গোধূলি আলো'র গল্পগুচ্ছ - অধ্যায় ১১৫
আকলিমা বারবার করে বুঝিয়েছে, একবার যখন হয়ে গেছে তখন চালিয়ে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। নইলে সবদিক হারাতে হবে। তবু সেলিনা ভেবে রেখেছিলেন আবিরের সাথে সরাসরি এই ব্যাপারে কথা বলে বিষয়টিকে সহজ করে নিয়ে আবার পুরোপুরি মা-ছেলের সম্পর্কেই ফিরে যাবেন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে বিষয়টি সহজ হবে না। আবিরের সামনে দাঁড়াবার মতোই জোর নেই মনে। আর ভেতরে যে শিহরণ বইছে তাতে আবার মা-ছেলের সম্পর্কে ফিরে যাওয়া অসম্ভব। সেলিনা চুপ করে বিছানায় পড়ে রইলেন। রাতে চৈতি খাবার খেতে ডাকলে তিনি না করে দিলেন। কিন্তু গভীর রাতে যখন ক্ষিদে পেলো তখন ডাইনিংয়ে গেলেন খাবার খুঁজতে। ফ্রিজ খুলে তেমন কিছু না পেয়ে যখন রান্নাঘরের দিকে যাবেন তখনই রান্নাঘরের পাশের ওয়াশ রুম থেকে আবির বেরিয়ে এলো খালি গায়ে, লুঙ্গি পরা। মুখোমুখি হয়ে দুজনেই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। সেলিনা নীরবে মাথা নিচু করে রান্নাঘরে ঢুকে গেলো। আবির কিছু সময় স্তব্ধ দাঁড়িয়ে থেকে নিজের ঘরে চলে গেলো।
সারা রাত সেলিনার ঘুম হয় নি। সকাল বেলা ভাবলেন, যেভাবেই হোক কথা বলতে হবে আবিরের সাথে। সেই অনুযায়ী চৈতিকে বললেন, ইলিশ মাছ খেতে ইচ্ছে হচ্ছে খুব। যাও তো মা বাজার থেকে একটা ইলিশ নিয়ে এসো। আর যাচ্ছো যখন আর যা যা লাগবে তাও নিয়ে এসো।
চৈতি নীরবে মাথা নেড়ে চলে গেলো। সে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হবার পর সেলিনা দরজা লক করে আবিরের ঘরের দিকে গেলেন। হৃৎপিণ্ড ঢিবঢিব করছিল। কোনো মতে তাল সামলে তিনি ঢুকলেন আবিরের রুমে। আবির তখন অফিসে যাবার জন্য তৈরি হচ্ছিল। মাকে দেখেই চমকে উঠলো। কিন্তু মুখ দিয়ে বের হলো না কিছু। সেলিনা আমতা আমতা করে বললেন, কথা ছিল একটু।
এবার আবির কিছুটা সহজ হয়ে বললো, হ্যা বলো।
সেলিনা বললেন, খুব ব্যক্তিগত কথা। তাই চৈতিকে কায়দা করে বাজারে পাঠিয়ে দিয়েছি।
আবির এবার মাথা নিচু করে বললো, পরশু দিন রাতে যা ঘটে গেছে তার জন্য দুঃখিত।
সেলিনা এবার সব লজ্জা ভুলে সোজা আবিরের দিকে তাকিয়ে বললেন, দুঃখিত হবার কিছু নেই। যা ঘটেছে সব আমার প্ল্যান মোতাবেক ঘটেছে। আমি ইচ্ছে করেই করেছি ওসব।
আবির অপরিসীম বিস্ময়ে হতবাক হয়ে চেয়ে রইলো মায়ের দিকে।