মা ও ছেলের গল্প - অধ্যায় ১০
[ পর্ব - 15 ] #########################################আসিফ দ্রুত বাজারে গিয়ে কাপড়ের দোকানটি বন্ধ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে পৌঁছাল। সে খুব নিখুঁতভাবে জামদানি শাড়ির রঙের সাথে মিলিয়ে একটি সুন্দর ছায়া (পেটিকোট) পছন্দ করল। এরপর ব্লাউজের সেকশনে গিয়ে মায়ের আরামের কথা চিন্তা করে একটি চমৎকার হাতা কাটা (স্লিভলেস) ব্লাউজ কিনে নিল। গরমের দিনে মা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে এটি পরতে পারেন, সেটাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য।উপহারের বাকি অংশটুকু সম্পূর্ণ করে আসিফ দ্রুত পায়ে বাসায় ফিরে এলো। নিজের রুমে ঢুকে সে দেখল রাবেয়া বেগম বাধ্য মেয়ের মতো বিছানায় বসে তার জন্য অপেক্ষা করছেন। #########################################আসিফ আর এক মুহূর্তও দেরি না করে মায়ের কোলের ওপর শাড়ি, ছায়া এবং হাতা কাটা ব্লাউজের প্যাকেটগুলো একসাথে তুলে দিল। মায়ের অবাক হওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে আসিফ পরম আদরে বলল, "এবার তোমার সারপ্রাইজ পুরো কমপ্লিট মা। তুমি এখনই তোমার ঘরে গিয়ে এগুলো পরে নাও। তারপর আমার রুমে এসে আমাকে দেখাও, দেখি আমার রানি মাকে কেমন লাগছে!"রাবেয়া বেগম ব্লাউজ আর ছায়ার দিকে তাকিয়ে প্রথমে একটু লজ্জা পেলেন। ৪৫ বছর বয়সে এসে হাতা কাটা ব্লাউজ পরা নিয়ে তার মনে কিছুটা দ্বিধা তৈরি হলো। তিনি মৃদু ধমক দিয়ে বললেন, "তুই তো আচ্ছা পাগল! এই বয়সে আমি হাতা কাটা ব্লাউজ পরব? লোকে কী বলবে!"আসিফ মায়ের হাত দুটি ধরে বলল, "আমি তো প্রথমেই বলেছি মা—লোকের কথায় আমাদের কিছু আসে যায় না। আর ঘরের ভেতর ছেলের সামনে সাজতে আবার বয়সের কীসের বাধা? যাও মা, জলদি পরে এসো।"ছেলের এই আবদার আর ভালোবাসার কাছে রাবেয়া বেগমের সব দ্বিধা কেটে গেল। তিনি প্যাকেটগুলো বুকে জড়িয়ে ধরে মিষ্টি হেসে নিজের ঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন শাড়িটি পরার জন্য। #########################################রাবেয়া বেগম এবার কি করবেন ?