নির্বাসনের পর... _ শ্রী অনঙ্গদেব রসতীর্থ - অধ্যায় ৬
এর পরের ঘটনা বলবার আগে, আগের একটা গ্যাপ্ পূরণ করা দরকার। আগে সেটাই বলি।… সোনাদি আমার জীবনে এসেছিল যেন ধূমকেতুর মতো। তার চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার পর, আমি মেন্টালি একেবারেই ভেঙে পড়েছিলাম। দেশে-দশে তখন দুশ্চরিত্র, লম্পট, হাজত-ফেরত বলেও আমার খুব সুনাম রটল। মা এসব সহ্য না করতে পেরে অকালেই চলে গেল। আমিও তখন বিবাগী সন্ন্যাসীর মতো কিছুদিন এদিক-সেদিক ফ্যা-ফ্যা করে ঘুরে বেড়ালাম। তারপর কলকাতায় এসে একটা ঘর ভাড়া নিয়ে, প্রাইভেট একটা স্কুলে চাকরিতে ঢুকলাম। গ্র্যাজুয়েশনের রেজাল্টটা ভালো ছিল বলে চাকরিটা কোনোমতে জুটে গেল। এই করতে-করতেই অসমাপ্ত এম-এ-টা কমপ্লিট করে, বি-এড করে নিয়ে স্কুল-সার্ভিস পরীক্ষা দিয়ে সরকারি চাকরিটা পেলাম, এই বছর-দুয়েক আগে। ইচ্ছে করেই নিজের গ্রাম, কলকাতা শহর এসব অভিশপ্ত যায়গা ছেড়ে, নর্থ-বেঙ্গল চলে এলাম অতীতকে প্রাণপণে ভুলব বলে। কিন্তু আজও ঘুমের ভেতর প্রতিদিন সোনাদির সেই মোমের-পুতুল অবয়বটা আমার দিকে হানা দেয়!… যাইহোক, এখানে স্কুলের কাছেই একটা ঘর ভাড়া নিয়ে বছর-দেড়েক থাকছিলাম। কিন্তু দুম্ করে গত আগস্টে বাড়িওয়ালা বলল, সে বাড়ি বেচে দেবে, আমাকে দু-মাসের নোটিশেই উঠে যেতে হবে। তখনই স্কুলের সিনিয়ার ইংরেজির মাস্টারমশাই, তাঁতি-স্যার এগিয়ে এলেন আমাকে সাহায্য করতে।
তাঁতি-স্যার তিনতলা একটা বাড়ি কিনেছেন আমাদের স্কুল থেকে বেশ খানিকটা দূরে, আরও ইন্টিরিয়রে। সস্তায় পেয়ে গিয়েছিলেন বোধহয়। পাড়াটা ভদ্র, শান্ত, নিরিবিলি। স্যার নিজে থাকেন দোতলায়; একা। তেতলায় একজন বিধবা থাকেন, শুনেছি সম্পর্কে স্যারের মাসিমা হন। তাঁতি-স্যার নিজেই আমার প্রবলেম শুনে, আমাকে ওনার বাড়ির একতলায় দুটো বড়ো-বড়ো রুম নামমাত্র ভাড়ায় দিয়ে দিলেন। সেই ইস্তক মাস-পাঁচেক হল আমি এ-বাড়িতে আছি। কিন্তু আজ যে দৃশ্যের আমি মুখোমুখি হলাম, তার জন্য আমি মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না।...