সুন্দর শহরের ঝাপসা আলো - অধ্যায় ১৫

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-20547-post-2003650.html#pid2003650

🕰️ Posted on Fri May 29 2020 by ✍️ Jupiter10 (Profile)

🏷️ Tags: None
📖 1471 words / 7 min read

Parent
বাড়ি ফিরে দেখে মা, রান্না ঘরে রান্নার কাজে ব্যাস্ত। সুমিত্রা ওর ছেলেকে দেখে বলে “কি রে বাবু তোর ক্লাস কেমন হলো...? তোকে আজ একটু ক্লান্ত লাগছে..!! দাঁড়া আমি জল এনে দিচ্ছি...”। সঞ্জয় বিছানার মধ্যে বসে পড়ে, তখনি সুমিত্রা এসে ওর ছেলেকে জলের গ্লাস দিয়ে বলে “কি রে বাবু বল তো কি হয়েছে তোর আজ কাল...” সঞ্জয় বলে “আমার কিছু হয়নি মা, সত্যি। তুমি চিন্তা করোনা...”। সুমিত্রা, ছেলের সমীপে এসে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বলে “বাবু...তোর জন্ম আমার পেট থেকে হয়েছে ,তুই দশমাস দশদিন আমার গর্ভে থেকেছিস আর তোর মনের কথা বুঝতে পারব না। বেশ কয়েকদিন ধরে তুই খুব উদাসীন রয়েছিস..। কি ব্যাপার বলনা..”। সঞ্জয় মনে মনে ভাবতে থাকে। মা ঠিকই বলছে। মা রা সব কিছুই বুঝতে পারে, নিজের ছেলের সম্বন্ধে। তবুও সঞ্জয় আপন মনের দুর্দশার কথা বলতে অসমর্থ। কি বলবে সে...? সুন্দরী মায়ের প্রতি একটা অজানা আকর্ষণ অথবা অবন্তিকা দ্বারা তিরস্কার...!!! সে শুধুই বলল “হ্যাঁ সত্যি মা আমার কিছু হয়নি...তুমি রান্না করো..আমার খিদে পেয়েছে..” সুমিত্রা আবার ছেলের কাছে এসে বলে “দেখ বাবু...তোর মাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট যথেষ্ট ভালো হয়েছে। আমি চাইবো যে তোর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা টাও যেন খুব ভালো হয়। কারণ এটাতেই তোর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে..”। সঞ্জয়, মায়ের হাত দুটো ধরে বলে “মা শুধু তোমার আশীর্বাদই পারবে আমাকে সফল মানুষ বানাতে..”। সুমিত্রা আবার ছেলের গালে মাথায় হাত বুলিয়ে মুচকি হেঁসে সেখান থেকে চলে যায়। সঞ্জয়, বুঝতে পারে মা সত্যিই তাকে ভীষণ ভালোবাসে। তবুও সে জানে না কেন তার মা কে পর পর মনে হয়। যেন মা তার কাছে থেকেও যেন অনেক দূরে আছে। একবার দীর্ঘস্বাস ফেলে মনে মনে বলল এগুলো সব ওর মনের অধিক চিন্তার ফল। মা তো তারই মা। বেশ কয়েকদিন ধরে তাদের জীবন ভালোই চলছিল। তারপর একদিন সন্ধ্যাবেলা, সঞ্জয় নিজের ঘরে মন দিয়ে পড়াশোনা করছিলো। সুমিত্রা রান্নাঘরে নিজের কাজে ব্যাস্ত ছিলো। পরেশনাথ সবে মাত্র এসে হাত মুখ ধুয়ে, স্ত্রীর কাছে এক কাপ চায়ের অনুরোধ করেছে। তখনি ঘরের সামনে হঠাৎ করে একটা চার চাকা গাড়ি এসে দাঁড়ালো। তার পেছন দিয়ে দুজন লোক উর্দি পরা। পুলিশ!! ওদের বাড়ির সামনে এসে ভারী গলায় বলে ওঠে “পরেশনাথের বাড়ি কি এটাই..??” পরেশনাথ বাইরে বেরিয়ে এসে বলে “হ্যাঁ বলুন আমিই পরেশনাথ..”