ধার্মিক রূপধারী খানকি মাকে বিয়ে - অধ্যায় ১

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-74832-post-6279330.html#pid6279330

🕰️ Posted on Mon Aug 03 2026 by ✍️ Naruto7 (Profile)

🏷️ Tags:
📖 2457 words / 11 min read

Parent
Part 1 স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ থেকে জমিদারি প্রথা উঠে গেলেও, কিছু কিছু কোণে তার ছায়া এখনও পড়ে আছে। এমনই এক গ্রাম রসুলপুর, যা সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলায় অবস্থিত। এই ছোট্ট গ্রামটি বছরের পর বছর ধরে তার নিজস্ব সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত। এখানে প্রতি পঞ্চাশ বছর অন্তর একটি অসাধারণ কুস্তি খেলা অনুষ্ঠিত হয়—যা কোনো সাধারণ গ্রাম্য কুস্তি নয়। এই খেলায় জয়ী হলে কেউ রাজা হয়ে উঠতে পারে, আবার কেউ ফকিরের মতো নিঃস্ব হয়ে যেতে পারে। কারণ, বিজয়ী পাবে গ্রামের অর্ধেক জমিদারির অধিকার—শুধু তাই নয়, আরও একটি বিশেষ উপহার, যা পরে জানা যাবে। অনেকে প্রশ্ন তোলে, এই নিয়ম পালনের কী দরকার? গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা . হওয়ায়, অনেক আলেমের চোখে এটি বেশরিয়তি বলে মনে হয়। কিন্তু গ্রামবাসীদের কাছে এটি যেন জীবন-মরণের খেলা। কারণ, কথিত আছে যে একসময় এই গ্রামে ভয়ঙ্কর খরা দেখা দিয়েছিল। সেই খরার সঙ্গে এসেছিল আরও ভয়াবহ গুটিবসন্তের মহামারী, যাতে গ্রামের প্রায় অর্ধেক মানুষ মারা যায়। তখনই গ্রামে আগমন হয় এক দরবেশ বাবার। তিনি গ্রামের গণ্যমান্য লোকদের ডেকে এমন এক খেলা আয়োজন করতে বলেন। কোনো উপায় না থাকায়, অনেকে না মানলেও খেলা অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়ীকে দেওয়া হয় তার প্রাপ্য পুরস্কার। ফলাফল? মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রাম আবার সবুজ-শ্যামল হয়ে ওঠে। প্রচুর বৃষ্টি হয়, গুটিবসন্ত যেন কোথায় বিলীন হয়ে যায়, এবং মানুষ সেই রোগের কথা ভুলে যায়। তারপর থেকে গ্রামে আর কখনো খাবারের সংকট হয়নি, সাধারণ রোগ-বালাইও দেখা দেয়নি। সিলেটের অন্য কোনো এলাকার চেয়ে এখানে তিন-চার গুণ বেশি ফসল ফলে—এমনকি অফ-সিজনেও। গ্রামের পরিবেশের কথা কী বলব? এক কথায় বলতে গেলে, এ যেন বেহেশতের এক টুকরো। গাছপালা, খাল-বিল, নদী-নালায় ভরপুর এই গ্রামে কী নেই? লোকে বলে, রসুলপুরের হাওয়ায় নাকি জাদু আছে, যা মানুষের আয়ু বাড়িয়ে দেয়। এমন তাজা হাওয়া, এমন তাজা ফলমূল, শাকসবজি বাংলাদেশের আর কোথাও পাওয়া যায় না। তাই তো এই গ্রামের বাসিন্দাদের যেন বয়স বাড়ে না—তারা যেন চিরযৌবনা। পঞ্চাশ বছরের কোনো মহিলাকে দেখলে মনে হয় যেন তিরিশ বছরের যুবতী, সত্তর বছরের বৃদ্ধকেও মনে হয় চল্লিশ বছরের মাঝবয়সী। গ্রামবাসীরা নাকি কমপক্ষে একশো বছর