নিঃশব্দ আর্তনাদ - অধ্যায় ৭

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-69821-post-6255934.html#pid6255934

🕰️ Posted on Sat Jul 04 2026 by ✍️ Nefertiti (Profile)

🏷️ Tags: None
📖 852 words / 4 min read

Parent
নিঃশব্দ আর্তনাদ (পর্ব ৩: স্নেহ বনাম কাম)     সেই কালো দিনটির পর থেকে আমাদের সোনার সংসারে যেন এক অশুভ ছায়া নেমে আসে। ছেলে ও তার মায়ের মুখ দেখাদেখিও বন্ধ হয়ে যায়। আমার স্ত্রী প্রচন্ডরকম ভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেন। চুপচাপ নিজের কাজ করে চলেন আর মাঝে মাঝে ডুকরে ডুকরে কেঁদে ওঠেন। ছেলে নিজেকে তার ঘরের চার দেয়ালের মাঝে বন্দি করে ফেলে। এভাবে যেন আমার সোনার সংসার দিন দিন মরুতে পরিনণত হচ্ছিল । মনে হচ্ছিল এভাবেই হয়ত দূরত্ব মেনে নিয়ে সারাটি জীবন কাটাতে হবে পিতা, মাতা ও পুত্রকে । কিন্তু নিয়তির বিধান না যায় খন্ডানো। সকল দূরত্ব ঘুচিয়ে সময়ের স্রোত যে আমাদের এই পরিবারকে কদর্য রকমের কাছাকাছি নিয়ে যেতে চলেছে তা সম্পর্কে অসহায় আমরা ছিলাম সম্পূর্ণ অনবগত। দূরত্ব বেড়ে চলা আমাদের ক্ষুদ্র সংসারটিতে নতুন অধ্যায়ের সূত্রপাত সেদিন হল যেদিন দুপুরে খাবার জন্যে ছেলেকে তার রুমে ডাকতে গিয়ে এক অপ্রত্যাশিত দৃশ্য দেখতে পেলাম । সিলিং ফ্যানের সাথে শক্ত করে বাঁধা গামছাতে ফাঁস দিয়ে যখন তার দেহটি কই মাছের মত ছটফট করছিল তখন ঠিক সময় আমি ঠিক জায়গায় না থাকলে হয়ত সেটাই হত তার জীবনের শেষদিন। তার পা জড়িয়ে বহু কষ্টে যখন মেঝেতে নামালাম তখনও তার চেতনা সম্পূর্ণ লোপ পায়নি। আমি নিজের অজান্তেই বলে উঠি, “বাপ! কি করছিলি তুই? কেন করছিলি?” চোখ বন্ধ করা শুকনো ঠোঁটে সে যে উত্তরটি দিয়েছিল তাতে আমার পিতৃস্নেহের আগল যেন খুলে যায় ।“আব্বু । আম্মুতো আমাকে ঘৃণা করে, আমাকে তো আর এ জীবনে ভালবাসবে না।” একমাত্র পুত্রের এই করুণ অবস্থায় নিদারুণ আকুতি শুনে আমার চোখের জলের যেন বাঁধ ভেঙে যায়। তাকে বুকে জড়িয়ে চিৎকার দিয়ে উঠি, “না বাপ। আমরা সবাই তোকে জীবনের চাইতেও বেশি ভালবাসি।“ গোলমালের শব্দে আমার স্ত্রী যখন রুমে এসে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত ফাঁসের নিচে মেঝেতে অর্ধচেতন পুত্রকে বুকে নিয়ে ক্রন্দনরত পিতাকে দেখতে পায় তখন তার বুকে কি ঝড় উঠেছিল তা আমি জানিনা। কিন্তু সে যখন পাগলের মত চিৎকার করে উঠে ছেলের বুকে হাত দিয়ে বসে পরে তখন বোঝা গিয়েছিল যে জ্বলন্ত ক্ষোভ, আক্ষেপ, লজ্জা ও ঘৃণার পারদের নিচেও সযত্নে লুকিয়ে রাখা সীমাহীন মাতৃস্নেহ ঠিক কতটা শক্তিশালী। তারপরের ঘটনাপঞ্জি অতি সাধারণ বিধায় বর্ণণা করা নিষ্প্রয়োজন ।   আমার প্রাণপিয় সন্তানকে সর্বাধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করানো হল। ফাঁসের জন্যে গলার কশেরুকা, ও মেঝেতে পতনের জন্যে দু হাতের চোটে বেচারা বিপর্যস্ত হয়ে হাসপাতালের বিছানায়। এর সাথে নিত্য সুইসাইডাল টেন্ডেসির জন্যে মনোবিদের থেরাপি চলতে থাকে। ছেলে মনোবিদকে কি বলবে তা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও পরে তাদের সাথে আলাপ করে ভয় কেটে যায়। ছেলে তাদের জানিয়েছিল ভালবাসার মেয়েটিকে না পাবার জন্যেই সে ভুল করে সিদ্ধান্তটি নিয়েছিল। ধীরে ধীরে সে সুস্থ হয়ে উঠছিল। অবশ্য মধ্যবিত্ত আমার পক্ষে দেশসেরা বনেদী এই হাসপাতালে তাকে পূর্ণ সুস্থ হওয়া অবধি রাখাটা