মায়ের প্রেম - অধ্যায় ৭
সাত
পিকুদা আমাকে পড়ানো শুরু করার ঠিক তিন মাস পর একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটলো । একদিন আমাকে পড়ানো শেষ করে বেরুবার আগে পিকুদা মাকে ডাকলো । মা আসতে পিকুদা মায়ের হাতে দুটো কার্ড দিয়ে বললো -বৌদি আগামী রবিবার সুরুচি সংঘ ক্লাবের একটা কালচারাল নাইট আছে , সোমিত্র , নচিকেতা ,ইত্যাদি আরো অনেকে আসবে , আপনারা যাবেন । আমার কাকা ওই ক্লাবের এক্সেকিউটিভ মেম্বার , অনেক গুলো গেস্ট কার্ড পেয়েছে, তাই আপনার আর টুবুলুর জন্য নিয়ে এলাম ।
মা বললো -বাবা সোমিত্র আসবেন , উনি কি কবিতা আবৃত্তি করবেন নাকি ?
পিকুদা বলে হ্যাঁ ।
মা বলে -অনুষ্ঠানটা কোথায় হচ্ছে ?
পিকুদা একটা অডিটোরিয়ামের নাম করে , বলে -গেস্ট কার্ডে এড্রেস দেওয়া আছে বৌদি ।
মা বলে -দেখ পিকু আমার তো যাওয়ার খুব ইচ্ছে ছিল, কিন্তু তুমি তো জান আমার মেয়েটা ছোট, ওকে নিয়ে কোথাও যাওয়াটা খুব মুশকিল । অডিটোরিয়ামের মধ্যে অন্ধকার হলে যদি কান্নাকাটি শুরু করে তাহলে খুব সমস্যায় পরবো ।
আমি ফট করে বলি -মা তুমি যাবে তো যাওনা, আমি না হয় বোনকে দেখবো ।
পিকুদা বলে -টুবলু তুই যাবিনা ?
আমি বলি -পিকুদা ওই দিন ইন্ডিয়া পাকিস্তানের ক্রিকেট ম্যাচ আছে, আমি তো ওই দিন টিভির সামনে থেকে নড়বোই না ।
মা আমার কথা শুনে অপ্রস্তুতে পরে যায় , কাটানোর চেষ্টা করে , বলে -দেখ কার্ডে দেখছি টাইমিং লেখা আছে বিকেল চারটে থেকে রাত দশটা , বিকেল চারটের মধ্যে পৌঁছতে হলে আমাকে দুপুর তিনটেতে বাড়ি থেকে বেরতে হবে । ওই সময় তো আমাদের খাওয়া দাওয়াই কমপ্লিট হয় না ।
পিকুদা বলে -না না বৌদি , বিকেল চারটেতে অনুষ্ঠান শুরু হবে , প্রথমে ক্লাবের মেম্বারদের ছেলে মেয়েরা নাচ গান কবিতা আবৃতি ইত্যাদি করবে, আসল অনুষ্ঠানতো শুরু হবে সন্ধে সাতটা থেকে , প্রথমে সৌমিত্রর কবিতা পাঠ তারপর নচিকেতার গান ।
মা বলে -ও আচ্ছা, কিন্তু দেখ যে অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানটা হচ্ছে সেটা এখান থেকে অনেক দূর , যাবার সময় না হয় আটো পেয়ে যাব কিন্তু রাত দশটার পরে ফেরার আটো পাওয়া খুব মুশকিল ।