বাঁচে। তাই ধর্মের পাশাপাশি, তাদের বহুবছরের রীতি-নীতি তাদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবার এই বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে, আবার বসবে সেই কুস্তি খেলা। বেশি নয়, মাত্র দেড় মাস বাকি। তাই গ্রামের তরুণ থেকে বৃদ্ধ—সবাই এই খেলার জন্য কঠোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেন এক যুদ্ধের প্রস্তুতি। গ্রামের বাতাসে যেন ভেসে আসছে কোনো রণক্ষেত্রের আভাস। কে জিতবে এই খেলায়? কে পাবে গ্রামের অর্ধেক জমিদারি আর সেই বিশেষ উপহার? সেটা হয়তো সময়ই বলবে। কিন্তু একটা কথা নিশ্চিত—রসুলপুরের এই ঐতিহ্য গ্রামবাসীদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা তাদের সমৃদ্ধি আর দীর্ঘায়ুর রহস্য লুকিয়ে রেখেছে। রসুলপুর গ্রামের সবচেয়ে ধনী এবং প্রভাবশালী পরিবার হলো চৌধুরী পরিবার। এই পরিবারের বড় সন্তান মোতালেব চৌধুরী—যিনি এলাকার সবচেয়ে ক্ষমতাধর এবং সম্পদশালী ব্যক্তি। তার কাছে রয়েছে হাজার বিঘা জমি, কয়েকটি চা বাগানের মালিকানা, এবং বিয়ানীবাজার পৌরসভার সবচেয়ে বড় বাজারটিও তারই দখলে। এই বিপুল সম্পত্তির পেছনে রয়েছে একটি পুরনো কাহিনি। শোনা যায়, মোতালেবের বাবা জাহির চৌধুরী পঞ্চাশ বছর আগে সেই বিখ্যাত কুস্তি খেলায় জয়ী হয়েছিলেন, এবং সেই জয়ের ফলেই চৌধুরী পরিবার এত বিশাল সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠেছে। জাহির চৌধুরী ছিলেন অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সাহসী মানুষ। এমনকি বয়সের শেষ দিকেও তাঁর শরীরে ছিল অসুরের মতো শক্তি। কুরবানির ঈদে তিনি একা হাতে তিনশো কেজি ওজনের গরু জবাই করতে পারতেন—এমন ছিল তাঁর অসাধারণ ক্ষমতা। গ্রামের লোকেরা তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন যেন কোনো কিংবদন্তির নায়ক। কিন্তু তাঁর ছেলে মোতালেব সেই তুলনায় অনেক দুর্বল। তার দেহ নাজুক, শরীরে তেমন শক্তি নেই। এমনকি এই গ্রামের মতো স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হওয়া সত্ত্বেও তার বয়স যেন তাকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে।   এই পরিবারের কর্তা মোতালেব চৌধুরীর বয়স এখন ষাট, দুই  স্ত্রী আর ভাইদের নিয়ে থাকেন ২০ শতাংশ জমির উপর দাড় করানো এক বিশাল অট্টালিকায়।ঠিক আগের কালের জমিদাররা যেভাবে থাকতেন।  মোতালেবের বড় স্ত্রী রহিমা বেগম, যার বয়স এখন বাহান্ন বছর। ওজনে একটু ভারি মহিলা, হাইটে খাটো চেহারা কিন্তু গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা তার ফিগার তেমন ধারালো নয়, বরং সাধারণ বাঙালি গৃহিণীদের মতোই মেদওয়ালা। রহিমা বেগম পর্দা মেনে চলেন, ধার্মিক, গ্রামের রীতি-নীতিকে গভীরভাবে লালন করেব। তার তিনটি মেয়ে—জুলেখা, হাফিজা এবং রেশমা। মোতালেবের ছোট স্ত্রী আয়েশা বেগম। যার বয়স মাত্র উনচল্লিশ বছর। সে যেন বেহেশত থেকে নেমে আসা কোনো হুর।  