ছায়ার আড়ালে আগুন-Erotic Thriller [Part-4: অন্তিম যুদ্ধ] - অধ্যায় ৭৮
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৪: অন্তিম যুদ্ধ)
অষ্টসপ্ততিতম পরিচ্ছেদ: সূর্য ও রোশনীর ভয়ংকর প্ল্যানিং
সূর্য মন্ডলের ফ্ল্যাটের বারান্দায় দুজনে পাশাপাশি দাঁড়িয়েছিল। সন্ধ্যার আলো মিলিয়ে আসছে। নিচের রাস্তায় গাড়ির আলো জ্বলছে। রোশনী হাতের রেলিংয়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে। সূর্য তার পাশে।
কিছুক্ষণ কেউ কথা বলল না। তারপর সূর্য আস্তে করে বলল,
“আমি আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে পারব না।”
রোশনী তার দিকে তাকাল।
সূর্য চোখ সোজা রেখে বলল, “মায়ের মৃত্যু, রুবিনা ম্যামের মৃত্যু— দুটোই আমার বুকে বাজছে। ওরা যত দিন মুখ তুলে থাকবে, তত দিন আমার অশান্তি কমবে না। আমি খুব দ্রুত বদলা নেব।”
রোশনী চুপ করে শুনছিল। সূর্যের গলায় রাগ ছিল, কিন্তু সেই রাগ এখন আর শুধু কথায় সীমাবদ্ধ নয়। তার চোখে একটা স্থির সিদ্ধান্ত।
“আমি জানি তাড়াহুড়ো করলে ভুল হতে পারে,” সূর্য আবার বলল। “কিন্তু আমি আর বসে থাকতে পারছি না। ওরা যেন বুঝতে পারে— কেউ চলে গেলেও হিসেব বাকি থাকে না। আমি শীঘ্রই পদক্ষেপ নেব।”
রোশনী একটু থেমে বলল, “তুমি একা কিছু করো না। আমাকেও সঙ্গে রাখো। মায়ের জন্য আমিও চাই ওরা যেন শাস্তি পায়।”
সূর্য হঠাৎ রোশনীকে বলে, "রোশনী, আমি তোমাকে একটা জিনিস দেখাতে চাই।"
"কি?" রোশনী জিজ্ঞেস করে।
সূর্য তার ব্যাগ থেকে দুটি ছোট্ট ধাতব টিউব বের করে। কড়ে আঙুলের থেকেও ছোট্ট টিউবটা। মাথায় লাল রঙের একটি সিল করা ক্যাপ, গায়ে কোনো লেখা নেই, শুধু ধাতব চকচকে পৃষ্ঠ।
রোশনী অবাক হয়ে প্রশ্ন করে, "এটা কি?"
সূর্য টিউব দুটো হাতের তালুতে রেখে বলে, "এটা মিতালি সেন ও অংশুমান সেনের মৃত্যু পরোয়ানা। এই ছোট্ট টিউবটার ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস রয়েছে।"
"কিন্তু এটা কী করে খুলবে? এত ছোট ক্যাপ—"
সূর্য টিউবটির লাল ক্যাপের নিচের দিকে ইশারা করে। "দেখো, ক্যাপের মুখে খুব সূক্ষ্ম একটি রিং বসানো আছে। এই রিংটা খুলে দিলে এই টিউবটা অ্যাকটিভ হয়ে যায়। এই রিংটার নিচে টিউবের ভেতরে একটি কেমিক্যাল টাইমার লাগানো আছে। কেমিক্যালে ক্ষয় পেয়ে তিন ঘন্টার মধ্যেই ভেতরে থাকা একটি ধাতব আস্তরন গলে গিয়ে টিউবের ভালভ খুলে যায়। তখন এই ভয়ংকর গ্যাস বাইরে বেরিয়ে আসে। আর মানে—যদি এই টিউবের কেমিক্যাল টাইমার চালু করে টিউবটিকে কোনো বাক্সের ভেতর রেখে ওদের গোডাউনে পাঠানো যায়, আর বাক্সটা যখন ওখানকার ভেন্টিলেশনের কাছে পৌঁছায়, তখন টিউবের আপনা-আপনি খুলে যাবে। তেমন কিছু করতে হবে না। ভালভ টা সরলেই গ্যাস বেরিয়ে যাবে বাতাসে।"
রোশনী ফ্যালফ্যাল করে তাকায়। "ওদের গোডাউনে? কী করে পাঠাবে?"
সূর্য চোখ সরু করে বলে, "আগামীকাল রাতে ওদের ওখানে মালপত্র আনার কথা রয়েছে। আমি সেই সুযোগটা নেব। একটা সাধারণ কার্টনের ভেতর এই টিউবগুলো রেখে দেব। বাকি কাজ টিউবটা নিজেই করে দেবে।"
রোশনী গভীর শ্বাস নিল। "তুমি কি... নিশ্চিত? এই গ্যাস—"
"এই গ্যাস দিয়ে আমি আমার মা এবং রুবিনা ম্যামের মৃত্যুর বদলা নেবো," সূর্যের গলা কঠিন হয়। "
রোশনী আর কোনো প্রশ্ন করল না। পার্কের লাইট জ্বলে উঠল, কিন্তু সূর্যের চোখে তখন অন্য এক অন্ধকার। সে টিউব দুটো আবার ব্যাগে পুরে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল।
"চলো, ব্যবস্থা করতে হবে এখনই," সূর্য বলে এগিয়ে গেল।
রোশনী পেছন থেকে সূর্যের দিকে তাকিয়ে রইল। ছোট্ট সেই দুটি ধাতব টিউব—যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হয়তো দুটি প্রাণ কেড়ে নেবে—ভেবেই তার গলা শুকিয়ে এলো।