মরীচিকা ও মোহময়ী - অধ্যায় ৫৪

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-72560-post-6269462.html#pid6269462

🕰️ Posted on Tue Jul 21 2026 by ✍️ RockyKabir (Profile)

🏷️ Tags:
📖 1448 words / 7 min read

Parent
৭ প্রিন্সিপাল সান্যালের অফিস ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল চারটে বেজে পনেরো মিনিট। মেন হেরিটেজ বিল্ডিংয়ের তিনতলার করিডোরের দু-পাশের উঁচু, গথিক খিলানের জানলাগুলো দিয়ে ডিসেম্বরের শেষ বিকালের ম্লান রোদ এসে সাদা-কালো ওল্ড-স্টাইল মার্বেলের মেঝের ওপর লম্বা লম্বা ছায়া তৈরি করেছে। চারপাশ নিস্তব্ধ, ক্লাস চলছে; শুধু দূর থেকে কোন একটা ক্লাসরুমের ব্ল্যাকবোর্ডে চকের খশখশ শব্দ আর মাঝেসাঝে কোনো অধ্যাপকের গম্ভীর গলার আওয়াজ ভেসে আসছে। সেই করিডোর ধরে কিছুটা এগোলেই চোখে পড়ে একটা ভারী, সেগুন কাঠের পেল্লাই দরজা। দরজার ওপর পিতলের নেমপ্লেটে খোদাই করা রয়েছে—‘OFFICE OF THE PRINCIPAL’। ঘরের মাঝখানে বিশালাকায় একটা সেগুন কাঠের এক্সিকিউটিভ ডেস্ক। তার ওপর কাচের টপ, তার উপরে সিলিংয়ের মৃদু আলো প্রতিফলিত হচ্ছে। টেবিলের ওপর সাজানো একটি আধুনিক স্লিক ল্যাপটপ, যার স্ক্রিনটা এই মুহূর্তে স্লিপ মোডে রয়েছে, গথিক শৈলীর একটি ভারী ব্রোঞ্জের পেন-স্ট্যান্ড আর প্রিন্সিপালের সই পড়ার অপেক্ষায় থাকা ফাইলের স্তূপ। ডেস্কের ওপাশে নিজের উঁচু ব্যাকরেস্ট ওয়ালা মেরুন লেদারের রিভলভিং চেয়ারে বসে আছেন প্রিন্সিপাল সান্যাল। তাঁর পরনে নিখুঁত কাটের চারকোল-গ্রে রঙের টুইড ব্লেজার, ভেতরে ইস্ত্রি করা হালকা নীল রঙের ফর্মাল শার্ট এবং তার সাথে মানানসই একটি গাঢ় মেরুন রঙের সিল্কের টাই। চোখে একটি চৌকো রুপোলি ফ্রেমের রিডিং চশমা। ওনার মুখে স্বভাবজাত গাম্ভীর্য ও এক ধরনের ভাবলেশহীন অভিব্যক্তি থাকলেও, কপালে চিন্তার দু-একটি সূক্ষ্ম রেখা ফুটে উঠেছে। তাঁর ঠিক উল্টোদিকে, ডেস্কের সামনের লেদার-প্যাডেড কাঠের চেয়ারটায় মেরুদণ্ড একদম সোজা করে বসে আছেন ডক্টর বাগচী, হেড অফ দ্য ডিপার্টমেন্ট অফ ম্যাথমেটিক্স। তাঁর পরনে একটা নিখুঁত ইস্ত্রি করা অফ-হোয়াইট শার্ট এবং খয়েরি রঙের ব্লেজার। ওনার ফর্সা, চওড়া কপাল, ব্যাক-ব্রাশ করা কালো-রুপোলি চুল, অভিজাত মুখ থেকে এক ধরনের আভিজাত্য ফুটে বেরিয়ে আসছে। নাকের ওপর বসা সোনালি ফ্রেমের চশমাটার আড়ালে ওনার চোখের মণি দুটোতে এই মুহূর্তে এক অদ্ভুত শান্ত, নিস্পৃহ ভাব। তবে বসার ঋজু ভঙ্গিতে কোথাও কোন জড়তা বা সংকোচ নেই।  