তার উচ্চতা পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি, গায়ের রং ফর্সা যেন তাজা দুধের মতো মখমলে মোড়া, এবং চেহারা এতটাই সুন্দর আর মোহময় যে কোনো নায়িকাকেও লজ্জায় ফেলে দিতে পারে। তার খাড়া নাক, ঘন লম্বা চুল যেন কোনো দেখলে মনে হয় যেন কোনো সদ্য যৌবনপ্রাপ্ত বিশ বছরের তরুণী । কেউ বিশ্বাসই করবে না যে এমন একজনের দুটি বিবাহযোগ্য সন্তান রয়েছে। আয়েশা বেগমের ফিগার অসম্ভব সেক্সি। তার ইয়া বড় বড় তরমুজের মতো বিশাল দুটি দুধ, এতই বিশাল যে ওজনের ভারে কিছুটা ঝুলেও পড়েছে। আর তার কলসির মত বিশাল ধুমসি পাছা  কিন্তু কোমরটা ঠিকই চিকন। এই ৪৪-২৮-৪৬ সাইজের ফিগার যেকোন সেক্সি বলিউডের নায়িকাকেও হার মানাবে। আয়েশার মত সেক্সি মাল যখন বাইরে বের হয় ছোট থেকে বৃদ্ধ কোনো বয়সের পুরুষেরই চোখ ফিরাতে পারে না, সবগুলো লুচ্চার মত ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকে । আয়েশা বেগম যখন হাঁটেন, তখন তার বিশাল দুধ আর পাছা এসব দেখে চোখ ফিরায় কিভাবে কোন পুরুষ। আয়েশা বেগম পর্দা তেমন মানেন না। তবে শালীনভাবে শালোয়ার-কামিজ পরেন এবং মাথায় কাপড় দিয়ে রাখেন—কিন্তু তার দুধ এবং পাছা এতই বিশাল যে যতই ঢিলেঢালা শালোয়ার-কামিজ পরুন না কেন, সেগুলোর উপস্থিতি ভালোভাবেই বোঝা যায়, যেন সেলোওয়ার কামিজ ফেটে বেড়িয়ে আসবে যেকোন সময়। তিনি সাজতে খুব পছন্দ করেন, অনেক সময় নিয়ে গোসল করেন।তার ছেলে বিদেশে থাকায়, সে পাঠানো কসমেটিক্স প্রোডাক্ট ব্যবহার করে নিজেকে সুন্দর ও পরিপাটি রাখেন। আর এই আয়েশা বেগমই আমাদের গল্পের নায়িকা   আয়েশা বেগমের দুটি সন্তান। তার ছোট মেয়ে রিয়া, যার বয়স আঠারো বছর। কিন্তু রিয়া অসম্ভব পাকা,এতটাই পাকা যে মাকে নিয়েও মজা করতে ছাড়ে না, যেন তার মায়ের মত অত সুন্দরী না হলেও দেখতে খারাপ না । অন্যদিকে, আয়েশা বেগমের ছেলে রিয়াদ, যার বয়স বাইশ বছর। তার উচ্চতা ছয় ফুট দুই ইঞ্চি, এবং চেহারা যেন তুর্কি হিরোদের মতো হ্যান্ডসাম—দেখলে যেকোনো মেয়ে প্রেমে পড়তে বাধ্য । কিন্তু রিয়াদ তার বাবার সঙ্গে রাগ করে মাত্র ষোলো বছর বয়সে আইইএলটিএস পরীক্ষা দিয়ে মামার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া চলে যায়। ছয় বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেনি, শুধু মা এবং বোনের সঙ্গে অডিও কলে কথা বলত—তাই সে তার মায়ের চেহারা বলতে গেলে ভুলেই গেছে।