প্রত্যাবর্তন - অধ্যায় ৩২
পিস্তলটা আমার নাকের দগায় একবার নাচিয়ে বল্ল, "এবার যে টোনা টুনির মুখটা একটু বাঁধতে হবে" । আমি বল্লাম, "মুখ বাঁধতে হবেনা, আমরা চেঁচাবো না" । জন মুখটা বেঁকিয়ে বল্ল, "আমায় কি গান্ডুচোদা পেয়েছিস শালা? মুখ না বেঁধে তোদের বার করি, আর তোরা চেঁচিয়ে পাড়া মাথায় তুলিস" । এর পর জনের ইশারায় ওর এক শাগরেদ আমাদের মুখ বেঁধে দিল, মা একবার চিতকার করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু জন আমার মাথায় পিস্তল টা ঠেকাতেই চুপ করে গ্যালো। একটু পরেই বাড়ির বাইরে একটা গাড়ি দাঁড়ানোর শব্দ পেলাম, বুঝলাম, এবার আসল বিপদ এসে উপস্থিত ।
মা আর আমার মুখ বাঁধা অবস্থায় টানতে টানতে এনে দরজার সামনে দাঁড় করালো জনের দলবল। এক জন দরজা ফাঁক করে বাইরে উঁকি মেরে দেখল। আমি নিজের পিঠের উপর বন্দুকের নলের ঠান্ডা স্পর্শ টের পাচ্ছিলাম। জন ফিস্ ফিস্ করে বলল‚ "বেচাল দেখলেই কিন্তু ঘোড়া টিপবো...একটা তো মরবেই" । আমি ভাবছিলাম বেরিয়েই একটা দৌড় দেব‚ কিন্তু সেক্ষেত্রে জন মাকে গুলি করে দিতে পারে‚ ওর মৃত্যু নিশ্চিত ‚ তাই ও আমাদের প্রানের মায়া করবেনা। মা ছাড়া পাওয়ার জন্য একটু গা মোড়ামুড়ি করছিল‚ কিন্তু যে লোকটা মাকে ধরে রেখেছিল‚ সে বেশ শক্তপোক্ত‚ তাই মা খুব একটা নড়াচড়া করতে পারছিলনা। সামনের লোকটা দরজাটা এবার পুরো খুলে ধরল‚ বাইরে একটা ছাউনি লাগানো ৪০৭ গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে ‚ তবে গাড়িটা ঠিক আমাদের বাড়ির গেটের সামনে না‚ বাড়ির একদম গা ঘেঁষে একটা খুউব সরু গলি আছে‚ সেই গলিটার সামনে দাঁড়ানো। জন একটু খেঁকিয়ে বলল‚" গাড়িটা গেটের সামনে আনতে বল বোকাচোদাকে‚ এই দুটোকে এতখানি হাঁটিয়ে নিয়ে যেতে গেলে কেউ দেখে ফেললে ঝামেলা হয়ে যাবে"। ওর এক শাগরেদ বলে উঠল‚ " কিছু হবেনা বস্‚ আমরা গার্ড দিয়ে নিয়ে যাব‚ তুমি চাপ নিওনা"‚ এইবলে ওরা আমাদের দুপাশে দাঁড়িয়ে গেল। জন গাঁইগুঁই করতে করতে বেড়িয়ে এল দরজা দিয়ে। গাড়ি টা প্রায় ১০-১২ ফিট দুরে দাঁড়িয়ে ‚ আমি খুব ধীরে ধীরে হাঁটতে লাগলাম‚ একটু যদি সময় পাওয়া যায়।