মা ও ছেলের গল্প - অধ্যায় ৮
[ পর্ব -13 ] #########################################রসগোল্লার প্যাকেটটি হাতে নিয়েই রাবেয়া বেগমের চোখ দুটো ভিজে উঠেছিল। কিন্তু তিনি নিজের আবেগ সামলে নিয়ে ঝটপট মিষ্টির প্যাকেট থেকে একটা বড়, রসালো রসগোল্লা নিজের হাতে তুলে নিয়েই সোজা আসিফের মুখের সামনে ধরলেন। রাবেয়া বেগমের চোখ দিয়ে তখন আনন্দের জল গড়াচ্ছে, অথচ মুখে সেই চিরচেনা ভালোবাসার ধমক, "সারাদিন টো টো করে ঘুরেছিস, নিজের পছন্দের মিষ্টিটা আগে মুখে দে। তুই না খেলে আমিও খাবো না। আসিফ মায়ের এই রূপ দেখে আর না করতে পারল না। সে মুখ বাড়িয়ে মায়ের হাতের পরম তৃপ্তির রসগোল্লাটি খেয়ে নিল। মিষ্টির চেয়েও মায়ের হাতের এই স্পর্শ আসিফের কাছে অনেক বেশি মধুর মনে হলো। #########################################আসিফ মিষ্টি মুখে দিয়েই মায়ের চোখের জল মুছে দিল। রাবেয়া বেগম ছেলের কপালে আলতো করে চুমু খেলেন। আসিফ যখন দেখল মা নিজের আনন্দের অশ্রু লুকিয়ে তাকে মিষ্টি খাইয়ে দিচ্ছেন, তখন তার মনটাও ভালোবাসায় ভরে গেল। সে মায়ের হাত থেকে মিষ্টির বাকি অংশটুকু মুখে নিয়ে, নিজে প্লেট থেকে আরেকটি বড় রসালো রসগোল্লা তুলে নিল। আসিফ মায়ের মুখের সামনে মিষ্টিটা ধরে আদুরে গলায় বলল, "শুধু আমাকে খাওয়ালেই হবে না মা, আজকের দিনের আসল রানি তো তুমি। এবার আমার হাত থেকেও একটু মিষ্টি মুখ করো।" রাবেয়া বেগম আর না করতে পারলেন না। ছেলের হাত থেকে মিষ্টির লোকমাটি মুখে নিয়ে তাঁর মুখে এক চিলতে চওড়া হাসি ফুটে উঠল। ৪৫ বছর বয়সী রাগী মায়ের জীবনে এই ২৭ বছরের শান্ত ছেলেটি যে কতটা বড় আশীর্বাদ, তা আজ আরও একবার প্রমাণিত হলো। #########################################মিষ্টি মুখ করার পর দুজনে মিলে রাতের খাবারের তোড়জোড় শুরু করল। দুপুরের সেই সুস্বাদু সর্ষে ইলিশ আর খাসির মাংসের ঝোল তো ছিলই। আসিফ রান্নাঘর থেকে খাবারগুলো গরম করে ডাইনিং টেবিলে সাজাল। টেবিলে বসে মা আর ছেলে তৃপ্তি করে রাতের খাবার খেল। রাতের খাবার শেষ করে আসিফ যখন নিজের রুমের দিকে গেল তখন রাবেয়া বেগম পরম শান্তিতে রান্নাঘরের দিকে তাকিয়ে মনে মনে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলেন। ৪৫ বছরের এক রাগী মায়ের জীবনে এই ২৭ বছরের শান্ত ছেলেই যে তাঁর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সুখ আর শান্তির নীড়। #########################################আসিফ এবার কি করবে আসল সারপ্রাইজের কথা কি রাবেয়া বেগমকে জানাবে?