সম্বিতের আত্মকথা - অধ্যায় ১১৪
তারা চলে গ্যালো .........দিল্লিতে সম্বিতের নিঃসঙ্গ একঘেয়ে জীবন কাটছে , মাঝে শুধু দেবিকা এক বেলার জন্য এসেছিলো , লন্ডনে ওর ভাইয়ের কাছে গ্যালো ছুটি কাটাতে , স্কুল পুরোদমেই চলছে হেড মিস্ট্রেসের ওপরে দায়িত্ব দিয়ে যাচ্ছে | সকালের ফ্লাইটে এলো রাতের ফ্লাইট ধরবে বলে , সম্বিত ওকে এয়ারপোর্ট থেকে নিয়ে এলো ব্রেকফাস্ট আর লাঞ্চ বানিয়ে দিয়ে কাজের বাই চলে গ্যাছে , ফাঁকা বাড়িতে দেবিকাকে পেয়ে আগে বেডরুমে টেনে নিয়ে ল্যাংটো করলো , দেবীকাও অনেকদিনের উপোষী সম্বিতের মতোই , দুজনে দুজনের খিদে মিটিয়ে দিলো যখন ঝড় থামলো ব্রেকফাস্টের সময় পেরিয়ে গ্যাছে , একসাথে স্নান সেরে নিয়ে লাঞ্চ করে নিলো , ক্লান্তিতে দুপুরে অকাতরে ঘুমোলো , বিকালে আরেক রাউন্ড হলো , তারপর সন্ধ্যাবেলা দেবিকাকে নিয়ে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দিতে রওনা হলো গেটে দারোয়ান ওকে একটা চিঠি দিলো , পরে পড়বে বলে পকেটে রেখে দিলো , এয়ারপোর্টে পৌঁছে দেবিকা চেক ইন করে চলে গ্যালো সম্বিত গাড়িতে উঠে বাড়ির দিকে চললো , বাড়ি পৌঁছে চিঠিটা খুললো ডঃ রিতিকা গোয়েলের চিঠি 'এসেছিলাম ভাবলাম দেখা করি আর চা খাওয়ার নিমন্ত্রনটা রক্ষা করি , ঢুকে দেখলাম আপনি খুব ব্যস্ত তাই চলে গেলাম গুড লাক পরে দেখা হবে *****একটা এডভাইস ঘরের দরজা বন্ধ রাখতে হয় ' সম্বিতের বুকটা ধক করে উঠলো তাহলে নিশ্চই রিতিকা ওকে আর দেবিকাকে .....? অফিসের গাড়ি ডেকে ক্লাবে গ্যালো , বেশ কিছুক্ষন কাটালো আড্ডা গল্প করে রাত হতে বাড়িতে ফিরে এসে ডিনারটা সেরে ঘুমিয়ে পড়লো মনটা খচখচ করছিলো রিতিকার বিষয়টা নিয়ে , ঘুমোতে একটু দেরিই হলো | সকালে ব্যালকনিতে বসে চা খাচ্ছে কলকাতা থেকে ফোন এলো সপ্তাহের শেষে সি,এম, আসছেন দিল্লিতে পার্টির মিটিং আর পি,এম,এর সাথে মিটিং করতে সাথে মুখ্য সচিব অর্থ সচিব , অতয়েব সম্বিতকে সব দায়িত্ব পালন করতে হবে , সম্বিত যথারীতি নিজের অফিসকে এলার্ট করলো , প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে , তার আগে মৌসুমীকে ফোন করে বলে দিলো যে এই উইকেন্ডে কলকাতায় ফেরা হচ্ছে না |
সারাটা সপ্তাহ সম্বিতের ভীষণ ব্যস্ততা গ্যালো , সবার থাকার ব্যবস্থা গাড়ির ব্যবস্থা , কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে কথা বলে সিকিউরিটির ব্যবস্থা মিটিংয়ের জন্য প্রপার নোটস ওকে আগেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেইসব ফাইল রেডি করতে সম্বিতের প্রচন্ড ব্যস্ততায় কাটলো , সি,এম, কলকাতার ফ্লাইটে ওঠা পর্যন্ত তঠস্থ হয়ে রইলো , যদিও মিটিংগুলোতে ওকে যেতে হয়নি কিন্তু ব্যাকএন্ডের সব কিছু রেসিডেন্ট কমিশনারেরই দায়িত্ব , দিল্লির সরকারও তঠস্থ ছিল , সি,এম'কে ওঁরাও সমঝে চলেন ,স্বয়ং পি,এম'ও সমস্যায় ওঁর পরামর্শ নিয়ে থাকেন উনি একজন ন্যাশনাল লিডার যে |
সন্ধ্যাবেলা সি,এম'র ফ্লাইট টেকঅফ করতে সম্বিত স্বস্তির নিঃস্বাস নিলো , লাউঞ্জে বসে একটা কফি খেলো , তারপর বেরিয়ে এসে বাড়ি গিয়ে ভালো করে স্নান করে অফিসের গাড়ি নিয়ে ক্লাবে গ্যালো ,কিছু সাংবাদিকসহ সবাই ছেঁকে ধরলো , আগের ক'দিনের সি,এম'র ভিজিট নিয়ে খবরাখবরের জন্য , সম্বিত বেশি কথা বলার মুডে ছিলোনা সামান্য ভদ্রতার জন্য যেটুকু না বললেই নয় সংক্ষেপে বললো ড্রিংক নিতেনিতে | বারের কাউন্টারের হাই তুলে বসেই ড্রিংক করছিলো , পিছন থেকে কেউ ওর পিঠে হাত রাখতে পিছন ফিরে দেখলো রিতিকা গোয়েল '' আরে সেদিন একটা চিঠি রেখে এসেছিলাম পেয়েছিলেন নিশ্চই ? একটা রেপ্লি তো দিতে হয় ?'' '' কি করবো বলুন প্রথমত সংকোচে আর তাছাড়া সেদিন থেকে আজ একটু আগে পর্যন্ত দম ফেলার সময় পাইনি , বিকেলে সি,এম,এর ফ্লাইট টেকঅফ করার পর একটু নিশ্চিন্ত হয়ে ক্লাবে এলাম '' রিতিকা মুচকি হেসে বললো '' ওহ ইটস ওকে ওটা খুব দোষের নয় খাওয়া দাওয়া ঠিকঠাক করছেন তো ?''সম্বিত মাথা নেড়ে ' হ্যাঁ ' বললো |