কমিউনিটি সার্ভিস - অধ্যায় ৩৩
2.5.2
আটাত্তরে সংগঠনের শুরুর দিকের কথা। সাগরপাড়ের এলাকা থেকে হাকিম চৌধুরির একজন দোস্ত আসবে। আগে তাবলীগি জামাতে এসে পরিচয় হয়েছিল। তারপর খুব খাতির। চিঠি লিখে বলেছে আসবে। চিঠি পৌছাতে পৌছাতে মেহমান আসবার দিন চলে এল।
তখনকার দিনে হোটেল-মোটেল অত ছিলনা। থাকলেও সজহলভ্য নয়, বেশ দূরে। সংগঠনের প্রভাবে তাবলীগ ছেড়ে দিয়েছে লোকটি, তাই থাকতে হবে নিজ উদ্যোগে। দ্বিনী ভাইয়ের বাড়িতে থাকবেন, সমস্যা নেই। কিন্ত হাকিম চৌধুরি সূক্ষ্মভাবে চিন্তা করার লোক।
সাথীদের জানালেন ঘটনা। লোকটি একটা কাজে আসবে। থাকবে সপ্তাদুয়েক। শুনে সবাই জানালেন এটা ঠিক হবেনা। চৌধুরি সাহেব থাকবেন ব্যবসায়ের কাজে বাইরে। বাড়িতে শুধু স্ত্রী আর ছোট্ট জয়নাল। লোকটা এসে থাকবে দিনরাত, শরীয়তসম্মত হবেনা।
কয়েকটা সল্যুশন বের হল দলের আলোচনায়। চৌধুরি সাহেব বন্ধুকে বাসায় রাখবেনই - না রেখেও উপায় নেই, বেচারা থাকবে কই? এক্ষেত্রে শাতিরা বেগমের সঙ্গে মেহমানের মাহরামের সম্পর্ক থাকা বাধ্যতামূলক। যেহেতু লোকটি তার বাপ-ভাই কেউ নয়, স্বাভাবিকভাবে তা হচ্ছেনা।
হালালা তখন দেশে পুরোদমে প্রচলিত। সেই অপশনটি তো থাকছেই। কিন্ত তাতে সমাধান হচ্ছে কই। তখন চৌধুরি সাহেব বেগানা হয়ে যাবেন, তাকেই বাইরে ঘুমাতে হবে!
বৃত্তের বাইরে বেরিয়ে বাস্তববাদী কিন্ত সৎভাবে জীবনযাপনের নিমিত্তে গড়া সংগঠনটিতে নতুন নতুন যুক্তিতে ফতোয়া উদ্ভাবন হয় অহরহ। এরমধ্যে কোনটি বেদাত, কোনটি যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে তর্কের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
মুসাফিরের খেদমতের ফতোয়ার উদ্ভাবক সংগঠনের কেউ নয়। সংগঠনের প্রতি আগ্রহী একজন মুফতিকে সিলেট থেকে আমন্ত্রণ করে আনা হয়েছিল ক'মাস আগে। উদ্দেশ্য, তিনি সদস্যদের স্বপ্নের কলোনির জন্য একখন্ড জমির ব্যবস্থা করবেন কয়েকজন ভক্তকে কাজে লাগিয়ে। পয়সা সদস্যরাই জমা করেছে। কিন্ত এমন জায়গায় নিষ্কন্টক জমি পাওয়া, কেনা, আর ধরে রাখা কঠিন।
তখনও চৌধুরি সাহেবের মত সমস্যায় পড়েছিল সংগঠন। তাবলিগী না হওয়ায় মসজিদে অবস্থানের সুযোগ নেই, এটা একটা বড় সমস্যা। নিমন্ত্রণ করে মেহমানকে হোটেলে রাখলেও সম্মান থাকেনা। সংগঠনের সকলে হয় চাকুরিজীবি নয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি। ভাড়া বাসায় বা ছোট্ট বাড়িতে থাকেন। টাকা-পয়সা জমান কলোনির জমি-মসজিদ-মাদ্রাসার জন্যে।
সবারই রুম সংকট। তাদের মধ্যে বাহালুল হকের ভাড়া বাসায় গেস্টরুম আছে। মুফতি সাহেবের আগমন উপলক্ষ্যে একটা বেডরুম পরিষ্কার করে রাখা হয়েছে। ছোট চৌকির গেস্টরুম তো হুজুরকে দেয়া যায়না।