এছাড়াও, মোতালেবের দুটি ছোট ভাই রয়েছে, যারা তাদের স্ত্রীদের নিয়ে ভালোভাবে সংসার করছেন রিয়াদের বাসা ছেড়ে যাওয়ার সেই ছোটবেলার স্মৃতি আজও তার মনে ধোঁয়াশার মতো ভাসমান। তার মা-বাবার চেহারাও ঠিকঠাক মনে পড়ে না—শুধু কিছু অস্পষ্ট ছায়া, কিছু অসম্পূর্ণ ছবি। অস্ট্রেলিয়ায় মামার সঙ্গে গিয়ে প্রথম প্রথম কষ্ট হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু এখন তার পড়াশোনা প্রায় শেষের দিকে। সিডনিতে একটা বেশ ভালো রেস্তোরাঁ দাঁড় করিয়েছে সে, যেখান থেকে আয়ও বেশ ভালো। সেই আয়ের একটা অংশ প্রতি মাসে সে তার মায়ের কাছে পাঠায়, নিয়ম করে। এছাড়াও, আয়েশার স্বামী বুড়ো আর শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে যাওয়ায় তাকে পছন্দ করত না তেমন। এসব নিয়ে প্রায়ই আয়েশা বেগমের গায়ে হাত তুলতেন কারণ মোতালেব আর তার বড় বউ সারাদিন তাকে পর্দায় থাকতে বলত। কিন্তু আয়েশার সখ ছিল সে এক সুঠাম দেহের যুবক স্বামীর হাত ধরে ঘুরে বেড়াবে সুন্দর ড্রেস পরে, যে তাকে অনেক ভালোবাসবে আর বিছানায়ও সুখী করবে। কিন্তু কিছুই আয়েশা বেগমের ভাগ্যে জোটেনি। বিভিন্ন কারণেই স্বামী তার গায়ে হাত তুলতেন, আর এই কারণেই রিয়াদ রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পরে আয়েশা বেগম তার ভাইকে বলেন রিয়াদকে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যেতে। কারণ সে চায় না তার মতো তার ছেলের জীবন নষ্ট হোক—কেন তার এত সুন্দর ছেলে মাদ্রাসায় পড়বে? সে তার লাইফে আরও বড় কিছু করুক, বিদেশে যাক, প্রতিষ্ঠিত হোক নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে। এভাবেই ছয় বছর কেটে গেল। সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেছে, কিন্তু রিয়াদের মনে সেই পুরনো ক্ষতগুলো এখনও তাজা। অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত জীবন, সিডনির রেস্তোরাঁর হাসিমুখের গ্রাহক সবই তার জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। বাবার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই, আর সে চায়ও না। সেই পুরনো দিনগুলোর স্মৃতি তার কাছে একটা অন্ধকার ছায়া মাত্র। রিয়াদের বিমান একটু আগেই ঢাকা বিমানবন্দরে ল্যান্ড করেছে। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক সকাল দশটা বাজছে। নিজের ইচ্ছা না থাকলেও অনেকটা মামার পীড়াপীড়িতেই বাড়ি যাওয়া হচ্ছে তার। কারণ ছোট বোনের নাকি বিয়ের কথা চলছে। এই সময় বড় ভাইয়ের থাকা জরুরি, নইলে যে বাপ কোন বুড়োর সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেয় ঠিক নেই। