মরীচিকা ও মোহময়ী - অধ্যায় ৩৭
১. অ্যাডমিন গল্পটাকে অজাচার ক্যাটাগরিতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। আমি ফিরিয়ে আনতে অনুরোধ করি। তখন জঁর পাল্টায়। গল্পটা এখনো অয়নxবিদিশাই আছে।
এই গল্পটা তো শুধু অজাচার গল্প নয়, মাল্টি-জঁর স্টোরি। রহস্য, থ্রিলার, প্রেম, অ্যাকশন, ইরোটিকা সবই আছে। ওখানে সেক্স না দেখতে পেয়ে রেজিস্টারড ইউজাররা আর কেউ পড়ত না। তখন আমিও গল্পটা লেখা বন্ধ করে দিতাম।
২. বিদিশা আর অয়ন দুটো আলাদা জগতে বাস করছে। বিদিশা চাইছে নিজের একটা পরিচয় তৈরি করতে যেটা তার নিজস্ব হবে। স্বামী আর ছেলের কোন যোগ থাকবে না। এটা তার মনে হবার জন্য অয়ন কিছুটা দায়ী। মা ঘরে এলে সে ঘর থেকে বেরিয়ে যেত। কলেজে আসার পরে মায়ের সাথে ভাল করে কথা বলেনি। এই একাকীত্ব বিদিশাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
বিদিশা অয়নকে ভালবাসে ঠিকই কিন্তু লাভারের চোখে দেখে না। বিদিশার কোন আইডিয়াই নেই অয়ন তাকে ফেস্টের রাতের আগে অবধি কী চোখে দেখতো। সে জানতে পারলে থাপ্পড়ের চেয়েও বেশি কিছু করতো।
সে এখন নিজের লাইফ expand করতে চাইছে।
অয়নের কাছে ফেস্টের রাত হচ্ছে বিদিশার কাছে ইতালির রাতের মতো। ওটা অয়নের চরিত্র, দৃষ্টিভঙ্গী, জীবনবোধ সব পাল্টে দিয়েছে। এখন এই রাত তাকে হন্ট করতে থাকবে। বিদিশাকে ইতালির রাত হন্ট করে না তার কারণ সে ওই স্টেজটা পেরিয়ে এসেছে। এটা সেই চার বছর টাইম স্কিপের মধ্যে ঘটে গেছে।
অয়ন চাইলেও বিদিশাকে ভুলতে পারবে না তার কারণ নিজের ছোটবেলাকে কে ভুলতে পারে ? বিদিশা ওর ছোটবেলার সবচেয়ে বড় অংশ। তবে এখন বিদিশা সম্পর্কে তার মনের চিন্তা নেগেটিভ।
৩. বিদিশার বিক্রমের আসল মোটিভ সম্বন্ধে কোন আইডিয়া নেই। বিক্রম নিজেকে যতটা ভাল দেখায় আসলে সে ততটা নয় সেটা এখন বিদিশা বুঝতে পারছে। কিন্তু, সে এখনও পুরোটা জানে না।
সে এটাও মনে করে বিক্রমকে মেরে অয়ন ভুল করেছিল। বিদিশা একজন আদর্শবতী মহিলা। তাছাড়া এমনটা নয় যে বিদিশা অয়নকে বিশ্বাস করে না। সে আসলে অয়নের থেকে দূরে থাকতেই চায়। সে নিজের একটা জগত বানাতে চায়। ফেস্টের রাতের ঘটনাটা না ঘটলেও সে অয়নের থেকে দূরে দূরেই থাকতো।
আপনি যে গল্পটা খুঁটিয়ে পড়েছেন সেটা আপনার প্রশ্নের ধরন দেখেই বোঝা যায়। এরকম পাঠক পেলে সব লেখক আনন্দ পায়। উত্তর দিয়ে আমার খুব ভাল লাগল। ক্রিটিসাইজ করলে সমস্যা নেই, গল্প ভাল না লাগলেও সমস্যা নেই। শুধু প্লট চেঞ্জ না করতে বললেই হল।