পিকুদা বলে -বৌদি ও নিয়ে আপনি চিন্তা করবেন না । আমি তো গাড়ি নিয়ে যাব, আমি আপনাকে যাবার সময় তুলে নেব, আবার ফেরার সময়ও ড্রপ করে দেব । আমার মা, কাকা, কাকিমাও সঙ্গে যাচ্ছেন, ওরাও তো ফিরবেন, আপনার কোন অসুবিধে হবেনা । আর ওদের সঙ্গে আপনার পরিচয়ও করিয়ে দেব এই সুযোগে । আপনি তো আর আমার বাড়ি গেলেন না ।
মা আর কি করবে নিম রাজি হলো ।
পরের রবিবার মা সেজে গুজে বিকেল ছটা নাগাদ অপেক্ষা করে রইলো । অনেকদিন পর মার ঠোঁটে হালকা লিপস্টিকের ছোঁয়া দেখলাম । শরীরেও বডিস্প্রের মিষ্টি গন্ধ পেলাম |
আমি বোনকে কোলে নিয়ে ক্রিকেট ম্যাচ দেখছিলাম । মা বললো -বোনকে একদম একলা ছাড়বিনা , আর যদি খুব কান্নাকটি করে তাহলে আমায় ফোন করে দিবি । তুই সেদিন ফট করে এমনভাবে বলে দিলি না বোনকে আমি দেখবো যে আমি কাটাতে পারলামনা । না হলে আমার যাওয়ার ইচ্ছে ছিলনা । পিকু নিজের পরিবার নিয়ে যাচ্ছে, আমি ওদের কাউকে চিনিনা , মধ্যে থেকে আমার লজ্জা করবে ।
আমি বলি -মা পিকুদার মা, কাকা, কাকিমা খুব ভালমানুষ, দেখবে কিরকম তোমার সাথে গল্প শুরু করে দেয় , তোমার লজ্জা পাবার কোন ব্যাপারই নেই । আর তাছাড়া তোমার তো বোনের জন্যে বাড়ি থেকে বেড়ানোই হয়না , যাওনা আজকে একটু ঘুরে এস । মাঝে মাঝে এসব দেখলে মন ভাল থাকে । সব মানুষেরই একটু রিক্রিয়েশানের দরকার হয় ।
যাই হোক ঠিক ছটার সময় পিকুদা এসে গেল । পিকুদা দেখলাম আমার মোবাইলে ফোন না করে একবারে মায়ের মোবাইলে ফোন করলো ।
মা ফোন তুলে বললো -হ্যাঁ হ্যাঁ আমি রেডি, এখুনি নামছি নিচে । মার বেরিয়ে যাবার প্রায় এক ঘন্টা পর মায়ের মোবাইল থেকে ফোন এল । মা বলে -কিরে বোন কি করছে ?
আমি বলি -ঘুমোচ্ছে ।
মা বলে - সাবধানে রাখিস ওকে ।
আমি বলি -হ্যাঁ হ্যাঁ , ও নিয়ে তুমি চিন্তা কোরনা । তুমি পৌঁছেছো ?
মা বলে -হ্যাঁ, এইমাত্র পৌঁছলাম । ব্যাপারে কি ভিড় হয়েছে আজ | আমরা এখন অডিটোরিয়ামে ঢুকছি , তোকে পরে ফোন করবো ।
আমি বলি -ঠিক আছে ।
সন্ধে সাড়ে দশটা নাগাদ আবার মায়ের ফোন পেলাম । বলে -কি রে ভাত হয়ে গেছে ? আমি বলি -হ্যাঁ হয়ে গেছে, বেগুনভাজা আর ডাল ও রেডি । ঠাকুমাকে খাইয়ে দিয়েছি , আর বোন ঘুমোচ্ছে , তুমি এলে তারপর আমিও খাব । মা বলে -ঠিক আছে |
মা ঠিক রাত এগারোটা নাগাদ বাড়ি ঢোকে । আমি আর মা বেশি দেরি না করেই খেতে বসে যাই । আমি খেতে খেতে মাকে জিজ্ঞেস করি -পিকুদার মায়ের সাথে পরিচয় হলো ?
মা বলে -হ্যাঁ অল্প কয়েক মিনিট কথা হলো ।
আমি বলি -কেন ?