বাহালুল হকের বাসায় স্ত্রী-কন্যা আছে। মুফতি সাহেব এসে জমি বায়না করতে করতে সপ্তাখানেক অন্তত লাগবেই। চৌধুরি সাহেবের মতই সমস্যাটা ধরা পড়েছিল তখন।
হুজুর চলে এসেছেন, ব্যাগপত্র রেখে বিশ্রাম করে খাওয়া-দাওয়া করেছেন। আছরের সময় সমস্যাটা মসজিদের বাইরে মাঠে হুজুরকে নিয়ে গোল হয়ে বসে কুশলাদি বিনিময়ের সময় কেউ একজন তোলে।
অনেকেরই মনে হয় এটা তেমন কোন সমস্যা না। শুধু শুধু ঝামেলা তৈরি করা হচ্ছে। কিন্ত, আলোচনা যেহেতু শুরু হয়েছে, সমাধান আবশ্যই।
প্রথম সমাধান, মুফতি সাহেবকে স্থান বদল করতে হবে। কিন্ত বাহালুল হক মোটেও রাজি নন। হুজুর এসে আবার থাকার জায়গার জন্যে সন্ধ্যাবেলা দৌড়াদৌড়ি করবেন, এ-তো নিজের জন্যে বটে সংগঠনের জন্যেও লজ্জ্বার।
হালালার কথাই প্রথম ওঠে। বাহালুল হল স্ত্রীপ্রেমী মানুষ, তালাক-ফালাক বলতে পারবেন না। হাত নেড়ে মাথা ঝাঁকিয়ে মানা করে দিলেন। আরেক সমাধান হলো হুজুর যদি মেয়েটিকে বিয়ে করে নেন। তাতে সুবিধা হল, বৌ-শ্বাশুড়ি এক বাড়িতে থাকতেই পারে। এর আবার দুই সমস্যা। একেতো হালালা জিনিসটিই প্রশ্নবিদ্ধ, নেহাৎ প্রয়োজন হলে মেনে নেয়া হয়। তারওপর একেবারে শুধুশুধু সাময়িক বিয়ে কি জায়েয হবে?
কেউ কেউ বলেন শুধুশুধু তো নয়, দ্বীনি কাজের জন্যেই হবে। তা-ও নাহয় হতো, কিন্ত হুজুরের অলরেডি বিবি রয়েছে চারখানা!
মুসাফিরের খেদমতের যুক্তিটা ঠিক কে উত্থাপন করেছে, সঠিক জানা যায়না। প্রাথমিকভাবে বেশিরভাগ সদ্স্যই বিপক্ষে ছিল। কিন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিয়ের প্রশ্নবিদ্ধতা এড়িয়ে সমস্যা সমাধানের পন্থাটি ক্রমে যুক্তিযুক্ত মনে হল সবার। শিয়াদের তো মু'তা আছে, বলেন কেউ কেউ। সুন্নী ভিত্তিতে বেড়ে ওঠা সংগঠনে ওটা গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্ত বিশেষ প্রয়োজনে ওটাই প্রয়োগ করা যায় কিনা সে নিয়ে তর্কাতর্কি হলো।
সরাসরিভাবে শরীয়াসম্মত বলে স্বীকৃত না হলেও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ল মুফতি সাহেবের মন্তব্যে। যেহেতু দেশে শরীয়া চলছেনা, বিরুপ পরিবেশে রয়েছে সংগঠন, তাই শিয়াদের থেকে তাকিয়া, মু'তার মত কিছু বিশেষ বিষয় ধার করা যেতে পারে। তৎক্ষণাৎ টিকে থাকা ও বিস্তারের স্বার্থে সৎ উদ্দেশ্যে মুসাফির খেদমতের ফতোয়ার খসড়া পাশ হল।