ডক্টর বাগচীর একহাতে একটা চায়ের কাপ, অন্য হাতের আঙুলগুলো ডেস্কের কাঠের ওপর হালকাভাবে একটা চেনা ছন্দে টোকা দিচ্ছে। বাইরে থেকে যদি এই মুহূর্তে কেউ ঘরের ভেতর উঁকি দেয়, তবে তার মনে হবে দুজন উচ্চপদস্থ প্রাতিষ্ঠানিক পদাধিকারীর মধ্যে রুটিন অ্যাকাডেমিক আলোচনা চলছে। ঘরের আবহ, আলোচনাকারীদের মুখাবয়ব, কলেজের ডেকোরাম আর প্রোটোকলের কোনো ত্রুটি নেই এখানে।  কিন্তু এই আপাত-শীতল পেশাদার খোলসের নিচে ঢাকা পড়ে আছে তিরিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা নিবিড় বন্ধুত্ব। বাইরে যতই প্রশাসনিক পদের দূরত্ব থাকুক না কেন, জীবনের বহু ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে, এখনও এই ঠাণ্ডা ঘরের বাহ্যিক গাম্ভীর্যের নিচে সেই বন্ধুত্ব সমান ভাবে জীবন্ত ও উষ্ণ থেকে গেছে। ছাত্রাবস্থা থেকে শুরু করে আজ প্রশাসনিক ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছনো পর্যন্ত, তারা একে অপরের জীবনের প্রতিটা উত্থান-পতনের নীরব সাক্ষী থেকেছেন। এই মুহুর্তে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে একজন প্রিন্সিপাল আর একজন বিভাগীয় প্রধান। এখানে উচ্চারিত প্রতিটা শব্দের গুরুত্ব আছে, প্রতিটা বাক্যের পেছনে প্রচ্ছন্ন বার্তা থাকে। কিন্তু... "চায়ের লিকারটা আর একটু কড়া হলে ভালো হতো, সিদ্ধার্থ ?" প্রিন্সিপাল সান্যাল চশমাটা নাক থেকে নামিয়ে টেবিলের ওপর রাখতে রাখতে নিচু গলায়, ঘরোয়া ভাবে জিজ্ঞেস করলেন। তার বাইরের খোলসটা এক মুহূর্তের জন্য একটু আলগা হলো। ডক্টর বাগচী চায়ের কাপে একটা ছোট চুমুক দিয়ে আলতো করে সেটা কাচের টপের ওপর রাখলেন। আঙুলের ছন্দবদ্ধ টোকা দেওয়াটা বন্ধ হলো।  চশমার সোনালি ফ্রেমটা নাকের ওপর একটু ঠেলে দিয়ে অনিরুদ্ধর চোখের দিকে তাকালেন। ওনার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে আলগা হাসি ফুটে উঠল। "না অনিরুদ্ধ, লিকার ঠিকই আছে। তবে চায়ের লিকার কড়া না হালকা, সেটা জিজ্ঞেস করার জন্য তুমি আমাকে এই সময়ে ডেকে পাঠাওনি। এবার আসল কথাটা বলো।" কথাগুলো বলার সময় ওনার মুখে কোনরকম চঞ্চলতা প্রকাশ পেল না, কন্ঠস্বরও একদম নিয়ন্ত্রিত। অনিরুদ্ধ সান্যাল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তার মুখের ভাবলেশহীন কাঠিন্যের ভাবটা যেন মুহূর্তের মধ্যে গলে গেল। তিনি চশমাটা খুলে টেবিলের ল্যাপটপটার পাশে রেখে দুই হাতের লক করা হাতের আঙুলগুলোর দিকে তাকিয়ে রইলেন কয়েক মুহূর্ত। ওনার চারকোল-গ্রে টুইড ব্লেজারের কাঁধদুটো সামান্য ঝুলে পড়েছে, যা ওনার মতো ব্যক্তিত্বের মানুষের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিরল। তারপর অত্যন্ত ধীর গতিতে মাথা তুললেন। "অজয়দা মারা গেছে, সিদ্ধার্থ।"  