মায়ের প্রেম - অধ্যায় ১৮
আঠেরো
পরশু কলেজ থেকে ফিরে দেখি মা বাড়ি রয়েছে । তাহলে কি মা আজ সিনেমা যায়নি ? পিকুদাকে ফোন করতে বললো বারটা তিনটের শোয়ে গিয়েছিল । বুঝলাম আমি কলেজ থেকে ফিরে আসার আগেই ওরা ফিরে এসেছে ।
আমি বললাম -আজ কি হলো ?
পিকুদা বললো -আজ সেরকম কিছু হয়নি যাস্ট দুজনে একসঙ্গে হাত ধরাধরি করে বসে সিনেমাটা এনজয় করলাম তারপর একটু এ দোকান সে দোকান ঘুরে বাড়ি ফিরে এলাম ।
আমি বললাম -তোমরা কি বাইকে গিয়েছিলে ?
পিকুদা বলে -হ্যাঁ বাইকে করে গিয়েছিলাম । ফেরার পথে তোর মাকে নিয়ে একটা সোনার দোকানে ঢুকলাম । একটু দরদাম করে দেখলাম আরকি , ব্যাপারে সোনার কি দাম হয়ে গেছেরে আজকাল ।
আমি বললাম -কেন তুমি কি সোনা টোনা কিনবে নাকি ?
পিকুদা বলে -আসলে আমাদের বিয়ের সময় কিছু গয়না তো কিনতেই হবে । তোর মা তো বললো চুড়ি ফুড়ি নাকি অনেক আছে । তোর বাবার সাথে বিয়ের সময় তোর ঠাকুমা দিয়েছিলো । তাই আমার ইচ্ছে বিয়ের সময় তোর মাকে নাক কান আর গলার জন্য কিছু দেওয়ার । আর হাতের জন্য শুধু একটা শাঁখা বাঁধানো আর একটা পলা বাঁধানো । তোর মা বলছিলো "আবার এতো কিছু কেনার কি দরকার , অনেক টাকা খরচা হয়ে যাবে। বিয়েটা একবারে নমো নমো করে করে নিলেই ভাল হয়" ।
আমি বললাম "ধুৎ, আমার রত্নাকে বিয়ে করে ঘরে তুলবো আর নাক কান গলায় সোনার জিনিস দেবনা তাই কখনো হয় নাকি । তুমি ব্যানার্জি বাড়ির বৌ হয়ে আসবে আর তোমার নাক কান গলা ফাঁকা থাকলে লোকে বলবে কি ? তোর মা হাঁসে বলে "বাবা, তুমি পার বটে মন ভোলাতে" |
আমি বলি "উফ তুমি আমার জন্য হাতে শাঁখা পড়বে, পলা পড়বে আর মাথায় সিঁদুর লাগবে এটা ভেবেই তো আমার মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে" ।
তোর মা লজ্জা পেয়ে বলে "ইশ, সারাদিন খালি এই সব চিন্তা কর না তুমি" ?
আমি বলি "শোন রত্না আমাদের বিয়ের পর কিন্তু তুমি সিঁথিতে চওড়া করে সিঁদুর লাগাবে, আজকাল কার মেয়েরা যেমন কপালে অল্প একটু করে সিঁদুরের দাগ দেয় সেরকম করবেনা । আমাদের হাউসিং সোসাইটির ছেলেরা যেন বুঝতে পারে ব্লক-এ র রত্নাবৌদি আর খালি নেই , রত্নাবৌদি এখন ম্যারেড । তাই ঝাড়ি মেরে আর কোন লাভ নেই ।
তোর মা খিল খিল করে হাঁসতে হাঁসতে বলে "উড়ে বাবা, তুমি তো দেখছি পুরো বিয়ে পাগলা হয়ে গেছ"।
আমি বললাম -বাপরে পিকুদা, বিয়ের প্লানিং তাহলে পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে ?
পিকুদা বলে -নারে সেরকম কিছু নয় , তোর সেকেন্ডারি পরীক্ষা না হলে তোর মা তো আর বিয়ে করবেনা । সুতরাং বছর দেড়েক মতো সময় আমাদের হাতে আছে । তবে সোনা ফোনা গুলো একটু আধটু করে কিনে রাখা ভাল । একসঙ্গে সবকিছু কিনতে গেলে মুশকিল । আমার মার সোনার জিনিস যা আছে সেগুলো সব আগেকার দিনের ভারী ভারী সোনার গয়না । ও সব আজকাল আর কেউ পরেনা ।
আমি বললাম -তা কিছু কিনলে নাকি আজ ?
