মরীচিকা ও মোহময়ী - অধ্যায় ২৬

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-72560-post-6188404.html#pid6188404

🕰️ Posted on Sat Apr 18 2026 by ✍️ RockyKabir (Profile)

🏷️ Tags:
📖 523 words / 2 min read

Parent
সন্ধ্যা ছটা, বালিগঞ্জ, দক্ষিণ কলকাতা ব্যস্ত ট্র্যাফিক আর রাস্তার কোলাহল পেছনে ফেলে অয়ন দক্ষিণ কলকাতার নিরিবিলি একটা পাড়ায় এসে দাঁড়াল। এখানকার রাস্তাটা বেশ সরু, রাস্তার দুপাশে বিশাল বিশাল গাছ। রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে অয়ন বেশ কিছু বাড়ির জানালায় কাঠের খড়খড়ি লক্ষ্য করল। যার মানে এই বাড়িগুলোর বয়স অনেক। তার মানে পাড়াটাও বেশ পুরোনো। কয়েকটা বাড়ির সামনে নামী ব্র্যান্ডের গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। এই এলাকায় নিঃসন্দেহে স্বচ্ছল লোকজনের বাস। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের ম্লান আলোয় নিস্তব্ধ গোটা এলাকাটা কেমন যেন রহস্যময় ঠেকছে।  এই রাস্তাতে অবস্থিত একটা গলির ভেতরে, একটা ছিমছাম পুরোনো দিনের দোতলা বাড়ির সামনে এসে ও থমকে দাঁড়াল। বাড়িটা আকারে বেশ বড় বলা যায়। গেটের গায়ে একটা পিতলের নেমপ্লেটে লেখা, 'প্রধান মার্শাল আর্টস অ্যাকাডেমি'। সময়ের প্রলেপে পিতলটা কিছুটা মলিন হয়ে এসেছে। কিন্তু, অক্ষরের বাঁধুনিগুলো এখনও বলিষ্ঠ। অয়ন হাতের ধাক্কায় ভারী লোহার গেটটা খুলতেই এক অদ্ভুত কর্কশ শব্দে নিস্তব্ধতা ভেঙে গেল। গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই একটা ছিমছাম চাতালে ওর চোখ পড়ল। সেখানে সারিবদ্ধভাবে রাখা কয়েকটা টবে জুঁই আর রজনীগন্ধার ঝাড়। কিন্তু কোনো শৌখিন বাগান নয়, পুরো লে-আউটটা অত্যন্ত পরিপাটি। সামনেই একটা প্রশস্ত বারান্দা, যার লাল সিমেন্টের মেঝেটা বৈদ্যুতিক আলোয় চকচক করছে। চারপাশটা বড় নিস্তব্ধ, যেন একটা পিন পড়লেও আওয়াজ হবে। বারান্দার শেষে একজোড়া বিশাল কাঠের পাল্লার দরজা। অয়ন সেদিকে এগোতেই ওর নাকে একটা তীব্র অথচ স্নিগ্ধ গন্ধ ভেসে এল। এটা ঠিক ধূপের গন্ধ কিনা সেটা ও বুঝতে পারল না। তবে, চন্দনের গন্ধটা ও চিনতে পারল। দরজার পাল্লা দুটো ভেজানো ছিল। অয়ন সেটায় আলতো ধাক্কা দিতেই ওর চোখের সামনে একটা বিশাল হলঘর উন্মোচিত হলো। পুরো ঘরটা কাঠের মেঝে দিয়ে তৈরি। পা পড়লেই একটা প্রতিধ্বনি উঠছে। হলঘরের দেওয়ালে কোনো ছবি নেই, শুধু একদিকে একটা বিশাল আয়না আর অন্যদিকে জাপানি ক্যালিগ্রাফিতে লেখা কিছু অজানা প্রতীক। একপাশে কিছু কাঠের ডামি সাজানো রয়েছে আর তার সঙ্গে দেওয়ালে ঝোলানো কিছু বাঁশের লাঠি আর কাঠের তলোয়ার। ঘরের কোণে একটা ছোট বেদিতে প্রদীপ জ্বলছে, যার মৃদু শিখায় পুরো ঘরটা আলো-আঁধারির এক মায়াবী রূপ নিয়েছে। অয়নের মনে হল ও কোন আধ্যাত্মিক আশ্রমে ঢুকে পড়েছে। হলঘরের একদিকে কাঠের মেঝেতে কয়েকজন ছাত্র সাদা ড্রেস পরে প্র্যাকটিস করছে। কিন্তু, আশ্চর্যের বিষয় ওই কাঠের মেঝে থেকে কোনরকম আওয়াজ আসছে না। বাতাসে শুধু শ্বাস-প্রশ্বাস আর পায়ের মৃদু ঘর্ষণের শব্দ। হলঘরের ঠিক মাঝখানে, ম্যাটের ওপর চোখ বন্ধ করে পদ্মাসনে বসে আছেন একজন মানুষ। তাঁর পিঠটা দেওয়ালের মতো সোজা। না চিনলেও এনার পরিচয় অনুমান করে নিতে অয়নের অসুবিধা হল না, ইনিই মিঃ প্রধান। বয়স পঞ্চাশের কোঠায়, কিন্তু মেদহীন শরীরটা যেন ছেনি দিয়ে কাটা নিরেট পাথর দিয়ে তৈরি। চোখমুখ অদ্ভুতভাবে শান্ত, কিন্তু সেই নিথর শান্ত ভাবের আড়ালে এক প্রচণ্ড গতি আর শক্তির আভাস রয়েছে। ঠিক যেন ঝাঁপ দেওয়ার আগে থমকে থাকা কোনো চিতা। দেখে মনে হচ্ছে তিনি স্থির হয়ে বসে থাকলেও তাঁর অস্তিত্বের প্রতিটি কোষ প্রচণ্ডভাবে সজাগ আর জীবন্ত। অয়ন নিঃশব্দে এগিয়ে গিয়ে ম্যাটের বাইরে জুতো খুলে দাঁড়াল। "আমি অয়ন চ্যাটার্জী...আমাকে কোচ সেনগুপ্ত পাঠিয়েছেন", অয়ন নিজের ভেতরের অস্বস্তিটা চেপে রেখে যতটা সম্ভব নিস্পৃহ গলায় নিজের পরিচয় দিল। মিঃ প্রধান ধীরে ধীরে চোখ খুলে ওর দিকে তাকালেন। তার চোখের দৃষ্টি এতটাই তীক্ষ্ণ, যে অয়নের মনে হলো, ওই দৃষ্টি তার শরীরের চামড়া-হাড় সব ভেদ করে সোজা তার মনের ভেতরের সব দেখে ফেলল। অয়নের শিরদাঁড়া দিয়ে একটা শিরশিরে অনুভূতি বয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে ওর অস্বস্তিটাও বহুগুণ বেড়ে গেল। মিঃ প্রধান একটা গভীর শ্বাস ছাড়লেন। তারপর হলঘর কাঁপানো ভরাট গলায় বললেন, "ভেতরে এসো।" অয়ন ম্যাটের ওপর পা রাখল।
Parent