বলতে বলতে তার গলাটা এতটাই খাদে নামল যে সেটাকে ফিসফিসানি বললেও ভুল হয় না।  "আজ দুপুর আড়াইটের সময়। পার্ক সার্কাসের একটা নার্সিংহোমে। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। ডঃ বাগচীর ডান হাতটা চায়ের কাপের হাতল ছোঁয়ার জন্য এগোচ্ছিল, সেটা মাঝপথেই জমে গেল।  তার চোখের শান্ত, নিস্পৃহ ভাবটা এক লহমার মধ্যে চুরমার হয়ে গেল, যেন কোনো শান্ত হ্রদের বুকে আচমকা একটা ভারী পাথর এসে পড়েছে। "হোয়াট ! কী বলছ কী ?" তিনি অনুমান করেছিলেন অনিরুদ্ধ তাকে ডেকে জানাবে, ডিন অফ সায়েন্স পদের জন্য অন্য কারোর নাম বিবেচিত হচ্ছে। ডিমড ইউনিভার্সিটি হিসেবে অনুমোদন পাওয়ার আগেই কলেজের অ্যাকাডেমিক কাঠামো ঢেলে সাজানো হবে। সেজন্য কে কোন পদ পাবে তাই নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাকডোর লবিং শুরু হয়ে গিয়েছে। ডিন অফ সায়েন্স পদের দৌড়ে তিনি ভালভাবে থাকলেও তার বাদ পড়ার যে একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তার আঁচ তিনি ইতিমধ্যেই তিনি উঁচুমহলে তার সোর্সের কাছ থেকে পেয়ে গেছেন। তাই আজ তিনি মনে মনে তৈরি হয়ে এসেছিলেন।  কিন্তু, এখানে এসে অনিরুদ্ধের মুখে তাদের সিনিয়রের আকস্মিক মৃত্যুসংবাদ শুনতে হবে সেটা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। অজয় সামন্ত, এই শতবর্ষ প্রাচীন সেন্ট জেভিয়ার্স-সদৃশ হেরিটেজ কলেজের গভর্নিং বডির সেক্রেটারি এবং বর্তমানে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অন্যতম প্রধান নীতি-নির্ধারক।  সোনালি ফ্রেমের চশমাটা নাকের ওপর আর একবার ঠিক করে বসিয়ে ডঃ বাগচী পিঠটা চেয়ারের ব্যাকরেস্টে ঠেকালেন। "অফিসিয়াল অ্যানাউন্সমেন্ট কখন হচ্ছে ?" "যেকোন সময়।"  অনিরুদ্ধর ঠোঁট দুটো শুকিয়ে কাঠ।  "ফ্যামিলি চাইছে আজ সারা রাত বডি পিস হাভেনে রাখতে। আগামীকাল সকাল এগারোটায় কলেজে শেষ শ্রদ্ধার জন্য আনা হবে।" একটু থেমে তিনি আবার কথা শুরু করলেন, "সিদ্ধার্থ, অজয়দা অসুস্থ হয়ে পড়ার ঠিক আধ ঘণ্টা আগে একটা ফাইলে সই করেছিল।" "ফাইলে সই করেছিল? কিসের ফাইল?" সিদ্ধার্থর গলার স্বরটা নিস্তব্ধ ঘরে কিছুটা রুক্ষ শোনাল। "ডিমড ইউনিভার্সিটির নতুন চ্যান্সেলর নিয়োগ বিধি সংক্রান্ত। তাতে ডক্টর সিনহাকে চ্যান্সেলর নিয়োগ কমিটির প্রধানের পদ দেবার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।"  