়ায় সপ্তন আশ্চর্য কিছু ঘটে গেছে। “মিইইইম, এই মিইইম, জলদি উঠ। খুশির খবর আছে। জলদি উঠে বাইরে আয়।” মায়ের চিল্লানিতে আমি ভয় পেয়ে গেছি। যদিও কেন জানি মনে হলো শুনলাম, খুশির খবরের কথা। মা বলেই আবার রুম থেকে দৌড়ে চলে গেলো বাইরে। আমি চোখ ডলতে ডলতে বাইরে গেলাম। উঠানে দেখি সবাইকে। মা মামাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করছে। কান্না করছে মা!!! কিন্তু কেন? “তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই, চলো আমরা এখনি ঢাকায় যায়, গিয়ে রাব্বীলের কাছে যায়।” রাব্বীলের কাছে মানে???? স্বপ্ন দেখছিনা তো!! মামা আমাকে দেখেই ডাক দিলো— “আয় মা এদিকে আয়। খুশির খবর আছে।” আমি রাব্বীল শব্দটা শুনেই যেন স্থির হয়ে গেছি। যেন আমার হার্টবিট থেমে গেছে। মামা মাকে বুক থেকে সরিয়ে আমার দিকে আসলো। আমি ওখানেই স্থির দাঁড়িয়ে। পুরো ব্যাপার বুঝার চেস্টা করছি। যেন স্বপ্ন দেখছি। মামা আমার কাছে এসে বললেন, “মারে, আমি সকালে আমার লোক লাগিয়েছিলাম। জামতে পারলাম রাব্বীল এখনো বেচে আছে।” আমি কেদে দিয়েছি। চোখে আবছা দেখি। গলা ভারি হয়ে গেছে। আমি এসব কি শুনছি? একজন মৃত মানুষ কিভাবে বেচে থাকে? “বেটি তোর বিশ্বাস হচ্ছেনা, তাইনা? জানি নিউজটা অবিশ্বস্য। সে অনেক কাহিনি। আয় বস। সব বলছি।” হাটার মত শক্তি আমার আর নাই। টপটপ করে আমার দুচোখ বেয়ে জল পড়ছে। মামা আমার অবস্থা বুঝতে পেরে আমাকে কাছে টেনে নিলেন। আমি সরাসরি মামার বুকে গিয়েই অঝড়ে কেদে ফেললাম।  মামা আমাকে ধরে পাশের চেয়ারে বসালেন। বসে বসে সব শুনলাম মামার মুখে। যেন কোনো এক সিনেমার কাহিনি শুনছি। বাবা পুলিশে থাকা অবস্থায় একজন খুনের আসামিকে গ্রেফতার করেন। পরে জানা যায় সে লোকটি বি এন পি করতো। লোকটির যাবৎ জীবন কারাগার  হয়। পরে লোকটি জেল থেকে বের হতে অনেক টাকা খরচ করে। আজ বি এন পি ক্ষমতায়। তাই সুযোগ পেয়ে ঐ খুনি লোকটি আমাদের বাড়িটা দখলে নিতে চাই। প্রতিশোধ। আর এই প্রতিশোধ স্বরুপ প্রথমেই তারা টার্গেট করে আমাদের বাড়ির একমাত্র পুরুষ–---রাব্বীল কে। তারা রাব্বীলকে মেরেই ফেলতে চেয়েছিলো। কিন্তু পরে রাব্বীলকে তুলে নিয়ে গিয়ে এক্সিডেন্টের কাহিনি সাজাই। পরে রাব্বীলকে জিম্মি করে এখন মুক্তি পণের দাবি করে। বলে, ঐ কেসে যত টাকা খরচ হয়েছে সব দিতে হবে,নয়তো রাব্বীলের লাশ বাসাই আসবে। রাব্বীলকে জিম্মি করে আগে তারা বাড়িটা কবজা করতে চেয়েছিলো। কিন্তু মামা তার লোকজন নিয়ে তার আগেই সব খবরা খবর বের করে ফেলেন। সব শুনার পর আমার একটাই রিয়াকশন–--- “মামা আমি রাব্বীলের কাছে যাবো। আমাকে এখনি নিয়ে চলেন।” “বেটি অধৈর্য হসনা। আগে তাদের মুক্তিপণ দিতে হবে। তারপর।” “মামা চলেন তাহলে আমরা সব প্রমাণ নিয়ে পুলিশে যাই।” “কই প্রমাণ? আমি বাইরে বাইরে জানলাম এসব। আর ক্ষমতায় এখন তারাই। পুলিশে গিয়ে লাভ হবে?” “তাহলে?” “তাদের দাবি মেনে নিয়েই রাব্বীলকে ফেরত দিবে।” “কত দাবি তাদের?” “৩৫ লাখ।” “ও আল্লাহ! এতো টাকা কই পাবো আমরা?” “চিন্তা করিস না। দেখি কি করা যায়। মামার কাছে এসেছিস। আর ভয় নেই। যা ফ্রেস হ। নাস্তা করতে হবে। আর আমাকে ভাবতে দে কি করা যায়।” “মামা আমি খাবোনা। আমার খুদা নাই।” “হা হা হা। পাগলি মেয়ে আমার কথা শুন। বললাম না, আর চিন্তা নাই। যায় ফ্রেস হয়ে টেবিলে আয়। সুরাইয়া যা মেয়েকে ফ্রেস করে তুই ও ফ্রেস হয়ে আয়।  সবাই আগে নাস্তা করি।” আজ যেন আমার ঈদের দিন। আমার আকাশের মেঘ আর নেইম ফরসা আকাশ। আমি হাটতে হাটতে ওয়াসরুম যাচ্ছি, যেন উড়ছি। আজ কি আনন্দ লাগছে আমি বলে বুঝাতে পারবোনা। জীবন সত্যিই অদ্ভোত। আল্লাহ পারেনা কি? সব পারেন। ফ্রেস হয়েই রুমে গেলাম মুখ মুছতে। হঠাৎ পোলার বাপের কথা মনে পরলো। ফোনটা হাতে নিলাম। ভাবলাম এই খুশির খবরটা পোলার বাপকে দিয়েই খেতে যাবো।। নিশ্চিত পোলার বাপ শুনে খুশি হবে।
Parent