। তখন পুলিশ গুলো ওকে ধরে বলল “চল, থানায় চল....। তোর নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা এসেছে...” পরেশনাথ অবাক হয়। বলে “কিন্তু কেন...?” পুলিশ বলে “সে সব তোকে জেলেই বলবো..আগে তাড়াতাড়ি গাড়িতে ওঠ..”। সে মুহূর্তে সুমিত্রা আর সঞ্জয় ও বাইরে বেরিয়ে এলো..। সুমিত্রা কিছু বুঝতে পারল না। স্বামী কে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে কেন...? সে দৌড়ে গিয়ে নিজের স্বামীকে ছাড়ানোর চেষ্টা করল। পুলিশ কে জিজ্ঞাসা করল “আপনারা আমার স্বামীকে এভাবে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন..?” পুলিশ, সুমিত্রা কে বাধা দেয়। বলে “দেখুন আপনার স্বামীর বিরুদ্ধে ছেলে অপহরণের কেস আছে...তাই গ্রেফতার করতে এসেছি..”। সেটা শুনে, সুমিত্রা কাঁদতে শুরু করে দেয়। বলে না আমার স্বামী এমনটা করতে পারে না। আপনারা ভুল মানুষ কে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ বলল “সেটা আদালতে বিচার হবে। আপনি আমাদের কাজে বাধা দেবেন না..”। সঞ্জয়, স্থির হয়ে সবকিছু দেখে। ওর বাবাকে কি ভাবে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এবং মা কি ভাবে অসহায়ের মতো কাঁদছে। সে নির্বিকার কিছু করতে পারছে না। পাড়া প্রতিবেশী সব ভীড় করে ওদের কে দেখছে। একে অপরকে কি যেন বলা বলি করছে। তাদের মুখে অট্টহাসি। সঞ্জয়, মায়ের কাছে গিয়ে মা কে ধরে বলে, “কেঁদোনা মা, বাবা নির্দোষ..। কালই বাবাকে পুলিশ ছেড়ে দেবে..”। পরদিন সকালে, সুমিত্রা ওর ছেলেকে নিয়ে থানায় যায়। সেখানে দেখে, পরেশনাথ জেলের এক কোনে মাথা নিচু করে বসে আছে। সুমিত্রা ওর সাথে দেখা করে। সুমিত্রা, জিজ্ঞাসা করে “হ্যাঁ গো তুমি সত্যিই কোনো ছেলেকে অপহরণ করেছো...??” পরেশনাথ, নিজের চোখ তুলে বলে “আমি তোমার দিব্যি খেয়ে বলছি, সুমিত্রা আমি এই কাজ কখনোই করিনি। আমাকে ভুল করে জেলে ঢোকানো হয়েছে”। এরপর সুমিত্রা, নিজের চোখের জল মুছে। স্বামী কে বলে “হ্যাঁ আমার ও বিশ্বাস তুমি এই কাজ করতে পারোনা..”। সুমিত্রা, জেলের বড়ো বাবুর সাথে কথা বলে। বড়োবাবু সুমিত্রা কে বলে “দেখুন, ম্যাডাম। আপনার স্বামী রিক্সা চালক। ও কলেজের বাচ্চা নিয়ে যাওয়া, নিয়ে আসা করে। গত দুদিন আগে দুটো বাচ্চা কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ওদের বাড়ির লোক বলছে ওরা কলেজ যাবার পর থেকে আর বাড়ি ফেরে নি..। কলেজ কর্তৃপক্ষ তো এটাই বলছে, যিনি রিক্সা চালক উনি বাচ্চা দের কিডন্যাপ করেছে। আর বাচ্চা দের অভিভাবক এর কথার ভিত্তি তেই আপনার স্বামী কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে”। সুমিত্রা বলে “কিন্তু আমার স্বামী তো নির্দোষ। ও এমন কাজ করতে পারে না..। আপনি ওকে ছেড়ে দিন...”