চৌধুরি সাহেবের ঘটনার আগ পর্যন্ত তিনবার ফতোয়াটির প্রয়োগ করা হয়েছে। প্রতিবারই কোন গুরুত্বপূর্ণ ওলীর আগমন উপলক্ষে। সদস্যদের মধ্যে একটা বোঝাপড়া আছে, শুধুমাত্র সংগঠনের সৎ স্বার্থেই এই ফতোয়ার প্রয়োগ করা যাবে। চৌধুরি সাহেবই প্রথম ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উত্থাপন করেন।
এমন নয় যে এরকম সিচুয়েশন অন্য বাড়িতে হয়না। দূর সম্পর্কের না-মাহরাম আত্মীয়-স্বজন তো সবার ঘরেই মাঝেসাঝে বেড়াতে আসে। কেউ এসে একরাত থাকলেই ঘরের নারীদের সঙ্গে শোয়াতে হলে তো বিপদ। বাস্তবতা বিবেচনায় এ নিয়ে কেউ চিন্তা করেনা। চৌধুরি সাহেবই সমস্যাটি সামনে আনলেন।
সেবার শেষপর্যন্ত শাতিরা বেগমের বিছানায় পরপুরুষের ঠাঁই হয়নি। বিশদ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, এক সপ্তাহ পর্যন্ত না-মাহরাম এক ছাদের নিচে থাকতে পারবে বিনা সমস্যায়। এরমধ্যে মাহরাম করার কোন বাধ্যবাধকতা নেই, যদি আলাদা ঘরে মেহমানকে রাখা যায় এবং নারীরা পর্দা করতে রাজি থাকেন।
যেহেতু সাতদিনের বেশি দূরের বন্ধু-আত্মীয় সাধারণত কারো বাসায় সাধারণত অবস্থান করেনা, সে হিসেবেই এই ফতোয়া দেয়া হয়। চৌধুরি সাহেবের বন্ধুর কাজ চারদিনেই শেষ হয়েছিল।
অতদিনে আবার মুসাফিরের খদমতের ব্যাপারটি সংগঠনের মেহমানদের কাছে প্রত্যাশিত হয়ে উঠেছে। কলোনির জমি রেজিস্ট্রির সময় সিলেটের মুফতিসাহেব এলেন গোটাছয় সাগরেদসহ। রেজিস্ট্রির সময় এলাকার কেউ ঝামেলা করতে চাইলে সঙ্গে যত লোক রাখা যায়, ততই ভাল।
নিজ জমিতে বাড়ি উঠেছে সবে চৌধুরি সাহেবের। স্বভাবতই তার ঘরে জায়গা হলো দুজনের। তারা এক সপ্তা নয়, থাকবেন এক রাত। তা হলে কি হবে, হুজুরের অতিথিদের ওসব যুক্তি দেখালে চলবেনা। তারা ঠিকই রাতে শোবার ঘরে বিছানার মাঝে জায়গা রেখে অপেক্ষা করবেন।
ত্রবধূর অস্থিরতা দেখে শাতিরা বেগম রাগ করেন না। দুই যুগ আগে অতিথি নিয়ে ঘরে এসে এক কোণে ডেকে স্বামী যখন দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছিল, তিনিও সন্তস্ত্র হয়ে পড়েছিলেন।
সেতুকে বইটি নিয়ে মনযোগ দিয়ে বারবার পড়তে দেখে আশান্বিত হন শাতিরা বেগম। যাক, মেয়েটা আস্তে-ধীরে সব জানুক। তাহলে পরে ভয় কম পাবে। তার সময় তো কেউ কিছু বলার-বোঝানোর ছিলনা।
- বৌমা, বইটা পড়ছ, দিলাম যে?
বিকেলে বৌকে নিয়ে শাক বাছতে বসে জিজ্ঞেস করে শ্বাশুড়ি।
- জ্বি আম্মা।
গলা নিচু করে জবাব দেয় বৌ।
- দোয়াগুলা দেখছ?
- হ্যাঁ।
- এগুলা কিন্ত এমনিও পড়া লাগে, বরকত আছে। স্বামীর সাথে হইলেও পড়া লাগে। পড়?
- না.. জানতাম না তো।
- এখন পড়। তোমার তো ব্রেন ভাল, তাড়াতাড়ি মুখস্ত করতে পারো। কামেল লোকের কাছে যাইবা, ওনারা কামেল মেয়েলোকই পছন্দ করে।
- উঁ..
