মা ও ছেলের গল্প - অধ্যায় ১

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-73998-post-6234237.html#pid6234237

🕰️ Posted on Sun Jun 07 2026 by ✍️ emon295 (Profile)

🏷️ Tags:
📖 359 words / 2 min read

Parent
[ পর্ব - 4 ] আসিফ হাত-মুখ ধুয়ে যখন ডাইনিং টেবিলে এলো, তখনো রাবেয়া বেগমের মুখে হালকা অভিমানের মেঘ জমে ছিল। তিনি আসিফের প্লেটে ভাত বেড়ে দিয়ে নিজে একটু দূরে গিয়ে বসলেন। আসিফ লক্ষ্য করল, মা নিজের প্লেটে খাবার নেননি। সে শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করল, "মা, তুমি খাবে না?" রাবেয়া বেগম মুখ ফিরিয়ে বললেন, "তুই খা। আমার ক্ষুধা নেই।"আসিফ আর কোনো কথা বাড়াল না। সে নিজের হাত ভালো করে ধুয়ে, প্লেট থেকে এক গ্রাস ভাত যত্ন করে মাখল। তারপর চেয়ারটা টেনে মায়ের একেবারে পাশে গিয়ে বসল। ভাতের লোকমাটা মায়ের মুখের সামনে তুলে ধরে আসিফ বলল, "ছেলেকে এতক্ষণ দুশ্চিন্তায় রেখে মা একা একা খেয়ে নেবে, তা তো হয় না। নাও মা, মুখ খোলো।" মায়ের রাগ তখনো পুরোপুরি কমেনি। তিনি বললেন, "আ আদিখ্যেতা করিস না তো আসিফ! নিজে খা, তোর এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে।"আসিফ সরু হাসল। লোকমাটা না সরিয়ে জেদ ধরার মতো করে বলল, "তুমি না খেলে আমিও আজ এক লোকমাও মুখে দেব না। সারারাত দুজনেই না খেয়ে থাকব।" ছেলের এই অবুঝ শান্ত জেদের কাছে রাবেয়া বেগমকে হার মানতেই হলো। তিনি আর রাগ ধরে রাখতে পারলেন না। ছলছল চোখে ছেলের হাত থেকে ভাতের লোকমাটা মুখে নিলেন। মায়ের মুখে খাবার তুলে দিয়ে আসিফের মুখে এক চিলতে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল।এরপর রাবেয়া বেগমও নিজের হাতে মাখিয়ে আসিফকে খাইয়ে দিতে লাগলেন। লোক দেখানো রাগ আর অভিমানের দেয়ালটা ভেঙে ডাইনিং রুম জুড়ে তখন কেবল এক মায়ের ভালোবাসা আর ছেলের পরম শ্রদ্ধার এক অপূর্ব মুহূর্ত তৈরি হলো। খাওয়াদাওয়া শেষ করে আসিফ নিজেই টেবিলটা পরিষ্কার করল। রাবেয়া বেগম বিছানা ঠিক করতে করতে আসিফকে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ার তাগিদ দিলেন। সারাদিনের ক্লান্তি আর বৃষ্টির রাতের ঠান্ডা আবহাওয়া—সব মিলিয়ে দুজনের চোখেই তখন রাজ্যের ঘুম।আসিফ তার নিজের ঘরে গিয়ে লাইটটা নিভিয়ে দিল। জানালা দিয়ে হালকা বৃষ্টির মিষ্টি শব্দ আসছিল। বিছানায় পিঠ ঠেকানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই সে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল। ওদিকে নিজের ঘরে শুয়ে রাবেয়া বেগম অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত শান্তি অনুভব করলেন। ডাইনিং টেবিলের ওই পরম মুহূর্তটি তার মনের সব ক্লান্তি ধুয়ে মুছে দিয়েছে। ছেলের খাইয়ে দেওয়া আর তার শান্ত মায়াবী মুখটার কথা ভাবতে ভাবতেই কখন যে তাঁর চোখের পাতা ভারী হয়ে এলো, তিনি নিজেও টের পেলেন না।বাইরে তখনো ঝিরঝির করে বৃষ্টি পড়ছে, আর ঘরের ভেতরে রাগী মা আর তার শান্ত ছেলে সব রাগ-অভিমান ভুলে পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে।
Parent