মা বলে -আরে ওরা তো আগেই চলে গেছিলো পিকুর কাকার গাড়িতে । ওর কাকার মেয়ের নাচের অনুষ্ঠান ছিল বিকেল সাড়ে চারটেয় ।
আমি বলি -ও, তাহলে পিকুদা আর তুমি পিকুদার গাড়িতে করে গেলে ।
মা বলে -হ্যাঁ দেখনা । শুধু আমাকে নিয়ে যাবে বলে ও ওর গাড়ি নিয়ে এলো , নাহলে ও তো ওর কাকার গাড়িতেই চলে যেতে পারতো । শুধু শুধু ওর অসুবিধে করলাম । আর অডিটোরিয়ামে পৌঁছে তো দেখি সামনের দিকটা প্রায় পুরোটাই ভরা । ওর কাকা কাকিমা আর মা একবার সামনের রোয়ে বসেছে । কারণ ওরা তো আগে চলে গিয়েছিল । শেষে আমি আর পিকু পেছন দিকের একটা রোয়ে জায়গা পেলাম । তবে খুব ভাল লাগলো সোমিত্রর কবিতা পাঠ আর ওই নচিকেতা না কি যেন গায়কটা , বেশ ভাল গান গায় ।
আমি বলি -বাহ তাহলে তো ভালোই ।
মা বলে -তা ঠিক, খুবই ভাল লেগেছে, কিন্তু পিকুকে শুধু শুধু আমার জন্য তেল পুড়িয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে হলো ।
আমি বলি -ছেড়ে দাও মা, ওরা খুব বড়লোক, ওরা অতো হিসেবে করে চলেনা ।
মা বলে -ওরা খুব বড়লোক নারে ?
আমি বলি -হ্যা মা ওদের প্রচুর পয়সা । ওদের পারিবারিক বিজনেস ওষুধের ডিস্ট্রিবিউটারশিপের । পিকুদার বাবা আর পিকুদার কাকা ওটা চালাতেন। এখন অবশ্য পিকুদার কাকাই দেখেন । পিকুদার বাবা অনেকদিন হলো মারা গেছেন । পিকুদার এম-এস-সি করা হয়ে গেলে মনে হয় নিজেদের পারিবারিক ব্যাবসাই দেখবে ।
যাই হোক পরের দিন সকালে আমি পিকুদাকে ফোন করলাম । বললাম -কি গো? মা, কাকা, কাকিমাকে আগে পাঠিয়ে দিলে মাকে নিজের গাড়িতে একলা পাওয়ার জন্য ।
পিকুদা বলে -ওই সব বুদ্ধি একটু না লাগালে তোর মাকে তুলবো কি করে বল ? যেমন করেই হোক তোর মাকে মাঝে মাঝে একটু একলা তো পেতে হবে আমাকে, নাহলে আমার জাদু চলবে কিভাবে ? অবশ্য কাল আমার কোন অসুবিধে হয় নি । তোর মাকে গাড়ির সামনের সিটে আমার পাশে বসিয়ে ড্রাইভ করে নিয়ে গেলাম । কার অডিওসিস্টেমে লো ভলিউমে উত্তম সুচিত্রার ওই গানটা চালালাম, ///"এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো তুমি বলতো /// যদি পৃথিবীটা স্বপ্নের দেশ হয়, তবে কেমন হতো তুমি বলতো ///
আমি বললাম -উফ একবারে ফাটাফাটি |
পিকুদা বলে -হ্যাঁ রে, খুব হাসি ঠাট্টা করতে করতে গেলাম আমরা, তোর মাকে মজার মজার কথা বলে খুব হাসিয়েছি কাল । তোর মাও খুব এনজয় করেছে মনে হলো । আর ওখানে পৌঁছে তোর মাকে নিয়ে বসেও ছিলাম অডিটোরিয়ামের একদম পেছনের দিকের একটা রোয়ে । পেছনের দিকে তিনটে রো পুরো ফাঁকা ছিল । অনুষ্ঠান দেখতে দেখতে খুব গুজুর গুজুর ফুসুর ফুসুর হলো । তোর মা যখন মুক্তোর মতো সাজানো দাঁত বের করে খিল খিল করে হাসছিলো , যেন মনে হচ্ছিলো জলতরঙ্গের সুর, আমার তখন বুকের ভেতরটা কেমন যেন উরু উরু করেছিল | তারপর ব্রেকের সময় তোর মাকে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে জোর করে ফুচকা খাওয়ালাম ।
আমি বললাম -উফফফফফ.... পিকুদা তুমি তো একবারে কাঁপিয়ে দিয়েছো দেখছি ।
পিকুদা বলে -আরে আসল জিনিসটা তো তোকে বলাই হয়নি ।
আমি বলি -কি জিনিস ?