পিকুদা বলে -না রে, সোনার দোকানটায় শুধু একটু দর করতে ঢুকেছিলাম । তারপর আমরা একটা শাড়ির দোকানে ঢুকলাম, ওখানে তোর মার জন্য একটা শাড়ি কিনলাম । শাড়িটা বেশ পছন্দ হয়ে ছিল আমার । তোর মা না না করছিলো কিন্তু আমি জোর করতে নিয়ে নিলো । আসলে সেরকম ভাবে তো কোনদিন গিফট ফিফট দিতে পারিনি তোর মাকে । তোর মা কিন্তু ভেতরে ভেতরে খুব খুশি হয়েছে শাড়িটা পেয়ে । শাড়ির সাথে একটা ব্লাউজের পিস ও ছিল । ওদের দোকানেই টেলারিংয়ের মাপ নেবার ব্যবস্থা ছিল । তোর মাকে বললাম একবারে মাপ ফাপ দিয়ে বানাতে দিয়ে দাও,আমি পরে এসে নিয়ে যাব । বাবা যা বুকের সাইজ তোর মায়ের, ভয় হচ্ছিলো ওই ব্লাউজ পিসে হয়তো হবেনা । তবে দেখলাম হয়ে গেল ।
আমি বললাম -বাহ্ তাহলে এর পর আবার কবে প্রোগ্রাম মাকে নিয়ে ?
পিকুদা বলে -সামনের সপ্তাহেই একটা ভাল প্রোগ্রাম আছে, দেখি তোর মাকে মানাতে পারি কিনা ?
আমি বলি কিসের প্রোগ্রাম ?
পিকুদা বলে -আমার একটা বন্ধু আছে অলোক বলে । আমার কলেজের সিনিয়র । ও ব্যাংকে একটা চাকরি পেয়েছে তাই ওর বাড়িতে ঘনিষ্ট দু তিন জন বন্ধুবান্ধব কে ডেকেছে । এমনি কিছু না, এই একটু একসঙ্গে রান্নাবান্না খাওয়া দাওয়া গল্প আড্ডা আর তারপর অলোকের ৭৫ ইঞ্চি এইচ-ডি টিভিতে একটা সিনেমা দেখা । আমি ছাড়াও আমার আরো তিন বন্ধু সুমন,পার্থ আর নিখিল যাবে । ওরা সকলেই যে যার নিজেদের গার্লফ্রেন্ড নিয়ে যাবে । আর অলোকের হবু বউও আসবে । অবশ্য ওরা প্রায়ই অলোকের বাড়িতে মিট করে একসাথে রান্নাবান্না খাওয়া দাওয়া গল্প আড্ডা এসব করে, আমাকে এর আগে অনেকবার আসতে বলেছে কিন্তু আমার যাওয়া হয় নি । এবার তাই আমি তোর মাকে বললাম চলো যাই । কিন্তু তোর মা রাজি হচ্ছেনা ।
আমি বলি -কেন ?
-তোর মা বলে তোমার বন্ধুদের গার্লফ্রেন্ড গুলো সব বাচ্চা বাচ্চা কলেজে পড়া মেয়ে, ওদের সাথে আমি কি গল্প করবো বলোতো ?
আমি বললাম "চলো সবাই তোমাকে দেখতে চাইছে । তোমার কথা তো সকলেই আমার মুখ থেকে শুনেছে" ।
তোর মা বলে "আমি বিধবা মাগি, ওই বাচ্চা বাচ্চা ছেলে মেয়েগুলোর সঙ্গে কিভাবে হ্যা হ্যা হু হু করবো তুমিই বলো" ?