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়েই রিয়াদ একটা প্রাইভেট কার ভাড়া করল, গন্তব্য তার রসুলপুরের বাসা। অনেকদিন পর দেশে ফিরে ভালোই লাগছে। আগের থেকে রাস্তায় ট্রাফিক অনেক বেশি, কিন্তু নিজের দেশ বলে তো কথা—সবই কেন যেন ভালো লাগছে। গাড়িটা যখন রসুলপুরে পৌঁছাল, রিয়াদের কেন যেন মনে হলো এক মিষ্টি কোনো গন্ধ তার নাকে এসে পড়ছে। চোখের সামনে ছবির মতো সুন্দর তার গ্রাম—চারপাশে গাছগাছালি, পাখির কলকাকলি। রিয়াদ তার পাশের জানালার কাচ পুরো খুলে দিল। উফ্, কী সুন্দর শীতল হাওয়া! যেন মন জুড়িয়ে যায়। এত সুন্দর হাওয়া অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশেও সে কখনো পায়নি। আর এই হাওয়ায় কেন যেন একটা মিষ্টি মোহময়ী টান আছে। কেন যেন মনে হচ্ছে এই গ্রাম তাকে ডেকে এনেছে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে। কেন যেন তার মনে হলো সে তার জীবন আর আগের মতো থাকবে না, বদলে যাবে... কোনো মায়াবী ডাক যেন তার বাড়ি থেকে কাছে টানছে... তাই এক অজানা তীব্র আকর্ষণ বোধ কাজ করছে বাড়ির প্রতি, যা সে আগে কখনো পায়নি। গাড়িটা ধীরে ধীরে এগোচ্ছে, আর রিয়াদের চোখ দিয়ে যেন সবকিছু নতুন করে দেখছে। দূরে সবুজ ধানখেতগুলো হাওয়ায় দুলছে, যেন একটা সবুজ সমুদ্র। গ্রামের রাস্তায় বাচ্চারা খেলছে, কোনো কোনো বাড়ির উঠোনে গরু-ছাগল চরছে। সেই পুরনো নদীটার পাড়ে এখনও লোকজন জল তুলছে, আর দূরে মসজিদের মিনারটা আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে। সবকিছু যেন তার ছেলেবেলার স্মৃতিকে জাগিয়ে তুলছে, কিন্তু এবার সেই স্মৃতিতে একটা নতুন রং মিশেছে—আশা, উত্তেজনা আর একটা অজানা রহস্যের ছোঁয়া। মায়ের মুখটা মনে পড়ছে তার, সেই দুঃখী চোখ দুটো যা সবসময় তার জন্য চিন্তায় ভরা থাকত। বোনের বিয়ের কথা শুনে সে এসেছে, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এটা শুধু একটা অজুহাত—এই গ্রাম, এই বাড়ি তাকে ডাকছে কোনো বড় পরিবর্তনের জন্য। হাওয়াটা তার চুলে বিলি কাটছে, আর সে যেন অনুভব করছে একটা নতুন অধ্যায়ের শুরু। জীবনের এই মোড়ে দাঁড়িয়ে রিয়াদ বুঝতে পারছে, অতীতকে ছেড়ে নতুন করে শুরু করার সময় এসেছে। কিন্তু কী অপেক্ষা করছে তার জন্য? সেই উত্তরটা যেন এই মিষ্টি হাওয়ায় লুকিয়ে আছে, তার বাড়ির দরজায়। রিয়াদ তার বাসায় পৌঁছালো ঠিক সন্ধ্যা ছয়টায়। সূর্যটা তখন পশ্চিম আকাশে ডুবে যাওয়ার উপক্রম, আর চারপাশে একটা মৃদু লালচে আভা ছড়িয়ে দিয়েছে। বাড়িটা পুরনো হলেও নতুন করে রং করা হয়েছে—সাদা আর হালকা নীলের মিশেলে বেশ সুন্দর লাগছে, যেন একটা পুরনো ছবিকে নতুন ফ্রেমে বাঁধানো হয়েছে। বাড়ির ঠিক সামনের বাগানে মোতালেব চেয়ারে বসে পড়ছেন। তাকে দেখেই রিয়াদ এগিয়ে গিয়ে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলো। —কে তুমি বাবা? কার কাছে এসেছো? —আমাকে চিনেন না... আমি আপনার ছেলে রিয়াদ... আজ সকালে দেশে এসেছি ফ্লাইটে... আপনি কেমন আছেন আব্বা? —আলহামদুলিল্লাহ। এতদিন পর হঠাৎ কী মনে করে বাড়ির কথা মনে করার কারণ? —এই তো আব্বা, আপনাদের কথা খুব করে মনে পড়লো তাই এসেছি... দেখুন আপনার জন্য কী কী