গোধূলি আলো'র গল্পগুচ্ছ - অধ্যায় ১০৭
রাগ করে বা হৈচৈ করে কোনো লাভ হবে না সেটি বুঝলাম। বুদ্ধি দিয়ে এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাই চুপ করে বসে রইলাম। একটা সময় আমার ভাবি যখন রাতের খাবার দিতে ঘরে আসলেন তখন আমি বললাম, এভাবে আর কতদিন চলবে?
তিনি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, সেটা তো বাবা জানেন।
আমি বললাম, তাকে বলো গে, আমি সবকিছু ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, তার কথাই মেনে নেবো। আসলেই তো মায়ের জন্য তো আর আমি নিজের জীবনটা নষ্ট করতে পারি না। তাছাড়া এখন তো তিনি বিপদমুক্ত তাই সবকিছু আবার আগের মতো হয়ে যাওয়াটাই মঙ্গল।
আমার কথা শুনে ভাবির মুখ হাসিতে ভরে গেল। তিনি বললেন, সত্যি বলছ?
আমি হাসিমুখে বললাম, একশো ভাগ সত্যি।
ভাবি খুশিতে প্রায় নেচে উঠে বললেন, যাই আমি তাহলে বাবাকে সুখবরটা দিয়ে আসি।
বলেই তিনি ঝড়ের গতিতে ঘর থেকে ছুটে গেলেন। আর আমি মুখে মেকি হাসি আর বুকে ব্যথা নিয়ে বিষন্ন মনে বসে রইলাম।
সবকিছু আবার আগের মতোই চলতে লাগলো। শুধু আমার আর মায়ের সম্পর্কটা আর আগের মতো রইলো না। তিনি এখন আমাকে দেখলেই ঘোমটা তুলে দেন মাথায়। নিজে থেকে তো কিছু বলেনই না, আমি কিছু জিজ্ঞেস করলেও জবাব দেন না। তাকে সবকিছু বুঝিয়েও বলতে পারি না ঘরের ভেতরে। কিন্তু একদিন সুযোগ পেয়ে গেলাম। বিকেলে ছাদে পায়চারি করবার সময় তিনি এলেন ছাদে শুকাতে দেয়া কাপড় তুলতে। তাকে দেখেই আমি কাছে এগিয়ে গিয়ে বললাম, কথা বলো না কেন আমার সাথে?
মা ছাদের রশি থেকে কাপড় তুলতে তুলতে নির্লিপ্ত ভাবে বললেন, বলবার আর কী বাকি আছে?
আমি বললাম, আমার অবস্থাটা একটু বোঝার চেষ্টা করবে না?
মা এবার মুখ ঝামটা দিয়ে বললেন, যা বোঝার তা বুঝে নিয়েছি। কাপুরুষ কোথাকার!
আমি ক্ষীণ স্বরে বললাম, বাড়ির সবার বিরুদ্ধে গিয়ে আমি কী করতে পারতাম? কিছু করতে গেলে বরং তোমার আর আমার ঝামেলাই বাড়তো।
মা তাড়াতাড়ি ছাদের রশি থেকে সব কাপড় তুলে নিয়ে বললেন, এসব শুনবার মতো মন নেই আমার এখন।
বলেই তিনি দ্রুত সেখান থেকে চলে গেলেন। আর আমি বজ্রাহতের মতো সেখানে দাঁড়িয়ে রইলাম।