Story of Forest (বনের গল্প) - অধ্যায় ২

Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-44633-post-4571289.html#pid4571289

Posted on Tue Jan 04 2022 by Sreerupamitra (Profile)

598 words / 3 min read

Parent
কালো স্লিভলেস ব্লাউস এর সাথে ঘন কফি রঙের ওপর হলুদ কল্কার কাজ করা কাঞ্জিভরন শাড়ি পরেছিল। ও বুঝতে পারেনি বিক্রম এরকম এক জন সুপুরুষ কম বয়েস এর মানুষ হবে। তাই বিক্রম কে দেখে ও বেশ অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। বিক্রম এর চোখের চাহনি ওর কাছে অস্বস্তিকর, তা হলেও, একজন ফরেস্ট অফিসারের স্ত্রীর এসব নিয়ে মাথাঘামানো উচিত না ভেবে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেলো ফরেস্ট গার্ড এর সাথে। বিক্রম সামনের দরজা খুলে ওকে ড্রাইভারের পাশে বসতে আহ্বান জানাল। সোহিনী বুঝলে গাড়িটা বিক্রম চালাবে। এত দামী গাড়িতে এর আগে কখনও চড়েনি সোহিনী। তাই ঘাড় ঘুরিয়ে দেখতে লাগলো, বিক্রম ওকে দেখাতে দেখাতে চলল জুনাগর শহর, এখানে কি কি আছে ইত্যাদি। বললে রবিবার সময় হলে জুনাগর ফোর্ট দেখাতে নিয়ে যাবে। সোহিনী বিক্রমের ব্যবহারে এবং বাংলা কথা বলতে পেরে বেশ সহজ হয়ে উঠল কিছুক্ষণের মধ্যে। বেশ কিছু কেনাকাটা করল, ঘর সাজাতে এবং দরকারে লাগে এসব। কয়েক্তি রাত্রিবাস ও কুর্তি কিনল। বিক্রম ওকে সাহায্য করল কেনাকাটায়। বিক্রম ওকে সর্বদা সাথ দিল এবং মুল্যবান অভিজ্ঞতা শেয়ার করল যাতে খুব সুবিধা হল। সন্ধ্যের মুখে ফিরে এল। নামার আগে বিক্রম বললে- - যদি কিছু না মনে করেন, আপনার মোবাইল নাম্বার তা পেতে পারি? - হাঁ হাঁ, নিশ্চয়ই। ওরা নাম্বার শেয়ার করল। ওকে নামিয়ে দিয়ে বিক্রম অফিসে এসে সৌম্য কে খবর দিল। তার আগে সোহিনী জানিয়ে দিয়েছে কেনাকাটার কথা এবং বিক্রম বাবু থাকাতে ওর কত সুবিধা হল ইত্যাদি। সৌম্য অনেক ধন্যবাদ দিল বিক্রম কে। বিক্রম কিছুক্ষণ কাটিয়ে ফরেস্ট অফিস থেকে বেরিয়ে রাকেশ কে আড়ালে ডেকে নিয়ে একটা ৫০০ টাকার নোট দিয়ে বললে- এটা রাখ। রাকেশ হেসে সেটা প্যান্টের পকেটে চালান করে সেলাম ঠুকল। বিক্রম মনে মনে গালি দিল রাকেশ কে, ‘চুতিয়া’। সেদিন সন্ধ্যের সময় যখন সৌম্য আর সোহিনী গল্প করছে সৌম্য এর ফোন এল। চিফ কন্সারভেটর আসছেন রাত্রে, ওকে বের হতে হবে। রাত্রের খাবার ওখানেই হবে, তাই ৮ টা নাগাদ গাড়ি নিয়ে বের হল। সোহিনী খেয়ে নিল একাই, মাঝে মাঝে এরকম হয়, রাতে বের হয় সৌম্য, দেরি করে ফেরে, আজ কখন ফিরবে জানা নেই। বাপ্পা কে ঘুম পাড়িয়ে বিছানায় এল, আজ কেনা নাইটি পরে। হাতকাটা নাইটি বাড়ি থাকতে কখনও পরেনি, এখানে এসে আজ প্রথম। হাসি পেল, নিজেকে আয়নায় দেখল ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অনেকক্ষন। একটু যেন সাহসি হয়ে উঠছে সোহিনী। আর তখনই মোবাইল এর আলো জলে উঠল। মোবাইল তুলে দেখল হোওআটস আপ এর ম্যাসেজ এসেছে। খুলেই দেখে বিক্রমের-তো - হাই সোহিনী অবাক হল, এই সময়ে হটাত। ভদ্রতার কারনে ও উত্তর দিল। - হ্যালো। - কি করছেন? - এই শুয়ে আছি। - সাহেব এর তো আজ বাইরে ডিউটি - হাঁ, কোন এক সাহেব আসছেন না কি - হুম, নাগপাল সাহেব, সুপার বস। দিল্লি থেকে মাল্লুর খোঁজে আর কি। যাকগে আজ ঘুরতে কেমন লাগলো আমার সাথে? - ভালই। সাবধানে উত্তর দিচ্ছে সোহিনী। - আর ড্রাইভার কে খুব বাজে লাগল নিশ্চয়ই। - না না, বাজে লাগবে কেন? সংক্ষেপে ভদ্রতা করল সোহিনী। - তার মানে, মোটামুটি বাঙালি রা যা বলে আর কি … হাহাহাহাহাহা…। - নাহ, ভালই। কথা না খুঁজে পেয়ে উত্তর দিল সোহিনী। - আপনাকে কিন্তু আজ দারুন লাগছিল, অসাম। - থেঙ্কস… সাবধানে জবাব দিল। কথাটা ও প্রশংসা হিসাবেই নিল তবে আগের কথা বিবেচনা করা সেইটুকুতে’ই থামল। - আপনাকে বোর করছি না তো? - না না… এমা… আমার তো কথা বলতে ভালই লাগছে… এখানে তো বাংলা তে কেউ কথা বলে না, তাছাড়া এখানে আশেপাশে সেরকম কেউ নেই। - হাঁ, এটা ঠিক বলেছেন। আপনার খুব ই অসুবিধা। মাঝে মাঝে আমাকে বলবেন, এসে আপনার হাতের চা খেয়ে যাব। - হাঁ হাঁ… নিশ্চয়ই, যখন ইচ্ছে আসবেন… - পারমিসান দিলেন তাহলে। - হাঁ… অবশই।   - আচ্ছা, আজ রাখি, বেশীক্ষণ কথা বললে সৌম্য বাবু রেগে জেতে পারেন, ভাবতে পারেন তার সুন্দরী বউকে কেড়ে নেওয়ার তালে আছি…। - এমা…মোটেই না… ও সেরকম না। - জানি, সোহিনী ম্যাদাম। কথা বেশিদূর যায়না ঠিক তবে সোহিনীর মনে দাগ কেটে যাওয়ার পক্ষে এই টুকুই যথেষ্ট।
Parent