বেশ কষ্টকরই ছিল। তাই কিছুটা সুস্থ হতেই সিদ্ধান্ত নেই তাকে বাসায় নিয়ে ফেরার যেহেতু আর কোন ঝুঁকি ছিল না। কিন্তু বাদ সাধলেন পুত্রের মা । আমার স্ত্রী বারবার বলছিলেন ওকে আরও কিছু টেস্ট করানো উচিত । স্ত্রীর এমন আবদারের কোন কারণ খুঁজে পাইনি তখন। “কেন?” প্রশ্নের উত্তরে তিনি ইতস্তত করছিলেন। একবার বলছিলেন, “ অনেক কিছুই হতে পারে আমরা কি জানি?” আবার বলছিলেন, “ভেতরে ভেতরে কোন সমস্যা আছে কিনা দেখা দরকার। বারবার তো আসব না হাসপাতালে এসেছিই যখন সব ডায়গনসিস করে যাই।“ আমি ব্যপারটা ধরতে পারলাম না। হাসপাতালে অসংখ্য টেস্ট থাকে। সেগুলো সব যে প্রয়োজন এমন নয় । তাই আমার তাতে সায় ছিল না । কিন্তু পুত্রের মাতা অনড় । খোঁজ নিয়ে জানলাম । কি ধরণের টেস্ট সেটা জানাতে হবে আগে কতৃপক্ষকে। আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না কোনগুলো ঠিক করা উচিত আর কোনগুলো নয়। তাই সদাহাস্য নার্সটি যখন সকল টেস্টের প্রিন্টেড কপিটি আমার হাতে দিয়ে অপেক্ষা করছিল আমার উত্তরের আর আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না, তখন আমার স্ত্রী আমতা আমতা করে নার্সটিকে বলে উঠলেন, “আচ্ছা আপা, আসলে, মানে, আরকি প্রজননতন্ত্রের কোন টেস্ট নেই?” স্ত্রীর এহেন প্রশ্নে আমি চমকে উঠলাম। এই প্রশ্নের পেছনের কোন কারণ তখন ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না । তবে বুঝে গিয়েছিলাম টেস্টগুলোর পরে। চেম্বারে ডাক্তার যখন এক্সরে রিপোর্ট দিয়ে ছেলের পেল্ভিস হাড়ের নিচে অনুজ্জ্বল টেনিসবলের প্রায় দ্বিগুণ আকৃতির ন্যায় একটা গোলাকার বস্তু দেখালেন তখন জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। ডাক্তার যা জানালেন তাতে বিস্ময়ের পারদ দ্বিগুণ চড়ে গেল। অতো বিশালাকার বস্তুটি আমাদের পুত্রের অণ্ডথলি। শঙ্কা নিয়ে আরও বিভিন্ন প্রশ্ন করে আশ্বস্ত হলাম এটি টিউমার বা ক্যান্সারের কারণে নয়। কারণ কি এটি জিজ্ঞেস করাতে ডাক্তার বললেন ওনার ধারণা নেই। তবে উনি এটি নিয়ে ওনার পরিচিত কিছু কানেকশনের সাথে আলাপ করে একটি আইডিয়া পেয়েছেন তবে সেটি সঠিক কিনা জানতে সিমেন (বীর্য) টেস্ট করতে হবে। ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হয়ে যখন টিউবটি নিয়ে বের হলাম তখনও আমার মনে খুব গুরত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন জাগেনি। হয়তবা সমসাময়িক ঘটনায় বিহবল হয়ে যাওয়াতে। ডাক্তারকে বলেছিলাম, “ঠিক কতটুকু প্রয়োজন টেস্ট করতে?” ডাক্তারের গম্ভীর জবাব ছিল, “সাধারণত দু তিন ফোঁটা হলেই কাজ হয়ে যায়। তবে আপনাকে তার বদলে মার্ক করা টিউব দিয়েছি কারণ এটি রেয়ার কেইস। কোন প্রচলিত টেস্টে হবে না। আসলে আমার আইডিয়াটি সঠিক কিনা সেটি জানতে সিমেনের কোয়ালিটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হল ইজাকুলেশনের কোয়ান্টিটি । টেল হিম নট টু ওয়েস্ট আ সিঙ্গেল ড্রপ ।“ ছেলের কাছে গিয়ে সব খুলে বলে তারপর প্রশ্ন করে জানলাম তার এই বিশালতার কথা সে আমাদের জানায়নি কারণ তার কাছে মনে হয়নি এটি কোন সমস্যা। তার চলা ফেরায় এ কারণে কোন বিঘ্ন ঘটেনি। টিউব তাকে দিয়েছিলাম । রিলিজের আগে আমাদের হাতে প্রায় পুরো ২৪ ঘন্টা সময় ছিল। সকালে ডাক্তারের সাথে কথা বলার পরে আমাদের রিলিজ ছিল পরের দিন সকালে। মাঝে শুধু টিউবটি জমা দেয়া। টেস্ট রেজাল্ট পরে পাওয়া গেলেও চলত।
Parent