আমার মা রানী চন্দ্রাবতী - অধ্যায় ২

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-73543-post-6198861.html#pid6198861

🕰️ Posted on Fri May 01 2026 by ✍️ Mr. X2002 (Profile)

🏷️ Tags:
📖 482 words / 2 min read

Parent
পর্ব ২ আজ সকালে রাজসভায় জরুরি মন্ত্রণা বসেছে। চারদিকে ফিসফাস, কোম্পানির গোরা সৈন্য নাকি কাঁসাই পেরিয়ে মেদিনীপুর আক্রমণ করবে। বাবার মুখ থমথমে। শুনলাম, আজকের সভায় আমাত্য আর সেনাপতিদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা চরমে উঠেছিল। বিকেলে রাজোদ্যানে আমরা তিনজন হাঁটছিলাম। বাবা, মা আর আমি। মায়ের কোলে ঘুমিয়ে আছে আমার ছোট বোন লক্ষীবতী। অশোক গাছের ছায়া দীর্ঘ হয়ে ঘাসের উপর পড়েছে। হঠাৎ বাবা থমকে দাঁড়ালেন। গম্ভীর স্বরে বললেন, “আমি আজই সৈন্যদল নিয়ে কোলাঘাট রওনা হব। সেখানে ইংরেজের সঙ্গে হয় সম্মুখ যুদ্ধ, নয়তো সন্ধি। সন্ধি টায় ইংরেজদের আমাদের জন্মভূমি আমাদের নিজেদের দিতেই হবে। তৃতীয় কোনো পথ নেই।” মা চমকে বাবার দিকে তাকালেন। তাঁর গলার স্বর আজ অন্যরকম শোনাল। মৃদু অথচ দৃঢ়। বললেন, “মহারাজ, আপনি নিজে না গিয়ে কোনো বিশ্বস্ত সেনাপতিকে পাঠালে হত না? আমার মন বড় অস্থির লাগছে।” বাবা ভ্রু কুঁচকে তাকালেন। তাঁর কণ্ঠে বিস্ময় আর ঈষৎ তিরস্কার। “তুমি ভয় পাচ্ছ, চন্দ্রাবতী? তুমি নিজে যে রণচণ্ডী। তোমার খড়্গের ঝলক দেখে বর্গি সেনাও পিছু হটে। আজ তোমার কণ্ঠে এই দীনতা কেন?” আমি হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। আমার মা, রানী চন্দ্রাবতী, যিনি এতদিন বাবার বর্ম নিজের হাতে পরিয়ে দিয়ে রণাঙ্গনে পাঠিয়েছেন, যিনি যুদ্ধযাত্রার আগে বাবার ললাটে বিজয়তিলক এঁকে দেন — তিনি আজ বাবাকে নিষেধ করছেন? বাগানের বাতাস হঠাৎ ভারী ঠেকল। মনে হলো, অশোকের ছায়ার সঙ্গে কোনো অদৃশ্য অমঙ্গলের ছায়াও আমাদের ঘিরে ধরছে। এবার তবে কী হতে চলেছে? মা কীসের আভাস পেয়েছেন, যা আমরা জানি না? রাত নামতেই রাজা দেবনারায়ণ রায় রণযাত্রা করলেন। আট হাজার সৈন্যের বাহিনী। তার মধ্যে পাঁচ হাজার আমাদের নিজস্ব পাইক-বরকন্দাজ। বাকি তিন হাজার পাশের সামন্ত রাজ্য থেকে চড়া সুদে আনা ভাড়াটে সৈন্য। দুর্দিনে তারাই ভরসা। এক হাজার তেজী ঘোড়া চিঁহি ডেকে উঠল। পঞ্চান্নটা কামান গরুর গাড়িতে বাঁধা। লোহার চাকার শব্দে মেদিনীপুরের মাটি কেঁপে উঠছে। প্রত্যেক সৈন্যের হাতে জ্বলন্ত মশাল। মনে হচ্ছে, অন্ধকার রাতের বুক চিরে একটা আগুনের নদী কোলাঘাট দুর্গের দিকে বয়ে চলেছে। হলদিয়ার এই রাজমহল থেকে কোলাঘাট বহু দূরের পথ। যাত্রার আগে বাবা আমার কাঁধে হাত রাখলেন। তাঁর চোখ আমার চোখে স্থির। গম্ভীর স্বরে বললেন, “শোনো, রাজপুত্র। তোমার মা, বোন আর এই রাজ্যকে রক্ষা করার ভার আজ থেকে তোমার। আমি যদি ফিরে না আসি, তবে প্রজার ভার, সিংহাসনের ভার, সমস্তই তোমার।” আমি নির্বাক হয়ে রইলাম। গলা শুকিয়ে কাঠ। মনে শুধু একটাই প্রশ্ন ঘুরছে — বাবা কেন ফিরবেন না? রাজা কি কখনও হার মানেন? তারপর বাবা মায়ের কোলে ঘুমিয়ে থাকা লক্ষীবতীর দিকে ঝুঁকলেন। তার ছোট্ট কপালে স্নেহের চুম্বন এঁকে দিয়ে ফিসফিস করে বললেন, “তুমি একদিন তোমার মায়ের মতো যোদ্ধা হবে। সতী হবে। তুমিই আমার রাজ্যের চাঁদ, লক্ষ্মী।” কথা শেষ করে তিনি বোনকে আবার মায়ের কোলে তুলে দিলেন। এরপর মায়ের চোখে চোখ রাখলেন। দীর্ঘ এক মুহূর্ত। কোনো কথা হলো না। যা বলার, দুজনের চোখই সেদিন বলে দিল। বাবা ঘোড়ায় উঠলেন। লাগাম টানতেই ঘোড়া সামনের দু’পা শূন্যে তুলল। মশালের আলোয় বাবার বর্ম ঝলসে উঠল একবার। তারপর তিনি অন্ধকারে মিলিয়ে গেলেন। মা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। চোখের পাতা নড়ছে না। শুধু চোখের কোল বেয়ে নিঃশব্দে জল গড়িয়ে পড়ছে। আমি জীবনে মাকে এভাবে কাঁদতে দেখিনি। রণচণ্ডী রানী চন্দ্রাবতীর চোখে জল — এর চেয়ে বড় অমঙ্গলের সংকেত আর কী হতে পারে?
Parent