মা-ছেলের ভালবাসার ঘর - অধ্যায় ৩
আপডেট-৩
তবে এখন মায়ের প্রতি আমার অনুভুতি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। মা যেহেতু এখন যুবতী ছিল তাই আমি ভাবতাম এখন মায়েরও আমার সাহায্য প্রয়োজন। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে মাকে এই দুঃখ থেকে বের করে আনবো । এক শুক্রবার আমি তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফিরে এলাম আর মাকে বললাম।
আমি: দেখো মা আমি তোমার জন্য কি এনেছি!
মা: কি এনেছিস? কোন নতুন সবজি?
মা রান্নাঘরের বাইরে না এসে সেখান থেকেই চিৎকার করে কথাগুলো বললো। তখন আমি বললাম।
আমি: বাইরে এসে দেখে যাও।
মা: ১মিনিট অপেক্ষা কর আমাকে প্রথমে রান্নাটা শেষ করতে দে।
আমি তখন একটু বিরক্ত হয়ে বললাম।
আমি: সত্যি তুমি না!
একথা বলতে বলতে আমি রান্নাঘরে ঢুকে গেলাম আর গ্যাস বন্ধ করে মায়ের ডান হাত আমার বাম হাতের সাথে চেপে ধরলাম এবং আমার ডান হাত তার কোমরের পাশে রেখে রান্নাঘর থেকে টেনে নিয়ে আসলাম আমার ঘরে। এভাবে টেনে আনায় মা একটু হচকচিয়ে গেল এবং বলল।
আমি: আরে কি করছিস তুই ? এমন করে তোর বাবাও আমাকে কখনও টেনে আনেনি।
মার একথা শুনে আমি একটু রেগে গিয়ে বললাম।
আমি: মা আমি এখন এবাড়ির অভিভাবক এবং তোমার সব দুঃখ দূর করে আমার একমাত্র কর্তব্য।
একথা বলে প্যাকেটটা খুলে মাকে বললাম।
আমি: দেখো মা তোমার জন্য একটা নতুন শাড়ি এনেছি। আমি জানি যে এশাড়ীর একটি ম্যাচিং ব্লাউজ আছে তোমার কাছে। তাই দয়া করে এটা পরে নাও। আজ আমরা একটা সিনেমা দেখতে যাবো।
মা: না রে আমি এখন এটা পড়বো না। আর আমি কোনো সিনেমাও দেখতে চাই না।
আমি: ঠিক আছে।
মার কথা শুনে আমার খুব রাগ হলো আর আমি দ্রুত আমার ঘরে চলে এলাম। আমি সেখানে কিছুক্ষণ বসে রইলাম। আমি কী করবো বুঝতে পারছিলাম না তাই আমি আমার গাড়ির চাবি নিয়ে বাড়ির মূল দরজাটি ধাক্কা দিয়ে বাইরে চলে গেলাম যাতে মা শব্দ শুনতে পায় । আমি গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম মা মূল দরজার দিকে ছুটে আসছে তবে আমি থামলাম না। আমি একটি বারে গেলাম আর দু পেগ মদ খেলাম । কিছুক্ষন থেকে আমি উঠতে যাব এমন সময় আমার পুরাতন দুই সহপাঠী বারে প্রবেশ করল আমি আবার তাদের সাথে বসে গেলাম। তারপরে আমি নিজেও জানি না আমি কতটা মদ খেলাম। তবে আমি বুঝতে পারছিলাম যে আমি আর হাঁটতে পারছি না আর সঠিকভাবে কথা বলতে পারছিলাম না । সেদিন আমার এক বন্ধু আমাকে তার গাড়িতে করে আমার বাড়িতে নিয়ে যায়, অন্যজন আমার গাড়িটা আমার বাড়িতে নিয়ে যায়।
তারা যখন আমাকে ধরে ধরে দরজার দিকে নিয়ে যাচ্ছিলো তখন আমি দেখলাম মা আমার জন্য অপেক্ষা করছে। আমি শুধু এটাই মনে রাখতে পেরেছিলাম। পরদিন যখন আমি জেগে উঠলাম আমি মায়ের শোবার ঘরে নিজেকে দেখে হতবাক হয়ে গেলাম। আর দেখলাম মা কাঁদতে কাঁদতে আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে । আমার বন্ধুরা চলে যাওয়ার পরে ঘটনাগুলি আমার কিছু কিছু মনে পড়ছিল। আমার মনে আছে কীভাবে মা আমাকে বেডরুমে আনার জন্য চেষ্টা করছিল। কারণ তার পক্ষে আমাকে ধরে আমার ঘরে নিয়ে যাওয়ার শক্তি ছিলো না। তাই নিজের ঘরেই আমায় শুইয়ে দিয়েছিলো। মাকে কাঁদতে দেখে আমি মাকে বললাম।
আমি: দেখো মা! যা হয়েছে তার জন্য আমি খুব দুঃখিত। তবে এটা তোমার জন্যই হয়েছে। কাল তুমি যদি আমার কথা শুনে সিনেমা দেখতে যেতে তবে এমনটি হত না।
আমার কথা শুনে মা ধমকের সুরে আমাকে বলল।
মা: চুপ কর! তুই এখন বড় হয়েছিস। এখন তোর কোনটা সঠিক আর কোনটা ভুল তা তোর জানা উচিত।
আমি: তবে মা.....
মা আবার কাঁদতে কাঁদতে বলল।
মা: সব দোষ আমার। আমি একজন ব্যর্থ মা।
আমি: মা এটা কী কোন একটা ব্যাপার হলো? আমি এর আগে কখনও মাতাল হয়ে বাসায় আসিনি। গতকালের কথা ভুলে যাও। এবার থেকে এরকম আর কোনোদিন হবে না।
মা: মোহন তোর যদি কিছু হয় তবে আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো? আমি ইতিমধ্যে তোর বাবাকে হারিয়েছি আর এখন যদি তোর কিছু হয়?
একথা বলে মা আবার কাঁদতে শুরু করল।