এনেছি। —থাক থাক, এখন তুমি অনেক ক্লান্ত... মায়ের সাথে দেখা করে রেস্ট নাও... মোতালেব ধার্মিক মানুষ। ছেলেকে দেখলো লম্বা চুল রেখেছে আর প্যান্টটাও টু-কোয়ার্টার মানে হাঁটু বরাবর... তাই মৃদু রাগান্বিত কণ্ঠে বললেন, —আর এ কী অবস্থা তোমার পোশাক আর চুলের... বিদেশে গিয়ে ধর্মের কথাই ভুলে গেছো। —না আব্বাজান, নামাজ পড়ি নিয়মিত না হলেও পড়ার ট্রাই করি... আর মা কোথায়? —হুহ, তোমার মা'র কথা আর কী বলবো। সারাক্ষণ নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে... না করে ঠিকমতো পর্দা, না করে বাড়ির কাজ ঠিকমতো। সারাদিন আছে নিজের রূপচর্চা নিয়ে... আর তোমার বোনটাও দিন দিন পেকে যাচ্ছে মায়ের দেখাদেখি... যাও, তোমার মা তার রুমেই আছে। —আচ্ছা আব্বা, তাহলে আসি। —এসো, আর শোনো—এই বাড়িতে অনেক মেয়েলোক থাকে। তাদের সামনে এমন বেহায়ার মতো চোটো প্যান্ট পরে ঘুরো না, ওটা পালটে লুঙ্গি বা পাজামা পরো। —আচ্ছা আব্বা, ঠিক আছে। আমি চেঞ্জ করে আমার ট্রাউজার পরে নিবো নে। সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতেই চোখে পড়লো তার সৎমা রাহিমা বেগমকে... রিয়াদ তাকে দেখে এগিয়ে গেলো। —আসসালামু আলাইকুম, বড় মা। আমি রিয়াদ। কেমন আছেন? —একি তুই এসেছিস... এতদিন পর বাড়িতে এসেছিস। বস বস... দাঁড়া, তোর জন্য লেবুর শরবত নিয়ে আসছি। —না না, এতো উতলা হওয়ার কী আছে। আমি কি বাইরের কেউ... তোমার জন্য আর আমার বড় তিন আপার জন্য অনেক কিছু এনেছি। —তা দেখবো নে আগে কিছু খেয়ে নে... উফ্, কী সুন্দর আর তাগড়া হয়েছিস! —না না বড় মা, আমি আগে মা'র সাথে দেখা করে আসি। সে কোথায় এখন? —আরে একনেই তো ছিলো, কোথায় যে গেলো... আমার আবার বড় বোনের মেয়ে নাদিয়া এসেছে। দেখতে ভারী সুন্দরী, তোরই বয়সী প্রায়... ডাক দেবো? কথা বলবি? ভালো লাগলে তোর সাথে বিয়ে দিবো কী বলিস? (বেশ চওড়া করে একখানা হাসি দিয়ে) —আরে বড় মা, কী যে বলো না তুমি... ছাড়ো তো এসব মজা। এতদিন পরে এসেছি, দাঁড়াও মা'র সাথে আগে দেখা করে আসি। তার পর তোমার সাথে অনেক গল্প করবো। এরপর রিয়াদের একে একে দুই কাকা আর কাকিদের সাথেও দেখা হলো। কিন্তু তার মাকে যেন সে কিছুতেই পাচ্ছে না। আর তার বাড়িটাও এতো বড় আর এতো এতো রুম যে, মাকে পাওয়ার আগেই কেউ কেউ ধরে বসিয়ে গল্প শুরু করে দিচ্ছে। রিয়াদের মনে একটা অস্থিরতা কাজ করছে ।এতদিন পর মায়ের মুখটা দেখার জন্য সে উদগ্রীব হয়ে উঠেছে। বাড়ির প্রত্যেকটা কোণে যেন পুরনো স্মৃতি লুকিয়ে আছে, কিন্তু মা'র অভাবে সবকিছু অসম্পূর্ণ লাগছে। কাকা-কাকিরা তার অস্ট্রেলিয়ার জীবন নিয়ে প্রশ্ন করছেন, তার রেস্তোরাঁর কথা শুনে উচ্ছ্বসিত হচ্ছেন, কিন্তু রিয়াদের মন পড়ে আছে সেই একটা মানুষের কাছে যার জন্য সে এতদূর থেকে এসেছে। বাড়ির ভিতরের হলঘরটা