। পুলিশ বলে “আমরা তল্লাশি করছি, বাচ্চা সঠিক মতো পেয়ে গেলে আপনার স্বামীকে ছেড়ে দেবো। আর তা নাহলে আদালত যা বলবে আমরা তাই করবো..”। বাড়ি ফিরে এসে সুমিত্রা আবার কাঁদতে শুরু করে দেয়। সঞ্জয়, ওভাবে মায়ের কান্না দেখতে পারে না । মায়ের উজ্জ্বল সুন্দরী চোখে অশ্রু সে মেনে নিতে পারছে না। বাবার জন্য ওর কিছু আসে যায় না। কারণ বাবার অবদান ওর জীবনে নগন্য। কিন্তু মা, মা তার জীবনে সবকিছু। মা কে সে কষ্ট পেতে দেখতে চায়না । সঞ্জয়, মায়ের কাছে গিয়ে, মায়ের চোখের জল মুছিয়ে দেয়। বলে “মা এভাবে কেঁদোনা। আমার কষ্ট হচ্ছে। কাল আমরা থানায় আবার যাবো। দেখবে পুলিশ এর কোনো সুরাহা বের করে নিয়েছে..”। পরেরদিন ওরা আবার থানায় যায়। সুমিত্রা দেখে, পরেশনাথ অনেক ক্লান্ত এবং রুগ্ন হয়ে গেছে। হয়তো দুদিন ধরে সে ঘুমায়নি। পরেশনাথ, সুমিত্রা কে দেখে খুশি হয় এবং ওর হাত দুটো চেপে ধরে, প্রায় কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে “তুমি কিছু করো সুমিত্রা, আমাকে এখান থেকে বের করো, আমি নির্দোষ..”। সুমিত্রা, বরের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে “হ্যাঁ আমি বড়োবাবুর সাথে কথা বলছি। আমি অনুরোধ করবো যেন ওরা তোমাকে ছেড়ে দেয়..”। সুমিত্রা আবার, বড়োবাবু কে অনুরোধ করে, স্বামী পরেশনাথ কে ছেড়ে দেবার জন্য। বড়োবাবু বলেন “দেখুন..আপনার স্বামীর অপরাধ প্রমান হয়ে গিয়েছে। ছেলে গুলোকে এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। আর পাওয়া গেলেও অপহরণের জন্য আপনার স্বামীর পাঁচ বছর জেল হবে..”। সেটা শুনে, সুমিত্রা একপ্রকার ভেঙে পড়ে। সেখানেই ওর চোখ দিয়ে জল বেরোতে থাকে। সেটা দেখে বড়োবাবু বলে “দেখুন এটার একটাই সমাধান আছে...। আপনি যদি দিন পনেরোর মধ্যে পঞ্চাশ হাজার টাকা জোগাড় করতে পারেন তাহলে আমরা আপনার স্বামীকে ছয় মাসের মধ্যে ছেড়ে দেবো। এটাই এর জরিমানা..” সুমিত্রা, ভাবতে থাকে এতো টাকা এই কয়দিন কোথা থেকে সে জোগাড় করবে। আর সেটা যদি সে না করতে পারে তাহলে, পরেশনাথ কে পাঁচ বছর জেল খাটতে হবে। সুমিত্রা কে, বড়োবাবু আবার জিজ্ঞাসা করে “কি..আপনি পারবেন তো..”। সুমিত্রা, নিজের মন কে শক্ত করার চেষ্টা করে। বলে “আমি চেষ্টা করবো..”। ছেলেকে সাথে নিয়ে ঘরে ফিরে যাবার সময় সুমিত্রা ভাবতে থাকল এতো টাকা এই কম সময়ে সে কোথায় পাবে । একবার ভাবল যেখানে কাজ করে ওখান থেকে ধার নেবে। অথবা নিজের যা সোনা গয়না আছে ওগুলো বেচে দিয়ে টাকা জোগাড় করবে। তারপর একবার ভাবল, বাপের বাড়ি গিয়ে দাদার কাছে চেয়ে আনবে। কিন্তু না পরক্ষনে ওর এটা মনে হলো যে। দাদা কে এইসব বলা ঠিক হবে না। সে কোনো রকম করে, টাকা ঠিক বের করে