লালশাকের ডাঁটা ছিলতে ছিলতে শুনছে সেতু।
- পুরাটা পড়ছ? ছবি আছে, দেখছ?
- হুম, দেখেছি।
- ভয় পাওয়ার কিছু নাই। তুমি খালি সময়মত দোয়া-দুরুদ পড়বা, যেসময় যেটা। দেখতে দেখতে কাম হয়ে যাবে।
আশ্বস্ত করার জন্যে বলেন শাতিরা বেগম। সেতু চুপচাপ শুনছে।
- এইযে পরীসাব হুজুর না? হ্যায় কিন্ত অনেক খুতখুইতা।
হাসুর মা আলু ছিলতে ছিলতে বলে। হাসুর মা বাড়ির কাজের মহিলা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজকর্ম করে, রান্নাবান্নায় সাহায্য করে।
- ক্যান? কি হইছে?
- গত বচ্ছরও তো আইছিল। ময়েজ সাবের পোলার বৌরে নিয়া গেছিল ওনার ইস্তিরী। হুজুর জিগায় আয়তুল কুরছি, কইতে পারেনা। সূরা কোনটা জানি জিগাইল, পারেনা। পরে জিগায়, অযু কইরা আসছেন? ছেড়ি কয়, জ্বি। কিন্ত হাত ধোয়া পাও ধোয়া কয়বার-কি কইতে পারেনা। বোরকা পিন্দাইয়া ফিরত পাঠাইয়া দিছে। বাইরে ময়েজ সাবের বৌ আছিল, হ্যায় অনেক রিকুয়েস্ট করছে। হুজুর কয়, না - পরেজগার মেয়েলোক ছাড়া কাওরে হ্যায় সদকা নিবোনা।
শাতিরা বেগম শুনে মাথা ঝাঁকান।
- দেখছ বৌ, কামেল লোকের চাই কামেল নারী। তুমি বুদ্ধিমান আছ, সব মুখস্ত রাখবা।
- জ্বি।
সেতুরও ঘটনা শুনে ভয় হয়। এতকিছুর পর যদি এভাবে রিজেক্ট করে দেয়, তবে শ্বাশুড়িকে কিভাবে মুখ দেখাবে?
- জয়নাল, কাল গোডাউনের দিকে যাবি রে?
রাতে খেতে বসে ছেলেকে জিজ্ঞেস করেন শাতিরা বেগম।
- জ্বি আম্মা।
- জাহিনরে বলিস, দুপুরে যেন বাসায় চইলা আসে।
- আগামীকাল? কালকে তো মাল আসবে মনে হয়।
- সারাদিন থাকতে হবে? কর্মচারী আছেনা? দুপুর বেলায় আসতে বলবি। খাওয়াদাওয়া করে ঘন্টা-দেড় ঘন্টার মধ্যে চইলা যাবে।
- আচ্ছা, বলব।
- সকাল সকাল বলবি। বাসায় জানায়ে দিবি কাউকে দিয়ে। বৌমা রেডি হয়ে থাকবে।
- আচ্ছা।
কথোপকথন শুনে সেতুর কান খাড়া হয়।
- কোথাও যেতে হবে, আম্মা?
- না, যাওয়া-যাওয়ির ডেট এখনো শিওর হয়নাই।
শ্বাশুড়ি বলেন। মাথা নাড়ে সেতু। আর প্রশ্ন করেনা। এমনিতেই মাত্র "পালিয়ে" যাবার পর ফিরেছে। বেশি পকপক করলে শ্বাশুড়ি ক্ষেপতে পারে। জয়নাল যে রাগ করেনি তাতেই কৃতজ্ঞ সেতু। অবশ্য মায়ের ওপর আগ বাড়িয়ে রাগ দেখাবেও না।
সকালে দশটার দিকে লোক মারফত খবর আসে, মেহমান আসছে।
- মামা একা আসবে?