আমি বললাম "তুমি নিখিলের লাভারের সাথে গল্প করতে পারবে , ও প্রায় তোমার বয়সী । আমার বন্ধু নিখিল ওর পাড়ার একটা বৌদি নিয়ে আসবে । অনেকদিন ধরেই অ্যাফেয়ার চলছে ওদের মধ্যে । বৌদির দুটো বাচ্চা আছে , স্বামী বিদেশে থাকে । প্রথমে যাস্ট খাওয়া খায়ির সম্পর্ক ছিল এখন প্রেম হয়ে গেছে" । তোর মা তাও গুই গাই করছে, বলছে "ওরা সবাই হাঁসাহাঁসি করবে আমাকে দেখে, বলবে পিকুর প্রেমিকাটা কি বয়স্কা" ।
আমি এও বললাম "সুমনের প্রেমিকা পাপিয়া ভীষণ মোটাসোটা ওকে দেখলে যে কেউ ভাববে দু বাচ্চার মা । সুমন তো ওর প্রেমিকাকে নিয়েই যাচ্ছে , তুমি শুধু শুধু লজ্জা পাচ্ছ । তারপর পর তোর মাকে বললাম তুমি বরং শাড়ি না পরে একটা সালোয়ার কামিজ পরে চলো, ওরা তোমার বয়স ঠিক মতো বুঝতে পারবেনা" । তোর মা বলেছে ভেবে দেখবে ।
পরের সপ্তাহে পিকুদা বললো -তোর মাকে অনেক কষ্টে রাজি করিয়েছি রে , সকাল এগারোটা নাগাদ বেরবো আর বিকেল পাঁচটা নাগাদ বাড়ি ফিরে আসবো । সেদিন আবার আমার কলেজের ছুটি ছিল । মা আমাকে আগেই বলে রেখেছিলো সোসাইটির এক জনের বাচ্চার জন্মদিন তাই মাকে নেমন্তন্ন করেছে , মা সকালে যাবে আর ফিরতে ফিরতে বিকেল পাঁচটা হবে । আমি মুখে কিছু বলিনি শুধু মনে মনে মুচকি হেসেছি । মা দেখলাম সকালেই চান ফান করে রেডি । গায়ে বডিস্প্রে লাগলো আর মুখে হালকা লিপস্টিকের ছোঁয়া । ভাবলাম মাকে একটু টিজ করি । বললাম -বাবা, আজকাল তো দেখছি তুমি খুব লিপস্টিক লাগাচ্ছ । কোই আগে তো তোমাকে কোনদিন লিপস্টিক লাগাতে দেখেনি ।
মা লজ্জা পেয়ে বলে -কেনরে? খুব খারাপ লাগছে বুঝি? মুছে দেব ?
আমি বলি -না না মুছোনা, দারুন লাগছে তোমাকে ।
আমার প্রশংসা শুনে মার মুখে খুশি উপচে পরে, বলে -দেখ এই হলুদ শাড়িটা কি খুব ঝকমকে লাগছে ? আসলে তোর বাবা চলে যাবার পরতো ঝকমকে শাড়ি গুলো আর পরিনা, এই শাড়িটা আলমাড়িতে পরে পরেই নষ্ট হচ্ছিলো তাই ভাবলাম আজ পরে ফেলি । দেখ খুব খারাপ লাগছে কি ? লোকে কি দেখলে বলবে বিধবা হয়েও কেন এরকম একটা ঝকমকে শাড়ি পরেছে ?
আমি বললাম -ধুর, আজকাল লোকে ওসব মানেনা । তুমি শুধু শুধু এতো দিন ফ্যাকফ্যাকে শাড়িগুলো পরতে ।
-তাহলে এটাই পরে যাই বল ? আসলে অনেক দিন এরকম ঝকমকে শাড়ি আর পরিনা তো তাই একটু লজ্জা লজ্জা করছে ।
আমি বলি -এবার থেকে তুমি সব রকমের শাড়ি পরবে । এতো সুন্দর দেখতে তোমাকে, ওই ফ্যাকফ্যাকে হালকা রংয়ের শাড়ি গুলো তোমাকে একদম মানায় না ।
মা লজ্জায় লাল হয়ে যায় আমার কথা শুনে, বলে -তাহলে রংচংয়ে শাড়ি গুলো পরে ফেলবো বলছিস ।
আমি বলি -হ্যাঁ সব পরে ফেল , তোমাকে সাজলে এতো মিষ্টি লাগেনা যে কি বলবো ।
মা লজ্জায় মুখ নামিয়ে ফেলে বলে -ধ্যাৎ ।
আমি বলি -ধ্যাৎ কেন? আমি কি মিথ্যে কথা বলছি নাকি? তুমি কি আজকাল আয়নায় নিজেকে দেখনা নাকি ?
মা বলে -এই খুব বাড়াবাড়ি হচ্ছে কিন্তু ।
আমি মাকে জড়িয়ে ধরে বলি -শোন, তোমার কানে কানে একটা কথা বলবো ।
মা বলে -কি বল ?
আমি মার কানে ফিসফিস করে বলি -তোমাকে এখনো যা দেখতে আছেনা তোমার আবার একটা বিয়ে দিয়ে দেওয়া যায় ।
মা আমাকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে বলে -ধ্যাৎ, খুব অসভ্ভো হয়েছিস তুই, যা ভাগ এখন এখান থেকে ।
আমি হাঁসতে থাকি । মার মুখটা খুশিতে ঝলমল করে ওঠে ।
(চলবে )