নতুন জীবন - অধ্যায় ১১
এত এত ডালিম থাকা স্বত্বে একটাও পাকা ডালিম খুজে পাচ্ছি না। এক কথা শুনা মাত্র আম্মু এক গাল হেসে , এভাবে না পাইলে গাছে উঠে পার.
গাছে উঠার কথা বলতেই আম্মুর দিকে বড় বড় চোখে তাকিয়ে কৃত্রিম রাগ প্রকাশ করলাম। কারন আমি যে গাছে উঠতে পারিনা আম্মু সেটা জানে।
- ঠিক আছে আজ উঠে তোমাকে দেখিয়ে দেব বলেই গাছের গুড়ায় এগিয়ে এলাম।
এবার মিটমিট হেসে আম্মু আমার দিকে তাকিয়ে আছে. কিছুতেই হাসি থামছে না । হাসলে যে আম্মুকে এতটা সুন্দর লাগে আমার এটা জানা ছিলো না। জানবো কি করে আজকের দেখা আর আগের দেখার মাঝে অনেক তফাৎ.
সে তাকানোর মাঝে কোন গভীরতা ছিলো না।
ছিলো মায়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা। ভালোবাসা আজ ও আছে, তবে এই ভালোবাসার মাঝে তৈরি হয়েছে এক গোপনীয়তা।
যা মা টের পায়নি।
আম্মু মাছ কাটতে কাটতে ভাবছে ছেলেটা
হয়েছে ঠিক বাবার মত , বাবাও গাছে চড়তে ভয় পেতো।
বাবা ছেলের মাঝে অনেক মিল আবার অমিল ও আছে. আরাফাত অনেক দুষ্ট আর আর ভীষন সাহসী। বাবা ছিলেন এর বিপরীত। দেখতে দেখতে ছোট্র আরাফাত আজ কত বড় হয়ে গেছে .
কোথায় থেকে একটা বিড়াল এসে আম্মুর সামনে দাঁড়াতেই আম্মু আমাকে ইশারা দিলো বাঁশে লাঠিটা দিয়ে দৌড়ানি দেওয়ার জন্য.
আম্মু কখনো কোন প্রাণীর গায়ে আঘাত করেনা বিপদজনক কিছু না হলে, কিন্তু বিড়াল একদম সহ্য করতে পারে না। সহ্য না করলেও বিড়ালের গায়ে আঘাত কখনও করেনা শুধু ভয়ের উপর রাখে। আমাকে লাঠি হাতে দেখেই বিড়াল ভোঁ করে দৌড়ে পালিয়ে গেল। পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝে গেছে আমার হাতে লাঠি মানে.....
ততক্ষনে মাছ কাটা শেষ। আঁশ ছাড়ানোর পর ধুয়ে নিতে পুকুরের দিকে আম্মু চলে গেল।