বাঙ্গালির ঘরে ঘরে আনাচার--মাইক্রো স্টোরিস - অধ্যায় ৭
তিন
সেদিনই ঠিক করলাম কাল রাতে ঘুমনোর ভান করে পুরো ব্যাপারটা দেখেতে হবে আমায়। কিন্তু দুপুরেই একটা জিনিস চোখে পরে গেল। আমি তখন চান করতে ঢুকেছি। আমি বেরলে তারপর বিলু ঢুকবে বলেছে। গায়ে দু মগ জল ঢালার পর হটাত দেখি আমার গামছাটা হাতের কাছে নেই। একটা গামছা বাথরুমে রয়েছে বটে, কিন্তু সেটা ভিজে। মনে হয় আমারটা ঘরের মধ্যে আছে। আমি তাড়াতাড়ি নিজের ঘর থেকে গামছাটা আনার জন্য বেরলাম, পরনে সেই ভিজে গামছাটা। নিজের ঘরে ঢুকে আমার গামছাটা নিয়ে বেরতে যাচ্ছি এমন সময় দেখি বিলু রান্না ঘরে ঢুকলো। মা রান্না ঘরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গ্যাসে রান্না করছিল। বিলু মার পেছনে গিয়ে বলে -শোভা মাসি কি করছো? মা রান্না করতে করতে ওর দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে বলে -,কি আবার করবো, তোদের জন্য রান্না করছি। তোর বন্ধু কোথায়? বিলু বলে -চানে ঢুকেছে, বেরলে তারপর আমি ঢুকবো।বিলু এবার হটাত মার কোমর জড়িয়ে ধরে মার পিঠে নিজের নাকমুখ ঘষে। অবাক হয়ে দেখলাম মা বাধা তো দিলইনা, বরং আদুরে গলায় বললো -কি ব্যাপাররে সকাল সকাল শোভা মাসিকে এত আদর।বিলু বলে -এমনি। তারপর বিলু মার ঘাড়ে নিজের নাক ঠেকিয়ে একটা জোরে স্বাস নিয়ে বলে -মাসি আজো দেবেতো। মা খুব চাপা গলায় বললো -হুম দেব, কিন্তু একটা শর্তে। বিলু বলে -বলনা মাসি কি শর্ত। মা বলে -আগে কোথা দে পিকুকে বা কাউকে বলবিনা। বিলু বলে -হ্যাঁ মাসি কথা দিলাম। মা কড়ায় খুন্তি নাড়তে নাড়তে চাপা গলায় বলে -তুই রুনির সাথে যেটা মাঝে মাঝে করিস সেটা আমার সাথেও করতে হবে। বিলু এবার একটু থমকে যায় । বলে -মাসি তুমি ওই ব্যাপারটা জান, তোমাকে কি জেঠি বলেছে। মা বলে -হ্যাঁ তোর জেঠি আমাকে বলেছে। তোরা যেটা করিস ওটা আমরাও আজ করবো, ঠিক আছে? পারবি তো? বিলু বলে -আচ্ছা মাসি তাই হবে। মা বলে -নে এখন ছাড়। আমাকে কাজ করতে দে, আর পিকু বেরলেই চানে ঢুকে যাস। আমার কিন্তু রান্না হয়ে এসেছে, আগে খেয়ে নে,তারপর যত খুশি বন্ধুর সাথে খেলিস। পিকু -আচ্ছা, বলে রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে যাবে এমন সময় আমি টুক করে আবার বাথরুমে ঢুকে পরলাম পিকু দেখতে পায়নি।
(চলবে)