এখনও সেই পুরনো আসবাবপত্রে ভরা, দেয়ালে ঝুলছে পুরনো ছবি, আর চারপাশে একটা পরিচিত গন্ধ যেন তাকে আরও টেনে ধরছে। কিন্তু মা কোথায়? সেই প্রশ্নটা তার মনে বেশ ভালো করেই ঘুরপাক খাচ্ছে। হঠাৎ পাশ থেকে কেউ "ভাইয়া" বলে ডাক দিল। রিয়াদ পিছনে ফিরে তাকালো। দেখলো ছোট চুলের একটা মেয়ে দৌড়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলো। মেয়েটার চোখে-মুখে খুব খুশি। —আরে ভাইয়া! তুমি! আমি রিয়া... কেমন আছো? আসবে বললে না কেন? আমার জন্য কী কী এনেছো? রিয়াদ হেসে বললো, —দাঁড়া দাঁড়া, দেখাচ্ছি। এই নে, ব্যাগের মধ্যে তোর সব জিনিস আছে। রিয়া ব্যাগ খুলে একটা একটা করে জিনিস বের করে দেখতে লাগলো। চকলেট, ছোট ড্রেস, খেলনা—সব দেখে তার চোখ চকচক করছে।  দুই ভাই-বোন মিনিট দশেক গল্প করলো। কিন্তু রিয়াদের মনটা একটু অস্থির। বাড়িতে এসেছে প্রায় আধা ঘণ্টা হয়ে গেল, তবু মাকে দেখতে পায়নি। —এই রিয়া, মা কই? তখন থেকে খুঁজছি, একবারও দেখা হলো না। রিয়া বললো, —আরে মা তো জানেই না তুমি এসেছো। মনে হয় আমেনা খালার বাসায় গেছে। অনেকক্ষণ হয়েছে, এখুনি আসবে। দাঁড়াও, ফোন দিই? রিয়াদ তাড়াতাড়ি বললো, —না না, ফোন দিস না। আমি মাকে সারপ্রাইজ দিতে চাই। এজন্যই তো কাউকে বলিনি যে আসছি। রিয়া হেসে বললো, —আচ্ছা ঠিক আছে ভাইয়া। তুমি গোসল করে নাও। গরম পানি দিয়ে। আমি একটু বাইরে যাচ্ছি। তোমার সব জিনিস রবিউলকে বলে দিচ্ছি। ও খাবার রেডি করে দেবে, আর যা লাগবে সব করে দেবে। রিয়া দৌড়ে চলে গেল। রিয়াদ তার রুমে গিয়ে বাথরুমে ঢুকলো। লম্বা একটা শাওয়ার নিলো গরম পানি দিয়ে। জার্নির ক্লান্তি সব ধুয়ে গেল। গা মুছে খালি গায়ে শুধু কোমরে একটা টাওয়েল জড়িয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো। শরীরটা এখন ফ্রেশ, মনটা হালকা। বাইরে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বাড়ির করিডরে দাঁড়িয়ে রিয়াদ চারপাশে তাকালো। মা এখনো ফেরেনি। কিন্তু তার মনে একটা উত্তেজনা। মাকে দেখে সারপ্রাইজ দেবে—এই ভেবে তার মুখে হাসি ফুটে উঠলো। বাথরুমটা ডাইনিং রুমের লাগোয়া থাকায়, বেরিয়ে আসতেই রিয়াদের সামনে ডাইনিং টেবিলটা পড়লো। কিন্তু এরপর যা সে দেখলো, তার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিল না। রিয়াদ দেখলো, দুধের মতো ফর্সা গায়ের রঙের এক অতি সুন্দরী তরুণী টেবিলে শসা কাটছে। মেয়েটার ঠোঁট গোলাপি পাপড়ির মতো নরম ও মোটা  চোখ দুটো টানা টানা, খাড়া নাক, মুখটাও গোল গাল। মাথায় খোঁপা করা, আর গা থেকে এক সুন্দর মুগ্ধকর পারফিউমের গন্ধ যেন আসছে... যা নাকে লাগার পর সেই সুবাস তরুণীর দিকে তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। রিয়াদ আন্দাজ করলো, তরুণীর বয়স কোনো ভাবেই ২০-২২ এর বেশি হবে না।
Parent