খসখসে গলায় উত্তর দিলেন অনিরুদ্ধ। কথাটা শুনে ডক্টর বাগচীর চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। "রাবিশ ! ন্যাকের রেজাল্ট এলে কেবল তবেই ইউনিভার্সিটি স্ট্যাটাসের জন্য ইউজিসিতে আবেদন করা যায়। সবকিছুর একটা প্রসেস আছে ! ন্যাকের টিম ভিজিটে আসার আগে ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর ঘোষণার জন্য কমিটি গঠন হয়ে গেল ?" চিৎকার না করলেও ডঃ বাগচীর গলার স্বর বেশ কঠিন।  গোটা প্রক্রিয়াটা প্রিন্সিপাল সান্যালের অজানা নয়। ইউজিসির অনুমোদন পেতে কম করে হলেও বছরখানেক তো সময় লাগবেই। হিসেব সত্যিই মিলছে না। তিনি চুপ করে রইলেন।  "তুমি কী ফাইলটা দেখেছ ?" সন্দিগ্ধ গলায় প্রশ্ন করলেন ডঃ বাগচী। "হ্যাঁ, অজয়দার পিএ তরুণ একটু আগে ছবি তুলে মেসেঞ্জারে পাঠিয়েছে।" বলতে বলতে পকেট থেকে ফোনটা বার করে ডঃ বাগচীর দিকে এগিয়ে দিলেন প্রিন্সিপাল সান্যাল।  ফোনটা হাতে নিয়ে ফাইলের ছবিগুলো খুঁটিয়ে দেখতে দেখতে ডঃ বাগচীর মুখ আবার নিস্পৃহ হয়ে গেল। "ওতে আগে থেকেই ট্রাস্টি বোর্ড আর গভর্নিং বডি দু জায়গারই গ্রিন সিগন্যাল ছিল। শুধু গভর্নিং বডির সেক্রেটারির ফাইনাল অ্যাপ্রুভাল দরকার ছিল। অজয়দা তাতে সই করার ঠিক আধ ঘণ্টা পর...", বলে যাচ্ছিলেন অনিরুদ্ধ সান্যাল।  "তার ঠিক আধ ঘণ্টা পর তার হার্ট অ্যাটাক হলো।" সিদ্ধার্থ কথাটা শেষ করলেন। "চমৎকার টাইমিং।" তার গলায় একটা শ্লেষের সুর। "আইন অনুযায়ী, এই মুহূর্তে গভর্নিং বডির সিনিয়র মোস্ট মেম্বার প্রমোদ সাহানি অন্তর্বর্তীকালীন সেক্রেটারি হবেন।" সতর্কভাবে কথাটা উচ্চারণ করলেন অনিরুদ্ধ।  কথাটা ডঃ বাগচীর কানে গেলেও মাথায় ঢুকল না। তিনি তখন গভীর চিন্তায় মগ্ন। কেন গভর্নিং বডিতে তার নিজের সোর্স এত গুরুত্বপূর্ণ খবরটা চেপে গেল, সেটা তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না। এই ঘর থেকে বেরোবার পরে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাকে একটা ফোন করতে হবে। "গভর্নিং বডির ভেতরে একটা অংশের সাহানিকে পছন্দ নয়। তারা অন্য কাউকে চাইছে।" অনিরুদ্ধ নিচু স্বরে বললেন।  বাগচীর চিন্তার জাল এতক্ষণে ছিঁড়ল।  "তরুণের বডি আগামীকাল সকাল এগারোটায় কলেজে আসবে। তুমি প্রিন্সিপাল, অনুষ্ঠানের প্রোটোকল তোমার হাতের মুঠোয়। সবাই শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় জমাবে।" ঘরের ভেতরের আবহাওয়াটা মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল। তিরিশ বছরের পুরোনো বন্ধুত্বের যে উষ্ণ আবহাওয়াটা এতক্ষণ বজায় ছিল, সেটা যেন কর্পূরের মতো উড়ে গেল।  "তুমি কী করতে চাইছ, সিদ্ধার্থ?" অনিরুদ্ধর চোখে সন্দেহের আভাস। সিদ্ধার্থ বাগচী পকেট থেকে একটা রুপোলি পেন বার করলেন। ওনার প্রিয় ফাউন্টেন পেন। সেটাকে আঙুলের ফাঁকে ঘোরাতে ঘোরাতে বললেন,   "অরিজিনাল ফাইলটা কোথায় আছে জানা দরকার। অজয়দার স্ত্রী সোমা আমাদের চেনে। ও রাজনীতির কিছু বোঝে না। আজ রাতেই আমাদের অজয়দার বাড়ি যেতে হবে। শোকপ্রকাশ করতে। "শোকপ্রকাশের আড়ালে ফাইল খোঁজা?" অনিরুদ্ধ শিউরে উঠলেন। "আমার ধারণা অজয়দার মৃত্যুটা স্বাভাবিক নয়। ফাইলটা বাড়িতে নাও থাকতে পারে। অরিজিনাল ফাইলটা কোথায় সেটা তুমি ওর পিএ-কে ফোন করে খোঁজ লাগাও।" নির্দেশ দিলেন ডঃ বাগচী। "কাজটা ঝুঁকির হয়ে যাবে সিদ্ধার্থ। তুমি বুঝতে পারছ না।"  অনিরুদ্ধ টেবিলের ওপর আরও কিছুটা ঝুঁকে এলেন। ওনার কপালে ঘামের সূক্ষ্ম বিন্দু।  "আমার ধারণা, অজয়দা এই সইটা নিজে ইচ্ছায় করেননি। ওনাকে করানো হয়েছে। আর যে বা যারা করিয়েছে, তারা এই মুহূর্তে এই তাদের পরবর্তী ঘুঁটিটা সাজাচ্ছে।" ডক্টর সিদ্ধার্থ বাগচী তাঁর হাতের রুপোলি ফাউন্টেন পেনটা টেবিলের ওপর নামিয়ে রাখলেন। ধাতব কলমটা কাচের ওপর রাখার সময় মৃদু শব্দ হল। ওনার চোখের পাতা একটিবারের জন্যও পড়ল না।  "নো ডাউট অনিরুদ্ধ, যারা ঘুঁটি সাজাচ্ছে তারা আমাদের চেয়ে এগিয়ে আছে।কিন্তু তারা একটা ভুল করেছে। তারা ভাবেনি যে অজয়দা মরার ঠিক আধ ঘণ্টা আগে ফাইলটার ছবি কাউকে পাঠাতে পারবে। বা বলা ভালো, তরুণ পাঠাতে পারবে।"  অনিরুদ্ধ সান্যাল তাঁর দু-হাতের লক করা আঙুলগুলো আলগা করলেন।  "তুমি বুঝতে পারছ না সিদ্ধার্থ। তরুণকে আমি যবে থেকে চিনি, ও একটা ভিতুর ডিম। ও আজীবন অজয়দার ছায়ায় থেকে অভ্যস্ত।  অজয়দা আইসিইউ-তে ঢোকার পর, তখন তরুণের মতো একটা ছেলে রিস্ক নিয়ে ফাইলের ছবি আমাকে পাঠাবে কেন? ওর কি নিজের ক্যারিয়ারের ভয় নেই? নাকি..."  অনিরুদ্ধ একটু থামলেন, তাঁর গলার নলিটা একবার ওপরে উঠে নেমে গেল,  "...নাকি ও অন্য কারোর নির্দেশে এই ছবিটা আমার ফোনে পাঠিয়েছে? আমাদের টেনে আনার জন্য?"
Parent