রান্নাঘরে বসে জিজ্ঞেস করে সেতু।
- হ্যাঁ। ব্যবসা রেখে আসবে। এসে চলে যাবে।
জাহিন সাহেব সেতুর মামাশ্বশুর। বয়সে শাতিরা বেগমের ছোট। নাম জাহিনউদ্দিন খান। শরীয়াভিত্তিক পলিটিক্স করেছেন ছাত্রজীবন থেকে, পোড় খাওয়া লোক। ওনার এলাকায় বড় ফিনান্সিয়ার ছিলেন, অভিজ্ঞ লোক। সরকার পরিবর্তনে ব্যবসায় ধ্বস নেমেছিল, তা আর ঠিক হয়নি। তবে ভালই আছেন বলতে হয়। সবসময় ফুর্তিতে থাকেন।
- কাছাকাছিই না ওনাদের বাসা, এত তাড়াহুড়া করে আসবে যে?
- তোমার জন্যই না আসবে। শুক্রবার ডেট পড়লে আগে থেকে রেডি হইতে হবেনা?
- আমার জন্য?
- হ্যাঁ। যোহরের পর আসবে। তাড়াতাড়ি রান্নাবাড়া শেষ কর, গোসল-টোসল করে রেডি থাকবে। বিকালে নাকি সিলেট থেকে মাল আসবে। বেশি সময় পাবেনা।
- কোথায় যাব আমরা?
- যাওয়ার সময় কই? তোমাদের শোয়ার ঘরটা গুছিয়ে রেখো। জয়নালের ধোয়া লুঙ্গি আছেনা?
- আছে।
- লুঙ্গি দিয়ো। দেখো বিছানার ওপর যে না দাঁড়ায়। ফ্যানে বাড়ি খাবে।
- জ্বি। খাওয়া-দাওয়া করে রেস্ট নিয়ে ফিরবে মামা?
- রেস্ট নেওয়ার সময় পেলে নিবে। পাংখা রেখো হাতের কাছে, কারেন্টের তো ঠিক ঠিকানা নেই। গরমে কষ্ট করবে।
যোহরের পরপরই কাঠের দরজায় নক হলো। শেষ মুহুর্তের রান্নায় হাসুর মায়ের সঙ্গে হাত লাগাচ্ছিল সেতু। শ্বাশুড়ি বললেন দরজা খুলে দিতে।
পাঞ্জাবি-পাজামা পড়া লম্বা একটা লোক দাঁড়ানো। ঘাড় তুলে তাকাতে হয় সেতুকে। পেটানো শরীর, খোচা খোচা লাল-সাদা দাঁড়ি, স্মিত হাসি। জাহিন সাহেব বিয়ের সময় এসেছিল, সেতুর খেয়াল নেই। বলা চলে প্রথমবার দেখা। তবু চিনতে সমস্যা হয়না গৃহবধূর। মামার কথা অনেক শুনেছেন। অনেক মজার গল্প আছে ওনাকে নিয়ে।
- এ্যাই, এ্যাই.. ওঠো..
পা ছুঁয়ে সালাম করতে গেলে মাথায় হাত দিয়ে হাসেন জাহিন সাহেব। শক্ত চোয়ালে সুদৃশ্য হাসি।
- কি যেন নাম তোমার?
- জ্বি, সামিতুন্নেছা সেতু।
- মাশাল্লা, জয়নাল ভাল বৌ পেয়েছে তো।
মামাকে তাকিয়ে থাকতে দেখে সলাজ হয়ে ঘোমটা দেয় সেতু। বলে,
- মামীকে নিয়ে আসতেন?
- ওদের নিয়ে আসার সময় কই। আপার অর্ডার তাই এলাম।
শাতিরা বেগম বেরিয়ে এসেছেন। বলেন,
- আসছিস? নে, বোস। খেতে বোস।
- আমার কিন্ত সময় খুব শর্ট, আপা।
- সব রেডি, হাত ধুয়ে বস। হাসুর মা, খাবার বাড়ো।
হাঁক দেন।
জাহিন সাহেব হাত ধুয়ে পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে খেতে বসেন। বোন-ভাগ্নেবৌকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলেন,
- বৌমা, বসো, খেতে বসো। আপা, তুমিও বসো। আমরা নিয়ে নিয়ে খাবো।
- আমি পরে খাব মামা। আম্মা বসে পড়েন।
সেতু বাটি সাজাতে সাজাতে বলে।
- তুমি বইসা পড়ো মামার সাথে। আমি আজ খাবনা দুপুরে।
শাতিরা বেগম চামচ হাতে নেন। বৌকে ধরে বসিয়ে দেন ভাইয়ের পাশে।