সুন্দর শহরের ঝাপসা আলো - অধ্যায় ১১১
রাস্তায় ওর বাবা আমাদের দেখে ফেলেছিলো। বাড়িতে হয়তো বকাঝকা করেছিলো। সে বিরোধ করেছিলো। ওর বাবা মানবার ব্যক্তি ছিলেন না। ওর মায়ের কাছে আশার আলো পেয়েছিলো।
ওর মা আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। ও বলে ছিলো মাকে ইমপ্রেস করতে পারলে আমাদের রিলেশনশিপ মেনে নেবেন। আমি তার জন্য রকমারি ফুলের গোছা নিয়ে গিয়েছিলাম। আর তিনি দেখা করলেন কোথায়? না রাস্তার মোড়ে।
আমাকে তার মেয়েকে ভুলে যাবার প্রস্তাব দেন। কারণ নাকি সমাজ একে মেনে নেবেন না। আমি তার মেয়েকে বিয়ে করলে সমাজের বৈচিত্র নষ্ট হবে। আমার মতো সবার একই চিন্তা হলে সমাজে বিভিন্নতা থাকবে না।
আমার দেওয়া ফুলের উপহারের মতো। নানান রঙের বৈচিত্র মিশে গিয়ে শুধু একটাই রং নাকি থাকবে।
আমি বলে ছিলাম। আপনার কাছে থেকে রঙিন একটা রঙিন ফুল চাইছি মাত্র। আমার বাগানে শোভা পাবে।
তিনি রেগে গিয়ে বলেছিলেন। তর্ক করো নাতো। আমি আর কোনো কথা বলিনি। মুখ নামিয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে ছিলাম।
তিনি আপন মনেই বিড়বিড় করে বলেছিলেন। মেয়েকে অনেক স্বপ্ন নিয়ে মানুষ করেছেন। শুধু তাদের ভুল ছিলো মেয়েকে অধিক স্বাধীনতা দিয়েছেন। ছেলে বন্ধু হিসাবে ঠিক আছে। কিন্তু প্রেম কখনই নয়।
আমারও বাবা মায়ের প্রত্যাশা আছে আমার প্রতি। সেগুলো আগে পূরণ করা উচিৎ। ইত্যাদি বলেছিলেন।
পরে ওকে ফোনে বিষয়টা জানাই। ও প্রচন্ড ভেঙে পড়ে।
ওর বিয়ে ঠিক হয়ে যাবার পর আমি মাকে জানাই। তিনি কি বললেন? না তাদের মেয়ে তারা ঠিক করবেন কার সঙ্গে বিয়ে দেবেন। আর কার সঙ্গে না।আমি নিজের লক্ষ্যে মনোনিবেশ করি। অনেক মেয়ে জীবনে আসবে।
মনে হয়েছিলো।এমন কথা তো সৎ মাও বলে না। কিন্তু পরে ভাবলাম এতো জনের মাঝে তিনিই বা কি করবেন।
তারপর যা হবার তাই হয়। একজন নাস্তিক মানুষ ঈশ্বর আল্লাহ কে ডাকে তার প্রেম ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা থাকবেন তবেই না শুনবেন।