আনবে। সঞ্জয় একবার মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলো। মায়ের সুন্দরী উজ্জ্বল মুখ কেমন ম্লান হয়ে গেছে। কিন্তু সে নিরুপায়। একমাত্র ভগবানের কাছে প্রার্থনা ছাড়া কোনো উপায় নেই। ঘরে ফিরে সুমিত্রা নানা রকম চিন্তা ভাবনা করতে লাগলো। কোথায় পাবে এতো টাকা। ওর মনে হলো একবার অলোকা মাসির কাছে গিয়ে বলা উচিৎ। হয়তো উনি কোনো সাহায্য করে থাকবেন। অলোকা মাসির কাছে গিয়ে সুমিত্রা বলল। সেটা শুনে অলোকা মাসি বলল “না রে সুমি আমরা গরিব মানুষ এতো টাকা আমরা কোথায় পাবো বল..। আর থাকনা পরেশনাথ কয়েকদিন জেলে। এমনি তেই তোকে এতো অত্যাচার করে। থাক কয়েকদিন জেলে তাহলেই টের পাবে..”। সুমিত্রা বলে “না মাসি এমন কথা বলোনা, আমার একটা ছেলে আছে এতদিন ও পিতৃ হারা হয়ে থাকবে এটা ঠিক দেখায় না..”। অলোকা চুপ করে থাকে। কিছু বলে না। তারপর সুমিত্রা আবার বলে “ সেরকম যদি হয়। তাহলে তুমি আবার কোনো পরপুরুষ জোগাড় দাও, আমি শুতে রাজি আছি...। আমার টাকা পয়সার ভীষণ দরকার অলোকা মাসি..”। সেটা শুনে অলোকা একপ্রকার খেপে যায়। জোর গলায়, ওকে ধমক দিয়ে বলে “সুমি খবরদার তুই এই রকম কথা আর কোনদিন বলবিনা। সেবার টা আমার ভুল ছিলো। আমি জানতাম না যে ওই দুস্টু বুড়ো তোর উপর নজর দেবে। তোর খারাপ সময়ের লাভ নেবে। এটার জন্য আমি সারা জীবন অনুতপ্ত থাকবো যে তোর মতো সতী মেয়ের সাথে আমি এমন টা করেছি। তুই খুব ভালো মেয়ে রে সুমি। তোর চোখের দিকে তাকালেই আমাকে অপরাধী লাগে। তুই আমার মেয়ের মতো। তোর সম্বন্ধে আমি এই রকম কথা মনে প্রাণে কখনোই ভাবতে পারবো না। ভুল সবার জীবনই হয়। একবার ভুল স্বয়ং ভগবান ও মাফ করে দেয়। সুমি মা, তুই দেবী স্বরূপ আর কখনোই এ কথা মনের মধ্যে আনবি না..”। সুমিত্রা চুপ করে থাকে। তারপর বলে “আমি জানি অলোকা মাসি। জীবনের ওই দিনটা আমার জীবনে একটা কালো দিন হয়ে থাকবে। তাছাড়া এটার জন্য তুমি দায়ী নও অলোকা মাসি, দায়ী আমি আর আমার ভাগ্য..”। সুমিত্রা আবার ঘরের মধ্যে এসে বসে পড়ে। কোনো রকম আলোর সন্ধান পাচ্ছে না সে। সঞ্জয় ও দেখে, ওর মা কেমন বিচলিত হয়ে থাকে সারাদিন। প্রায় দু সপ্তাহ হয়ে গেলো। বাবার কেস টার কোনো কিনারা করা গেলোনা। এখন সঞ্জয়ের ও বাবার জন্য মন খারাপ হচ্ছে। কিন্তু কি করবে সে, সে সম্পূর্ণ নির্বিকার। মা, এতো টাকা কোথায় পাবে..? সে ভাবতে থাকে। সন্ধ্যাবেলা ঘরের দরজার সামনে মা বেটা বসে ছিলো তখনি আবার অনেক আলো করে একটা ট্যাক্সি গাড়ি এসে দাঁড়ালো। সঞ্জয় চোখ তুলে দেখবার চেষ্টা করে। সে বাইরে বেরিয়ে আসে। দেখে ট্যাক্সির দরজা খুলে আসলাম বেরিয়ে এলো সাথে ওর বাবা। আসলামের বাবা সঞ্জয় কে দেখে মৃদু হাঁসে। সঞ্জয় ও তার প্রতি একটা মৃদু হেঁসে সম্বর্ধনা জানায় ।
Parent