পিকুদা বলে -অনুষ্ঠান শেষ হবার পর অডিটোরিয়ামের গেট দিয়ে বেড়বার সময় খুব ঠেলা ঠেলি হচ্ছিলো, রাত হয়ে গেছে বলে সবাই আগে আগে বাড়ি ফিরতে চায় । আসলে এতো ভিড় হবে সেচ্ছাসেবক গুলো ঠিক বুঝতে পারেনি । আর মিসম্যানেজমেন্টও ছিল । সব চেয়ে বড় কথা অডিটোরিয়ামটা এতো বড়, কিন্তু বেড়বার গেটটা খুব ছোট , আর ওই একটাই মাত্র গেট । আমি যদি আগে জানতাম এতো ঠেলা ঠেলি হবে তাহলে অপেক্ষা করে সবার শেষে বেড়াতাম । কিন্তু যেই গেটের কাছে পৌঁছেছি অমনি ঠেলাঠেলিটা শুরু হলো । সে লোকে যেন মনে হচ্ছে গায়ে ফায়ে উঠে পরবে । দু একজন তো হোঁচট খেয়ে পরেও গেল । লোকে তার গা মাড়িয়ে চলে গেল। আমি তখন তোর মাকে দু হাত দিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে কোন রকমে দেয়াল ধারে নিয়ে গিয়ে দাঁড়ালম । তোর মা অত ভিড় আর ঠেলাঠেলি দেখে খুব ভয় পেয়ে গেছিলো। একবারে চুপটি করে আমার বুকে মুখ গুঁজে ছিল । আমার তখন অবস্থা খারাপ, বুকে তোর মার নরম শরীরের মিষ্টি ছোয়া, আর নাকে তোর মার বডি স্প্রের মিষ্টি গন্ধ । আমার তখন মনে হচ্ছিলো এই ঠেলাঠেলি যেন অনন্তকাল ধরে চলে । আমি নিশ্চিত আমার বুকে মুখ গুঁজে থাকায় তোর মাও আমার শরীরের গন্ধ পেয়েছে । যাই হোক মিনিট তিনেক পরেই ঠেলাঠেলিটা একটু কমে গেল । আমি তখন আমার হাতে তোর মার হাত চেপে ধরে ভিড়ের মধ্যে থেকে তোর মাকে বার করে নিয়ে এলাম । তারপর কার পার্কিং পর্যন্ত তোর মার হাতটা আর ছাড়িনি। তোর মাও দেখলাম হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করলোনা । একবারে গাড়ির কাছে পৌঁছে, গাড়িরই দরজা খুলে, তোর মাকে হাত ধরে ড্রাইভারে পাশের সিটে বসিয়ে, তারপর হাত ছাড়লাম ? কাল কিন্তু একটা জিনিস বুঝলাম ।
আমি বলি -কি ?
পিকুদা বলে -অডিটোরিয়াম থেকে বেরনোর পরেও তোর মা আমার হাতটা নিজের হাত থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলোনা । তার মানে কি বুঝলি?
-কি গো পিকুদা ?
-তার মানে হলো তোর মা মাগিটা আমার সাথে খেলতে রাজি ।
পিকুদার সাথে কথা বলার পর একটা জিনিস মনে হল যে আজ মা আমার কাছ থেকে কিন্তু দুটো জিনিস পুরোপুরি চেপে গেল । এক মা পিকুদার সঙ্গে ফুচকা খেয়েছে । দুই অডিটোরিয়ামে বেড়বার সময় খুব ঠেলা ঠেলি হচ্ছিলো আর পিকুদা সেখান থেকে মাকে জড়িয়ে ধরে বের করে নিয়ে এসেছে । পিকুদার কাছে থেকে এও শুনলাম যে মা আর পিকুদার মধ্যে আজ নাকি খুব হাঁসি ঠাট্টা, গুজুর গুজুর, ফুসুর ফুসুর হয়েছে । তাহলে কি সত্যি মা পিকুদার সাথে দুস্টু খেলা খেলতে রাজি ?
(চলবে)